শিশুকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো এসআই চাকরিচ্যুত

Wednesday, October 7th, 2020

বিজয় নিউজ:: চট্টগ্রামের স্কুলছাত্র সালমান ইসলাম মারুফকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা এবং মা-বোনকে মারধরের পর ছেলেটির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া ডবলমুরিং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলালউদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

বিভাগীয় মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডবলমুড়িং থানার ওসি সুদীপ কুমার দাস যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি হেলালকে অভিযুক্ত করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছিল। সে মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মঙ্গলবার চাকরিচ্যুত করা হলো।

সালমান ইসলাম মারুফ স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পড়ার খরচ চালাতে স্থানীয় একটি বিপণিবিতানে বিক্রয়কর্মী হিসেবেও কাজ করত সে।
মারুফের স্বজনদের ভাষ্য, ১৬ জুলাই রাতে ডবলমুরিং থানার বাদামতলীর বড় মসজিদ গলিতে তার বাসায় অভিযানে যান পুলিশ সদস্য এসআই হেলাল।

তার কিছু দিন আগে মারুফের বাসা থেকে সাইকেল ও মোবাইল ফোন চুরি হয়েছিল। সেদিন সন্ধ্যায় দুই লোক গিয়ে মারুফের বাসায় উঁকি দিচ্ছিলেন। এ সময় মারুফ তাদের ‘চোর চোর’ বলে ধরে ফেলেন।

এর পর এসআই হেলাল পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে মারুফকে মারধর করেন এবং থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও টাকা দাবি করেন। মারুফের মা ও বোন তখন পুলিশকে বাধা দেন।
যে দুজন বাসায় উঁকি দিয়েছেন, তারা নিজেদের পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেন। আর তাদের সঙ্গে থাকা এসআই হেলাল ছিলেন সাদা পোশাকে।

সেখানে মারধরের পর কিশোর মারুফের বোন আহত হলে মাসহ তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়। এর পর বাসা থেকে মারুফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে সেই রাতে এসআই হেলালকে প্রত্যাহার করা হয়। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার (পশ্চিম) মনজুর মোরশেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনার চার দিন পর ২০ জুলাই তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

সেখানে বলা হয়, এসআই হেলাল সাদা পোশাকে অভিযানে গিয়ে মারুফের মা-বোনকে মারধর এবং ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছিলের বলে প্রমাণ মিলেছে তদন্তে।

এসআই হেলালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার পাশাপাশি তাকে বরখাস্তের সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।