মেঘনায় কোটি টাকার চাঁদা বাণিজ্য:নিয়ামক ইউসুফ সরদার,প্রশাসন নিরব ভুমিকায় !

Friday, April 30th, 2021

হিজলা প্রতিনিধি:: হিজলার মেঘনার ত্রাস-প্রশাসনের নিয়ামক ওরা কারা ? ওদের রাজত্ব এখন পুরো মেঘনা জুড়ে। প্রশাসনের ছত্রছায়ায় চাঁদাতুলে প্রতিষ্ঠিত ওরা। সেই সাথে বাদ যায়নি ক্ষমতাসীন দলীয় লোক ও লোকজন। কোটি কোটি টাকার চাঁদা উঠছে মেঘনায়। কি ওদের শক্তি ? প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না ? আসল রহস্য কোথায়। কোটি কোটি টাকাই বা যাচ্ছে কোথায় ?
ইউসুফ সরদার, ইদ্রিস দেওয়ান, সোলায়মান সরদার, খলিল সরদার, রফিক- ওরা পাঁচ জন। একে অপরে সংঙ্গী, অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে জড়িত। এ যেন একে অপরের পরিপুরক। কেউ থানা পুলিশের আশ্রয়ে, কেউ নৌ পুলিশের প্রশ্রয়ে, কেউবা কোষ্টগার্ডের আর্শীবাদে, কেউবা মৎস্য অফিসের সহায়তায় কেউবা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠিত।
বংশ যাই থাকুক না কেন এরা প্রত্যেকেই মাঝি। তবে খেয়া ঘাটের মাঝি না- মাঝি না কোন মাল পরিবহনের – যানের। তারা প্রত্যেকে নৌ পুলিশ, কোষ্টগার্ড, মৎস্য অফিসের নিয়মিত মাঝি – কেউ বা সোর্স দাবিদার দালাল।

যেমন কথা আছে “দারোগার চেয়ে দারোগার নায়ের মাঝির ঠেলা বেশী”-তেমনি তাদের বেলায় ও তাই। তাঁরা মাঝি তাই তাদের হিজলার মেঘনায় পরিচিতি একটু বেশী। সময়-অসময় এদের ঘোরাঘুরি বাড়ে মেঘনা পারে, জেলে পাড়ায়-মাছ ঘাটে। খেটে খাওয়া অসহায় জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা, জোরপূর্বক জাল আটক, ট্রলার আটক, প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে অর্থ কামানো এগুলোই তাদের মুল কাজ। সে কাজের ভাগ তারা একাই পান না-তা ব্যয় করেন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে।
মেমানিয়ার জাকির মাঝি, নাছকাঠির শাহআলম দেওয়ান, ইয়াছিন, চান্দু আকন, জাহের আকন সহ একাধিক জেলে ও মাছ ঘাট মালিকের অভিযোগ হিজলার মেঘনা পাড়ে দেবুয়া খালে ১৫টি মাছ ঘাট। ঘাটগুলো থেকে এ মাঝিরা দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা উঠান ইউসুফ সরদার। পুরো অভায়াশ্রম ঘিরে চলছিল চাঁদাবাজি। এ চাঁদাকে কেন্দ্র করে পুলিশ হয়েছিল আহত। তবে মামলায় আসামি হয়নি ইউসুফ গংরা। এরা সবসময় থাকে পুলিশ/কোষ্টগার্ডের বন্ধু।
মাঝি মানেই সোনার হরিণ। একবার মাঝি হতে পারলে পরবর্তীতে সোনার হরিণ হাতে পাওয়া। এ যেন আলাদিনের চেরাগ–।

ইউসুফ সরদার, খলিল -সোলায়মান, এরা এখন কোষ্টগার্ডের নিয়মিত মাঝি এবং তাদের নিয়ামক। সাথে চলছে অবৈধ জাটকা ব্যবসা। থেমে নেই তাদের জাটকা আহরণের কার্যক্রম। তবুও কোষ্টগার্ডের আপনজন। এখনও মেঘনা পারে তাঁদের রাজত্ব। ইউসুফ সরদার-খলিল সরদারের আপন চাচা। খলিল বর্তমানে কোষ্টগার্ডের মাঝি। এর আগে ইউসুফ কোষ্টগার্ডের নিয়মিত মাঝি ছিলেন। অনৈতিক কাজের জন্য কোষ্টগার্ড তাকে ডিউটি থেকে প্রত্যাহার করে কর্তৃপক্ষ। আধিপত্য রয়ে যায় তাদেও হাতে। তার বিরুদ্ধে কোষ্টগার্ড ভোলা জোন নিজস্ব অর্থায়নে পোষ্টারিং করেন। সেই ইউসুফকে আনাগোনা মারতে দেখা যায় কোষ্টগার্ডেও পল্টুনের কাছে। তিনি এখন কোষ্টগার্ড, নৌ পুলিশের ব্যাংক। এর থেকে প্রতিকার চায় সাধারণ জেলে পরিবার।