ধর্মপাশায় জলমহাল ইজারাদার হাওরের পানি আটকিয়ে মাছ ধরায় বোরো চাষাবাদ অনিশ্চিত

Friday, January 1st, 2021

গিয়াস উদ্দিন রানা : ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) ::সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় চলতি মৌসুমে জলমহাল ইজারাদার হাওরের পানি আটকিয়ে মাছ ধরায় বোরো জমিতে সময়মতো চাষাবাদ ও ফসলরক্ষা বেড়ীবাঁধ বা¯’বায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নামার জমিতে সময়মতো চাষাবাদ ও ধানের চারা রোপন করতে না পারলে বৃষ্টির পানিতে কাঁচা ও আধাপাঁকা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।
এলাকার কৃষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন হাওর গুওে দেখা যায়, ধানকুনিয়া হাওর, টগার হাওর, চন্দ্র সোনার থাল, সোনামড়ল, শয়তানখালী, ডুব্ইাল, পাশুয়া, গুড়াডোবাসহ সব কটি হাওরের একই দৃর্ষ। তীরবর্তী কৃষকরা জানান, জলমহাল ইজারাদার সরকার থেকে জলমহাল লিজ এনে তাদের ই”ছামাপিক হাওরের পানি আটকিয়ে মাছ ধরায় আমরা সময়মতো জমিতে চাষাবাদ ও ধানের চারা রোপন করতে না পারায় অকাল বন্যা ও বৃষ্টির পানিতে আমাদের কাঁচা ও আধাপাঁকা ধান পানিতে তলিয়ে নির্মজিত হয়। হাওরের পানি না কমায় কৃষকরা তাদের বোরো জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। হাওরের পানি না কমায় ফসলরক্ষা বেড়ীবাঁধ বা¯’বায়নে বিলম্ভিত হচ্ছে বলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির পিআইসিরা জানিয়েছেন।
এব্যাপারে ধানকুনিয়া জলমহাল ইজারাদার ও ধানকুনিয়া হাওর তীরবর্তী নুরপুর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, হাওর ও সুরমা নদির পানি প্রায় সমান সমান বিধায় হাওরের পানি খুব দৃরগতিতে নামছে। ফলে আমরা জলমহাল ফিসিংকরতে পারছি না। অপর দিকে ধানকুনিয়া হাওর একাংশের ফসলরক্ষা বেড়ীবাঁধ বাস্তবায়ন কমিটির পিআইসি আমি। ধানকুনিয়া হাওর একাংশ ফসলরক্ষা বেড়ীবাঁধ বাস্তবায়নের জন্য প্রায় সপ্তাহ আগ থেকে ভ্যাকোমেশিন এনেছি। হাওরের পানি না কমায় বেড়ীবাঁধের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ভ্যাকোমেশিনের ডেমারিজ দিতে হচ্ছে প্রতিদিন ৮ ঘন্টা।
টগার হাওর তীরবর্তী বেখইজোড়া গ্রামের কৃষক ওবায়দুর রহমান রনি বলেন, এবছর হাওরের পানি নামছে না। ফলে আমাদের নিচু জমি গুলো এখন পর্যন্ত চাষাবাদ করা সম্ভব হয়নি। আর কিছুদিন পর জমিগুলো রোপনের পর অকাল বন্যা ও বৃষ্টির পানিতে নির্মজিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।
চামরদানী ইউনিয়নের টেপিরকোনা গ্রামের কৃষক আশাদুজ্জামান রোকন নিতি বলেন, এবছর হাওরের পানি দেড়িতে নামায় জলমহাল ফিসিংকরা সম্ভব হ”েছ না। অপর দিকে হাওরের পানি না নামায় নিচু জমিতে বোরো ধান রূপন সম্ভব হ”েছ না। এমন সময় ধানের ছাড়া রুপনের সময় হবে, কাঁচা ও আধা ও পাকা পাকার সময় অকাল বন্যা ও পাহাড়ী ঢলের পানি বিপদ সীমায় প্রবাহিত হয়ে অথবা অতি বৃষ্টির কারনে এসব জমির ফসল পানিতে প্লাবীত হয়ে নষ্ট হওয়ার আসংখাই বেশী।