ধর্মপাশায় অবৈধভাবে জলমহাল দখলের পায়তারা ও রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের সম্ভাবনা

Monday, December 21st, 2020

গিয়াস উদ্দিন রানা ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ):: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় উপজেলাধীন পাইকুরাটি ইউনিয়নের অন্তভূক্ত সুনই নদী (প্রকাশিত) মনাই নদী জলমহাটি সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সহ সভাপতি সাধন ভৌমিক ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক রাখাব উদ্দিন ও তার লোকজন অবৈধভাবে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার সুনই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি: এর সভাপতি সুবল চন্দ্র বর্মন এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযো দায়ের করলেও প্রতি পক্ষের প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে জলমহালটির তীরবর্তী খলাঘর তৈরী করে ওই ঘরে বহিরাগত ক্যাডারদের আনাগুনা অব্যহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উৎত্তেজনা বিরাজ করছে।
সুনই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি: এর সভাপতি সুবল চন্দ্র বর্মন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাখাব উদ্দিন ও সাধন ভৌমিক এর নির্দেশে গত বুধবার চন্দন বর্মনের নেতৃত্বে পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ ও বারহাট্রা উপজেলা থেকে সাধন ভৌমিক ও রাখাব উদ্দিনের পক্ষে বহিরাগত ক্যাডার বাহিনীর লোকজন দিয়ে জলমহালের তীরবর্তী খলাঘর তৈরী করে প্রতিদিনই ইজারাদার সুবল চন্দ্র বর্মনের লোকজনের উপর হামলা মামলার হুমকী অব্যহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনই (প্রকাশিত) সুনই নদী জলমহালটি জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনাধীন। এর আয়তন ২২১ একর ১৮ শতক। জলমহালটির ইজারা নিয়ে সুনই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি: এর সভাপতি সুবল চন্দ্র বর্মন সুনই মৎস্যজীবি সমিতির পক্ষ থেকে উ”চ আদালতের নির্দেশে সুনই মৎসৗজীবি সমবায় সমিতির লি; এর সভাপতি সুবল চন্দ্র বর্মন ১৪২৭ বাংলার ৩ জুন ২০২০ সালের ৩১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ইজারা মূল্য ইজারা মূল্য পরিশোধ করেন। ৪ ফেব্রুয়ারী জলমহালটির দখলনামা বুঝে নেন। সুনই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি: এর সভাপতি সুবল চন্দ্র বর্মন ও সমিতির সদস্যরা জলমহালে যান। পরে ওই জলমহালের দখলে থাকা চন্দন বর্মনের লোকজন নদীর পার থেকে সরে যেতে বলেন রাখাব উদ্দিন ও সাধন ভৌমিকের লোকজন। পরে তাদের বহিরাগত অর্ধশতাধিক ক্যাডার বাহিনী লাঠিসোটা ও দারালো অস্ত্র নিয়ে সুনই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতিসহ নিরিহ জেলেদের উপর হামলা চালিয়ে বেদখল বেদখল করার চেষ্টা করে।
সুনই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি: এর সভাপতি সুবল চন্দ্র বর্মন বলেন, হাইকোটের নির্দেশে সমিতির পক্ষ থেকে গত ৩ জুন ২০২০ সালে জলমহালটির ইজারা মূল্য ৩১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ওই সমিতির অনুখুলে পরিশোধ করে হাইকোটের নির্দেশনা থাকা অব¯’ায় রাখাব উদ্দিন ও সাধন ভৌমিক এর নেতৃত্বে একটি চক্র জলমহালটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ফলে নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ ও বারহাট্রা উপজেলা থেকে থেকে ক্যাডার বাহিনীর লোকজন এনে আমাদের নিরিহ লোকজনেরকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভতি ও হুমকী দেওয়া হ”ছ। আমরা প্রতিবারই ডিসি ও ইউএনও সারকে অবগত করেছি। কিš‘ প্রশাসন এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কোন প্রদক্ষেপ নেননি।
এব্যাপারে অভিযোক্ত সাধন ভৌমিক বলেন, ওই জলমহালটি আমরা ১৪২৭ বাংলা পর্যন্ত আমাদের লিজ এটা আমাদের জলমহাল। হুমকী ও ভয়ভিতি দেখানোর অভিযোগটি সঠিক নয় বলে দাবি করেন।
রাখাব উদ্দিন বলেন, আমারদের কোন ক্যাডার বাহিনী নেই। জলমহালের ইজারা মূল্য পরেশোধ করে মৎস্য আহরা করছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মুনতাসির হাসান তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা সমবায় অফিসার বসির আহমেদ বলেন, সুনই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি: এর সভাপতি সুবল চন্দ্র বর্মনের জলমহালটির বৈধ ইজারাদার। প্রতিপক্ষ্য অবৈধ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অনেক চেষ্টা করেও জেলা প্রশাসক মো: আব্দুল আহাদ এর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।