আজও ধরা পড়েনি ১৭ আগস্ট বোমা হামলাকারী বহু জঙ্গি

Saturday, August 17th, 2019

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা মামলার বিচারকাজ শেষ হয়নি ১৪ বছরেও। এখনো বিচারাধীন আছে ৫৫টি মামলা। আর সাজাপ্রাপ্ত ৭৪ জঙ্গি পলাতক রয়েছে। এ ছাড়া বহু জঙ্গি ধরা পড়েনি। লন্ডনপ্রবাসী আবদুর রহমান ও সাজ্জাদ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।

আজকের এই দিনে অর্থাৎ ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ ছাড়া দেশের ৬৩ জেলার ৪৩৪ স্থানে একযোগে বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিরা। জঙ্গিদের বোমা হামলার প্রধান টার্গেট ছিল আদালত এলাকা। পূর্বপরিকল্পিত এ হামলার ঘটনায় সারা দেশে দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত ও দুজন নিহত হয়েছিল।

১৭ আগস্ট দেশব্যাপী বোমা হামলার পেছনে যাদের মূখ্য ভূমিকা ছিল তাদের মধ্যে লন্ডনপ্রবাসী আবদুর রহমান ও সাজ্জাদ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের সম্পর্কে এখনো তেমন কোনো তথ্যই নেই গোয়েন্দাদের কাছে। এ ছাড়া ওই হামলার নেপথ্যে থাকা মির্জাপুরের আকরাম, মুক্তাগাছার শরিফ, খুলনা অঞ্চলের আসাদুজ্জামান হাজারি, সাতক্ষীরার নইম, দেলদুয়ারের আলী, ভারতের মুর্শিদাবাদের বেলাল, মোহতাসিম, সালাউদ্দিন, রানীশংকৈলের নসরুল্লাহ, জামালপুরের সুমন, নাহিদ, কিবরিয়ার নাম স্বীকারোক্তিতে উঠে এলেও পর্যাপ্ত তদন্ত হয়নি। এ ছাড়া রাজনৈতিক নেতা, যাঁদের নাম বাংলা ভাইকে সহযোগিতা করা বা জেএমবির মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারা দেশে ১৬১টি মামলা হয়। এসব মামলায় আসামি করা হয় এক হাজার ১৫৭ জনকে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯৬৭ জন। দায়ের করা মামলার মধ্যে এক যুগে ১০৬টি মামলার রায় হয়েছে। সাজা হয়েছে ৩০৭ জনের। এর মধ্যে ২৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। ঢাকার ৩৩টি স্থানে বোমা হামলার ঘটনায় মামলা হয় ১৮টি।

পুলিশ ও র‌্যাবের সূত্র মতে, ১৭ আগস্টের মূল পরিকল্পনাকারী জেএমবি ও জেএমজেবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল ও ইফতেকার হাসান মামুনের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার পর সংগঠনের দায়িত্ব নেন মাওলানা সাইদুর রহমান। সাইদুর গ্রেপ্তার হওয়ার পর সংগঠনের হাল ধরেন মাওলানা সায়েম। এই সায়েমই দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থেকে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে তথ্য রয়েছে।