ধর্মপাশায় রংচী জনকল্যাণ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির কমিটি জলমহালটি অন্যত্র বিক্রি করায় উত্তেজনা

Saturday, November 21st, 2020

গিয়াস উদ্দিন রানা,ধর্মপাশা(সুনামগঞ্জ):; সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলাধীন বংশীকুন্ডা দক্ষিন ইউনিয়নে রামসার টাঙ্গুয়ার হাওর তীরবর্তী লুঙ্গা-তুঙ্গা জলমহালটিতে মৎস্য আহরন নিয়ে দুই পক্ষের রশিটানাটানি। ওই জলমহালে আদিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের উত্তেজনা বিরাজ করছে। জনকল্যান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি-লি:এর সভাপতি সামছুন নুর ওই সমিতির সদস্য রংচী গ্রামের আব্দুল রেজ্জাক ও একই গ্রামের মো: সুরুজ আলী ওই দুই সদস্যকে বাদ দিয়ে সভাপতি সামছুর নুর একাধিক সদস্যকে হাত প্রলোভনের মাধ্যমে রাজি করিয়ে জলমহালটি বিক্রি করায় বঞ্চিত সদস্য আব্দুল রেজ্জাক ও মো: সুরুজ আলী বাদী হয়ে সভাপতির বিরুদ্ধে গতকাল ২০ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলারধীন বংশীকুন্ডা দক্ষিন ইউনিয়নের রংচী জনকল্যাণ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি-লিঃ। উক্ত সমিতির তীরবর্তী লুঙ্গা-তুঙ্গা নামের জলমহালটি ১৪২৫ বাংলা সন হতে ১৪৩০ বাংলা সনের ৩০ চৈত্র পর্যন্ত ৬ বৎসরের জন্য ওই সমিতির অনুকূলে লিজ আনা হয়। বাৎসরিক ১৮ লাখ ১১ হাজার ৬১৩ টাকা ইজারামূল্য পরিশোধ করতে হয়। উক্ত সমিতির সভাপতি সাতুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সামছুন নুর সমিতির একাধিক সদস্যদের প্রলোভনের মাধ্যমে জলমহালটি তার এক প্রভাবশালী আত্মীয়র কাছে মৎস্য আহরনের জন্য বিক্রিকরে দেয়। জনকল্যাণ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি-লিঃ এর সদস্য অভিযোগকারী রংচী গ্রামের মেঃ সুরুজ আলী স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ গত ২০ নভেম্বর ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্য়ালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওই অভিযোগে বলা হয়েছে যে, আমাদের জনকল্যাণ মৎস্যজীবি সমিতি-লিঃ এর সভাপতি সামছুন নুর এর কাছে আমরা দুইজন সদস্য দুই বছর আগে জলমহালের ইজারামূল্য এবং বাৎসরিক খাজনা ও পাহারাদারসহ অন্যান্য খরচ বাবত আমরা দুই সদস্য মিলে ৩ লাখ টাকা ওই সমিতির সভাপতি সামছুন নুরের কাছে জমা রেখেছি। ওই জলমহালের খাজনা পরিশোধ করেও আমরা জলমহাটিতে মৎস্য আহরন করতে পারছি না। আমাদের জনকল্যাণ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি-লিঃ এর অনুকূলে ৬ বছরের জন্য লিজ আনলেও আমাদের সমিতির সভাপতি সামছুন নুর ওই সমিতির একাধিক সদস্যকে প্রলোবনের মাধ্যমে হাত করে দাতিয়ারপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের কাছে জলমহালটি বিক্রি করেছে। ওই সমিতির সিংহভাগ সদস্যই সাইদুর রহমান একজন প্রভাবশালী ও তার আত্মীয় স্বজনরাও প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ ফলে আমরা ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাই না।
এব্যাপারে দাতিয়ারপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, লুঙ্গা-তুঙ্গা জলমহাল তীরবর্তী জনকল্যান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি-লিঃ ১৪২৫ বাংলা সন হতে ১৪৩০ বাংলা সন পর্যন্ত ৬ বছর মৎস্য আহরনের জন্য লিজ আনলেও বাৎসরিক খজনা ১৮ লাখ ১১ হাজার ৬১৩ টাকা খাজনা পরিশোধ করতে না পেরে আমার কাছে বিক্রি করেছে।
জনকল্যান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি-লি:এর সভাপতি সামছুল নুর এর সাথে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জলমহাল বিক্রির বিষয়টি অস্বিকার করে বলেন,আব্দুল রেজ্জাক ও সুরুজ আলী আমাদের সমিতির সদস্য। তারা খুব খারাপ মানুষ জলমহাল বিক্রির প্রশ্নই আসে না। সম্পন্ন মিত্যা ও বানোয়াট।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোনতাসির হাসান পলাশ এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।