বরিশালে শ্বশুর পরিবারের রোষানলের স্বীকার হাসিব ওরফে মামুন-স্ত্রী বুশরা নিখোজ

Tuesday, April 27th, 2021

সাইফুল ইসলাম, হিজলা:: বরিশালের আন্ধারমানিকে এক নারিকে কেন্দ্র করে ঢাকাতির নাটক। শ্বশুর নুরমোহাম্মদ মাষ্টার এর রোষানলে পঙ্গুর পথে হাসিব ওরফে মামুন। ঘটনার তিনদিন পার হলেও কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মুখোরোচক আলোচনা চলছে।
আহত ২।
প্রত্যেকে বরিশাল শেবাচিমে। এলাকাবাশি মুখ খুলছেন না। মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ বলছেন হাসিব ওরফে মামুন একটি মামলার আসামি। শুক্রবার রাতের গুরুতর আহত হাসিব এবং শিমলা বরিশাল সেবাচিমে ভর্তি রয়েছেন।
শুক্রবার গভীর রাতে আন্ধারমানিক গ্রামের হাসিব ওরফে মামুনকে চাচাতো ভাই দিপুর দোতালা ঘর থেকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে ¯’ানীয়রা। তাদের উক্তি হাসিব ঢাকাত। রাতেই হাসিবকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল হোসেন লিটু মেম্বার হিজলা স্বাস্হ্যকম্পেøক্সে ভর্তি করেন, এমন দাবি মেম্বারের।
এলাকাবাশি বলছেন ভিন্ন কথা- বুশরা নামের এক নারিকে নিয়ে যত ঝামেলা। কে এই বু শ রা !
সূত্র জানায় হাসিব ওরফে মামুন এবং দিপু, শিমলা, নিলিমা একই পরিবারের। পরস্পর চাচাতো ভাই বোন। বুশরা শ্রীপুর গ্রামের নুরমোহাম্মদ মাষ্টারের কন্যা। বুশরার বিয়ে হয় আন্ধারমানিক গ্রামের দিপুর বড় ভাই নিপুর সাথে। নিপুর বিদেশ অস্থানের কারনে বুশরা দ্বিতীয়বার স্বামী হিসাবে গ্রহন করেন দিপু এবং নিপুর চাচাতো ভাই হাসিব ওরফে মামুনকে।
মামুনের দাবি তার স্ত্রী বুশরা এবং শ্বশুর নুর মোহাম্মদ মাষ্টার একটি সমঝোতার কথা বলে শ্বশুরালয়ে আমন্ত্রন জানান। নুর মোহাম্মদ মাষ্টার এর সাথে ফোনে যোগাযো করতে চাইলে তিনি দুরে আছেন বলে লাইনটি কেটে দেন। এর পরে তার বাড়ি গেলেও কাউকে খুজে পাওয়া যায়নি। ভাগ্নে জানান, তিনি বাড়ি নেই। রিপোট লেখা পর্যন্ত মাষ্টার পরিবার নিখোজ।
শুক্রবার গভীর রাতে দিপুদের ঘরে ডাকাত ঢোকার আওয়াজতুলে এবং দিপুদের ঘরেই মামুন এবং চাচাতোবোন শিমলাকে কুপিয়ে আহত করে। বিষয়টি নিয়ে ধোয়াসা আর ধোয়াশার চাদরে আটকা পড়ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল হোসেন লিটু জানান, রাতে শিমলাদের ঘরে ঢাকাত পড়ছিল। সিমলাকে ঢাকাতরা আহত করে। তাই তাকে নিয়ে রাতেই হিজলা হাসপাতালে চলে জান তিনি। ঘন্টা কয়েক পরে শুনেন মামুনও ঐ ঘরে আহত। তাকেও রাত ৪টার দিকে একই হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে সে বিষয়টি সম্পর্কে তার ধারণ নেই।
হাসিব ওরফে মামুন জানান, তাকে শ্বশুর নুর মোহাম্মদ মাষ্টার হিজলার শ্রীপুরের বাড়ি নিয়ে আসে। সেখানে কৌশলে আটকে ফেলে মামুনকে। ঐ দলে ছিলেন নুর মোহাম্মদ মাষ্টার, বুশরা, বুশরার মা নাছিমা, বুশরার সাবেক দেবর দিপু, দিপুর বোন শিমলা, নিলিমা, মেম্বার জামাল হোসেন লিটু,রাফসানসহ একাধিক ব্যাক্তি। রাত ১০টার দিকে নুর মোহাম্মদ মাষ্টারের শ্রীপুরের ঘরে প্রথম দফা মারধর করা হলেও সেখানে আর রাখা হয়নি মামুনকে। ফিল্মিষ্টাইলে তাকে নেয়া হয় আন্ধারমানিক দিপুদের বাড়ি। সেখানে দিপুদের দোতালায় আটকে আবার মারধরকরে তাঁরা। স্ত্রী বুশরাকে তার কাছ থেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় দিপু এবং শ্বশুর নুরমোহাম্মদ। বুশরাকে উদ্ধার কলেই আসল রহস্য বেড়িয়ে আসবে। এমন বক্তব্য হাসিব ওরফে মামুনের।
এদিকে দিপু জানান, তাদের ঘরে ঢাকাত ঢুকছে। তারা ঢাকাত ধরতে সক্ষম হয়েছেন, পুলিশে দিয়েছেন।
হিজলা হাসপাতালে কাজির হাটের পুলিশ শনিবার সকালে হিজলা হাসপাতালে পুলিশ। তবে প্রত্যেকে মেহেন্দিগঞ্জের কাজির হাট থানার। তারা জানান, মামুন একটি মামলার আসামি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করছি।
অপরদিকে হিজলা হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, মামুন, শিমলা দুজন গুরুতর আহত। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।