চলছে হিজলার মেঘনায় অভায়াস্ত্রম॥ইলিশ রাজ্যে ওরা কারা ?

Wednesday, March 18th, 2020

সাইফুল ইসলাম,হিজলা:: দুই মাসের অভায়াস্ত্রম ঘোষনা করা হয়েছে হিজলার মেঘনা নদীতে। এখন চলছে ঘোষনার অভায়াস্ত্রমের ১৬ তম দিন। অভায়াস্ত্রমের কার্যক্রম থাকলেও বাস্তবে মেঘনায় তা লক্ষণীয় নয়। এখানে এখন ইলিশ শিকারের ধুম পড়েছে। মনে হচ্ছে ইলিশ উৎসব। মাছঘাট খোলা, বরফকল চলছে, চলছে জেলেদের মাছ শিকারের কার্যক্রম। মাছ শিকারীর মাছে এখন পরিপূর্ন ঘাটগুলো।

হিজলা উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন জনপদ হিজলা গৌরব্দী ইউনিয়ন, ধুলখোলা এবং হরিনাথপুর এলাকা। এ ইউনিয়নে রয়েছে বিশাল মেঘনা। হিজলার মানচিত্রে পুরো জায়গা দখল করে আছে নদী। মাঝে মাঝে ছোট ছোট চর। এখানে গাড়ে উঠছে মাছ ঘাট। প্রত্যেকটি মাছঘাট এখন সচল। কর্মব্যস্ত জেলে, ঘাট- ঘাটসরকারসহ সকলে।
বিশাল মেঘনায় এরা কারা ? মাছঘাটের সরকার তাহের, জসিম, কবির, ইসমাইল, বসির, সেলিম, ইউসুফ- প্রত্যেকে বসে আছেন মাছ ঘাটে। এর বাহিরে রয়েছে খলিল মাঝি, সুফিয়ান মাঝি, ইদ্রিস দেওয়ান গংরা। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে চলছে মাছ কেনা-বেচা। জোয়ারের পানি বাড়ছে- বাড়ছে মাছের সংখ্যা।

জেলেদের জালে যেমন ধরা পড়ছে ইলিশ-তেমনি ঘাটেও জমছে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ। ঘাটে জেলে মাছ নিয়ে আসছে-বিক্রি করে চলে হচ্ছে। ভালই চলছে মাছ বেচা-কেনা। তবে এ মাছ বরিশাল বা হিজলা কিংবা ঢাকার কোন মোকামে যাচ্ছে না। চলে যা”েছ ঠান্ডা বাজারে। স্থানটি হিজলা উপজেলা থেকে দুরে থাকায় নিবিগ্নে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে মাছ ঘাটের মালিকদের মাধ্যমে।

স্থানীয় একাধিক মাছঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন- এ ব্যবসা শুধু তাদের নয়। এখানে এক শ্রেনীর জেলে দালাল রয়েছে। তারা মাছ ঘাটের আড়ালে বসে মাছ আহরণ করছে এবং বিক্রিও করছে। আমাদের ব্যবসায়ের জন্য একটি স্থান রয়েছে-তাই প্রশাসন আমাদের চিনে। বাস্তবিক পক্ষে ওরা আড়ালে ব্যবসা করের যাচ্ছে নিবিগ্নে।
জিয়াউদ্দিন, ইদ্রিস দেওয়ান, খলিল সরদার, সুফিয়ান, রফিক এরা কারা ? অভায়াশ্রম বা সরকারের কোন অভিযান থাকলেই এদের পোয়া বারো। নদী তখন থাকে তাদের দখলে।

এদেরর রয়েছে একটি বিশাল বাহিনী। এরা নিয়ন্ত্রন করেন বড় বড় জেলেদের। প্রত্যেক জেল নৌকা থেকে দৈনিক চাদা তুলেন এক থেকে দের হাজার টাকা। এ টাকা চলে যাচ্ছে ঐ বাহিনীর হাতে। সেখান থেকে ভাগ হচ্ছে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে। সুবিধা এই তারা অভিযানের সময় জেলেদের পক্ষ হয়ে কাজ করেন। কোন জেলে প্রশাসনের হাতে ধরা খেলে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নিতে বা আইনী সহায়তা দিতে ব্যায়িত হয় এ টাকা। আবার কোষ্টগার্ড, নৌ পুলিশ, মৎস্য দপ্তরকে মাসহারা দিতে হয় বলে কিছু কিছু জেলেদের অভিযোগ। জেলে ইয়াছিন মাতুব্বর, সুজন, দেলোয়ার বেপারী, সাজু, চান্দু- চান মিয়া সহ একাধিক জেল জানান-ইদ্রিস দেওয়ান এবং জিয়া উদ্দিন মিলে ক্রস জেলের একটি সংগঠন দাড় করিয়েছেন।

এদের মাধ্যমে মাছ শিকার হচ্ছে। এর একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে ৪০ হর্সের দুটি করে ইঞ্জিন রয়েছে। নৌকা বা ট্রলারগুলো লম্বায় ৪০ থেকে ৪৫ হাত। এর গতির সাথে তাল মিলাতে পারেনা কোষ্টগার্ড, নৌ পুলিশ। আবার কো কোন ক্ষেত্রে এরা প্রশাসনের সাথে হাত মিলিয়ে দেয় তাদের। এ বাবদ প্রতিদিন চাঁদা তুলতে হয়। এ টাকা তারা মিলে বন্টন করেন।
অভিযান বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্যকর্মকর্তা (অঃদাঃ) জানান তার লোকবল কম হওয়ায় অভিযান কিছুটা সমস্য হচ্ছে। নৌ পুলিশ ইনচার্জ বেলাল হোসেন জানান ইতোমধ্যে ব্যথতার সাথে সফলতাও দেখিয়েছেন।
দায় এড়াতে পারেনা প্রশাসন- জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন মাতুব্বর জানন- প্রশাসনের র্দুবলতার কারণে হিজলার অভায়াস্ত্রমে অবাধে মাছ শিকার হচ্ছে। এখানে সমিতিগুলোকে প্রশাসন স্বচল রাখলে এমনটা হাতো না। প্রশাসনের উচিৎ মুল মেঘনার অভায়াস্ত্রম রক্ষণাবেক্ষণ করা। সেখানে হচ্ছে বিপরীত। জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির হিজলা উপজেলা সভাপতি জাকির শিকদার জানান প্রশাসন একটু নড়ে চরে বসলে ভাল হতো। তাদের অভিযানে কোথাও ত্রুটি রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

বিগত বছরের অভিযানের সাথে তুলনা করলে তাদের এবারে তেমন কার্যক্রম নেই। একই অভিযোগ জাতীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী েেজল সমিতির সভাপতি এনায়েত হোসেন হাওলাদার, সম্পাদক আবুল বাশার বাঘার।
উপজেলা মৎস্য অফিস, নৌ পুলিশ ফাড়ি, কোষ্টগার্ড ফাড়ি সব গুলোই উপজেলা সদরে।

মুলতপক্ষে মেঘনা ফাকা। জেলেদের উৎসব তো চলবে ই। স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য হিজলা উপজেলা থেকে হিজলাগৌরব্দীর মেঘনার দুরত্ব প্রায় ২০ কিলো মিটার। অভিযান পরিচালনা করতে গেলে তাদের এ পথ অতিক্রম করে তার পরে জেলেদর আস্তানা। অন্ততঃপক্ষে অভিযান চলাকালীন উপজেলা প্রশাসন বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলাদা ভুমিকা রাখা প্রয়োজন।

যাতে হিজলাগৌরব্দীর অন্তরভাম এলাকায় ভাসমান কোষ্টগার্ডের পল্টুন বসানো হলে কিছুটা লাভ হতো।