কি মানুষ মারার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে ছাত্রলীগকে?

Monday, October 7th, 2019

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক :: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিকেল ৫টায় রাবির প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বুদ্ধিজীবী চত্বরে এক সমাবেশে মিলিত হয় তারা।

সমাবেশে ‘স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশন’র আহ্বায়ক কে এ এম সাকিব বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যেকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। আবরার ফেসবুকে তার মতটিই দিয়েছিল। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতারা তাকে হত্যা করলো। তাদের কি মানুষ মারার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে?’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আবরারকে হত্যা করা হয়নি, হত্যা করা হয়েছে জাতির বিবেককে। উপাচার্যের উচিত ছিল ক্যাম্পাসে এসে হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করা। কিন্তু তিনি তা করেননি। হল প্রাধ্যক্ষের উচিত ছিল সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণ রাখা। কিন্তু সিসিটিভির ফুটেজ গায়েব হয়ে গেল।’

সমাবেশে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী গোলাম মোর্শেদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ হোসেন, আব্দুল্লাহ শুভ প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের ‘আমার ভাইকে হত্যা কেন, প্রশাসন জবাই চাই’; ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’; ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’; ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’; ‘শিক্ষা সন্ত্রাস এক সঙ্গে চলে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

ওই সমাবেশ থেকে আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এসব প্ল্যাকার্ডে- ‘২০১১ নম্বর রুমে বাংলাদেশের মৃত্যু’; ‘যাকেই মারো না কেন, মনে রেখো মানুষই মারছ’; ‘আজকে বুয়েট কালকে রুয়েট, আর কত?’ ইত্যাদি লেখা ছিল।

এর আগে দুপুর ২টায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে রাবি শাখা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। প্রায় আধাঘণ্টা মহাসড়কে তাদের অবস্থানের কারণে দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের বাধায় ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে ফিরে যায়।