বরিশালের ঐতিজ্যবাহি গ্রাম বাউশিয়া,প্রতিকারের ব্যবস্থা নেই,হুমকীতে উপজেলা

Thursday, December 12th, 2019

সাইফুল ইসলাম,হিজলা :: হুমকীর মুখে বরিশালের হিজলা উপজেলা পরিষদ। বিলীন হচ্ছে পার্শ্ববর্তী গ্রাম বাউশিয়া। ১৯৯১ সাল থেকে গ্রামটি ভাংতে ভাংতে এখান ৬ হাজার ৫০০ ভোটার এলাকা থেকে নিরুদ্দেশ। একটি গ্রামের চার চারটি পাড়া এখন মেঘনার পেটে। শত শত জাহাজ-কার্গো চলাচল করছে গ্রামটির উপর দিয়ে। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি বাড়ি দাড়িয়ে আছে রাক্ষসী মেঘনার পাড়ে।

এরা এখন যাই যাই। স্মৃতি এখন শুধুই স্মৃতি। অপেক্ষ হিজলা উপজেলা পরিষদকে গিলে ফেলা। বাঁধ রক্ষা আদৌ হকে কি না ? শংঙ্কায় হিজলা উপজেলা প্রশাসন-সহ স্থানীয়ন সাধারণ মানুষ।

যে কোন মুহুর্তে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বরিশালের অবহেলিত হিজলা উপজেলা পরিষদ। দনীগর্ভে তলাতে পারে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও সম্পত্তি। শরিয়তপুরের নরিয়ার পরিনতি অপেক্ষা করছে এখানে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কয়েক শতাধীক পরিবার নদীর গর্ভে বিলী হয়েছে। আমাবশ্যার জোয়ারের সাথে সাথে ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমশ্য। এখন শীতকাল নদী ভাঙ্গন না থাকলেও এখানে থেমে থেমে ভাঙছে নদী, হতাশায় ভাঙ্গন পারের শত শত পরিবার। স্থানীয় এমপির দানে ভাঙ্গন ঠেকাতে জিও ব্যাগ দিয়েও পার পাচ্ছেন না বাউশিয়া বাসি।

ইতোমধ্যে ৬ হাজার বস্তা জিওব্যাগ ফেললেও তা খুবই নগন্য বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা। নদীর পারে বসানোর সাথে সাথে তলিয়ে গেছে জিও ব্যাগ। এর পর উদ্দ্যোগ নেই প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের।

ঐতিহ্যবাহি গ্রাম বাউশিয়া গিলে ফেলেছে প্রমত্তা মেঘনা। ভাঙতে ভাঙতে বাউশিয়া গ্রাম এখন নেই। হারিয়ে গেছে কয়েক হাজার পরিবার। আছে হিজলার প্রানকেন্দ্র উপজেলা সদর হিজলা পরিষদ, প্রশাসনিক ভবন। নরিয়ার দশা এখানে অপেক্ষা করছে। শীতের পরেই আবার বর্ষা আসছে। শঙ্কায় কাটছে না উপজেলা সদরের আশপাশের লোকজনের। এখন থেকেই পার রক্ষায় কার্যকরি পদক্ষেপ চাই- চাই এর প্রতিকার। নয়তো বিগত দশ বছরের সরকারের উন্নয়নের জয়যাত্রা থেমে যেতে পারে এখানে। ইতিহাস সৃষ্টি হতেপারে হিজলা উপজেলার ক্ষেত্রে।

এখন বাউশিয়া রক্ষ নয়-উপজেলা রক্ষা, উপজেলা প্রশাসনের যাবতীয় গুত্বপূূর্ন স্থাপনা রক্ষা এখন সরকার এবং জনপ্রতিনিধিদের দায় বলে মনে করছেন হিজলাবাসী।

হিজলা উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১ শত গজ দুরে প্রমত্তা মেঘনার শাখা নদী। এখান দিয়ে হাজার হাজার লঞ্চ কার্গোর যাতায়াত ঢাকা, চাঁদপুর, চট্রগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, খুলনা, যশোর সহ দেশের ভিভিন্ন এলাকায়। পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ চ্যানেলটির গুরুত্ব ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে এ চ্যানেল ছাড়া অভ্যন্তরীন ও বিদেশের সাথে জলপথে পণ্য যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে এটি জাতীয় ক্ষেত্রে অপরিসিম হয়ে দাড়িয়েছে। সেই সাথে ভাঙ্গছে হিজলার জনবহুল গ্রাম দক্ষিণ বাউশিয়া। অসহায় শত শত পরিবার। দির্ঘ দিন যাবত ভাংছে পাশর্ববর্তী গ্রাম বাউশিয়া। ১৯৯৬ সালে এ গ্রামে ভোটার সংখ্যা ছিল সারে ছয় হাজার।

২০০০ সালের দিকে তা কমে দাড়িয়েছে ৪ হাজারে। এর পর কমতে কমতে শুণ্যর কোঠায় চলে অসছে। বর্তমানে বাউশিয়ার মানচিত্র বলতে শত পরিবারের একটি প্রতিকী গ্রাম। হাজার হাজার পরিবার ভাঙ্গনে গ্রাম ছাড়া। হাতাশার মধ্যে উপজেলা সদরের সাধারণ মানুষ ও সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

বাস্তচ্যুত শত শত পরিবার এখন খালে- বসত বাড়ি হারা শত শত পরিবার এখন এমপি পংকজ নাথের খাল ভরাটের জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। বিগত বছর ভাঙ্গনের পার্শ্বের একটি খাল ভরাট করে ঈদগাহ মাঠ নির্মানের জন্য প্রস্থ করা হয়। এখানে এখন শত শত পরিবারের ঠাই। এটিও নদীগর্ভে বিলীনের অপেক্ষায়। এর পরেই কয়েক কদম হাটলে হিজলা উপজেলা সদর। দুরত্ব মাত্র ১ শত গজ। যে কোন মুহুর্তে বিলীন হতে পারে উপজেলাটি। সময় থাকতে উপজেলা রক্ষার জন্য জোর দাবি স্থানীয় অসহায় সাধারণ মানুষের। এখানকার জনগনের দশা যেন নরিয়ার মতো না হয়।