ধর্মপাশায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন:কৃষকের মাঝে কমভাইনার মেশিন হস্তান্তর

Saturday, April 10th, 2021

গিয়াস উদ্দিন রানা,ধর্মপাশা(সুনামগঞ্জ):: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা গত সপ্তাহে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় চলতি ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে অতিথের রেকর্ড ভেঙ্গে এ বছর ধান উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছারিয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। কৃষক-কৃষানীরা মনের আনন্দে ধান কাটা মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পাড়ি দিচ্ছে। এ বছর কৃষকেরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর এর পরামর্শে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিনে ইরি-বোরো ধান আবাদ করেছেন। কৃষকদের সার্থে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত ধান কাটার কমভাইনার মেশিন ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ক্রয় করে, সরকার প্রতিটি মেশিনে ১৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা ভর্তকি দিচ্ছেন।


ধর্মপাশা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে কৃষক সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬৪৬ জন। চলতি বোরো মৌসুমে ৩১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বি আর ২৮, বি আর ২৯ ও স্থানীয় জাতের ধান রোপন করা হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে প্রায় লাখ মেঃটন ধান, চাউলের হিসেবে ১১ লক্ষ ৫০ হাজার ৯২ মেঃটন চাউল। যা অতিথের রেকর্ড ছারিয়ে।
এ বছর আবহাওয়া ভাল থাকায় এবং বিগত সপ্তাহে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশে করোনা মহামারি দেখা দেওয়ায় সরকার সারা দেশে লকডাউন ঘোষনা করেছেন। ধান কাটার জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটার শ্রমিক আসতে বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্বাবনা দেখা দিতে পারে। ধান কাটার শ্রমিক সংকট থাকায় পার্শবর্তী নেত্রকোনা জেলা থেকে পর্যাপ্ত ধান কাটার মেশিন মওজুত রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হতে ৬ হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকার কৃষক-কৃষানীরা আনন্দে উল্লাসে ধান মাড়াই রৌদে শুকানো ও গুলায় উঠানোর কাজে ব্যস্ত সময় পাড়ি দিচ্ছেন।
উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের টেপিরকোনা গ্রামের কৃষক আসাদুজ্জামান রোকন তিনি বলেন, এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। যা অথিতের রেকর্ড ছারিয়ে গেছে। এখন আবহাওয়া প্রতিকোলে থাকলে রমজান মাসের মধ্যেই ধান কাটা শেষ হবে। একই মতামত পেশ করেন, দুগনই গ্রামের কৃষক রব মিয়া, পাইকুরাটি ইউনিয়নের বেখইজোড়া গ্রামের কৃষক ওবাইদুল ইসলাম রনি খান, মধ্যনগর ইউনিয়নের কামাউড়া গ্রামের কৃষক মুস্তাক মিয়া, বৈঠাখালী গ্রামের কৃষক পিংকু তালুকদার
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল ইসলাম তিনি বলেন, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে কৃষক সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬৪৬ জন। চলতি মৌসুমে ৩১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে উপসি বি আর ২৮ এবং ২৯ ও স্থানীয় জাতের ধান রোপন করা হয়েছে। এ বছর আমাদের উপসহকারী কর্মকর্তারা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সঠিক পরামর্শ দেওয়ায় কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছে। এখন যদি আবহাওয়া নিয়ন্ত্রনে থাকে তাহলে আগামি এক মাসের মধ্যে ধান কর্তনের কাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে।
তিনি আরো বলেন,ধর্মপাশা উপজেলায় বোরো ফসলের দাওয়া তুলতে প্রায় ২০ হতে ২২ হাজার শ্রমিকের প্রয়োজন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর এর উদ্যোগে ধান কাটার শ্রমিক সংকট থাকায় টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাড়ে ৩ হাজার শ্রমিক আনা হচ্ছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও কয়েক হাজার শ্রমিক আসবে। এ ছাড়াও জাপান থেকে আমদানীকৃত ১০টি ধান কাটা-মাড়াই ও বস্তায় প্যাকিং এর কমভাইনার মেশিনের চাহিদা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরে কৃষকদের আবেদন সহ চাহিদা পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬টি কমভাইনার মেশিন গতকাল আমাদের কাছে এসেছে। ওই মেশিন গুলো গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মুনতাসির হাসান এর উপস্থিতিতে ৬ জন কৃষকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই কমভাইনার মেশিনের মূল্য ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সরকার প্রতিটি মেশিনে ১৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা বর্তকি দিচ্ছেন। কৃষকরা পাচ্ছেন মাত্র ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। কৃষকদের স্বার্থে সরকার প্রতিটি মেশিনে ১৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা ভর্তকি দিচ্ছেন।
ধান কাটার কমভাইনার মেশিন কৃষকদের কাছে হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মুনতাসির হাসান, কৃষি অফিসার মোঃ নাজমুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারন অফিসার রফিকুল ইসলাম,উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোঃ সানমুন হাসান বিপ্লব, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার প্রজেশ চন্দ্র দাস, সমবায় অফিসার মোঃ আবুল কালাম ফরাজি, এলজিইডি প্রকৌশলী আরিফ উল্লা খান প্রমুখ্য।