হিজলার মেঘনা পারে কোটি টাকার বাণিজ্য এখন ওরা কারা

Sunday, March 29th, 2020

হিজলা প্রতিনিধি :: হিজলার মেঘনার ত্রাস-প্রশাসনের নিয়ামক ওরা কারা ? ওদের রাজত্ব এখন পুরো মেঘনা জুড়ে। প্রশাসনের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজিতে প্রতিষ্ঠিত তাঁরা। সেই সাথে বাদ যায়নি ক্ষমতাসীন দলীয় লোক ও লোকজন। কোটি কোটি টাকার চাঁদা উঠছে মেঘনায়।

কি ওদের শক্তি ? প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না ? আসল রহস্য কোথায়। কোটি কোটি টাকাই বা যাচ্ছে কোথায় ?
ইদ্রিস দেওয়ান, সোলায়মান সরদার, খলিল সরদার, রফিক- ওরা চার জন। একে অপরে অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে জড়িত। এ যেন একে অপরের পরিপুরক।

কেউ থানা পুলিশের আশ্রয়ে, কেউ নৌ পুলিশের প্রশ্রয়ে, কেউবা কোষ্টগার্ডের আর্শীবাদে, কেউবা মৎস্য অফিসের সহায়তায় কেউবা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠিত। বংশ যাই থাকুক না কেন এরা প্রত্যেকেই মাঝি। তবে খেয়া ঘাটের মাঝি না- মাঝি না কোন মাল পরিবহনের – যানের। তারা প্রত্যেকে নৌ পুলিশ, কোষ্টগার্ড, মৎস্য অফিসের নিয়মিত মাঝি – কেউ বা সোর্স দাবিদার।

যেমন কথা আছে “দারোগার চেয়ে দারোগার নায়ের মাঝির ঠেলা বেশী”-তেমনি তাদের বেলায় ও তাই। তাঁরা মাঝি তাই তাদের হিজলার মেঘনায় পরিচিতি একটু বেশী। সময়-অসময় এদের ঘোরাঘুরি মেঘনা পারে, জেলে পাড়ায়-মাছ ঘাটে। খেটে খাওয়া অসহায় জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা, জোরপূর্বক জাল আটক, ট্রলার আটক, প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে অর্থ কামানো এগুলোই তাদের মুল কাজ। সে কাজের ভাগ তারা একাই পান না-তা ব্যয় করেন বিভিন্ন স্তরে।
মেমানিয়ার জাকির মাঝি, নাছকাঠির শাহআলম দেওয়ান, ইয়াছিন, চান্দু আকন, জাহের আকন সহ একাধিক জেলে ও মাছ ঘাট মালিকের অভিযোগ হিজলার মেঘনা পাড়ে দেবুয়া খালে ১৫টি মাছ ঘাট। ঘাটগুলো থেকে এ মাঝিরা দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা উঠান ইদ্রিস দেওয়ান, সোলায়মান সরদার, খলিল সরদার, রফিক গং রা। বর্তমানে মেঘনায় চলছে অভায়া¯্রম ।

এতে করে তাদের চাঁদা তোলা আরও সহজ হয়েছে। সাধারণ জেলেদের কাছ থেকে দৈনিক ভিত্তিতে ৩শ থেকে ৫শ টাকা চাঁদা দিতে হয় ইদ্রিস গংদের। আাবর মাছঘাট থেকে প্রত্যেক সরকার দৈনিক ভিত্তিতে জমা করেন ১ হাজার টাকা। এতো টাকা যাচ্ছে কোথায় ? কেনই বা দিচ্ছেন মাছঘাট মালিকরা ? মেঘনা পারে শত শত মাছ ঘাট থাকলেও সেখান থেকে সরকারের কোষাগারে কোন টাকা জমা হয় না।

পকেট ভরে দলাল, টাউট, সরকারী সংস্থার কিছু কিছু লোক আর ক্ষমতাসীন দলের পাতি নেতাদের। দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ কেনা বেচা চলে এই মাছ ঘাট গুলেতে। সেখানকার কমিশন গুনছেন স্থানীয় মাছঘাটের মালিক এবং সরকার পক্ষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মাছঘাট মালিক ও সরকার জানন- ঘাটের কমিশনগুলো জমা থাকে – ঘাট সরকার তৈয়ব (মুন্সি) সরকারের কাছে। তিনিই বিভিন্ন সংস্থা বা কর্তৃপক্ষকে সামাল দেন।
তৈয়ব মুন্সি, আলাউদ্দিন, আলাউদ্দিন দফাদার, আযাদ, ইসরাফিল, জামাল সরদার, সোহেল বেপারী, কাশেম সরকারসহ বেশ কিছু মাছ ঘাটের সরকার বসেন দেবুয়া খালের পারে। অভায়া¯্রম -তাই ব্যবসা বন্ধ থাকার কথা কিন্তু অভায়া¯্রম ঘোষনা থেকে এখন পর্যন্ত চলছে এদের মাছ ঘাট।। এদের মাছঘাট সচল রাখতে চাঁদা দিতে হচ্ছে প্রত্যেককে। দৈনিক এক হাজার টাকা চাঁদা দিলেও সে কথাটি গোপন রাখছেন প্রত্যেকেই। কেউবা আাড়লে- সবই বলে দিচ্ছেন অনায়াসে। প্রশাসনযন্ত্রকে খুশি করতে গেলে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়। সহজ কথা সহজ ভাবে বলাও যায় না। তাই সকল প্রশ্ন সাংবাদিকদের না করার জন্য অনুরোধ জানান ঘাট মালিকেরা।
ইদ্রিস দেওয়ান, সোলায়মান সরদার, খলিল সরদার, রফিক এরা প্রশাসনের আপন ! মাঝি মানেই সোনার হরিণ। একবার মাঝি হতে পারলে পরবর্তীতে সোনার হরিণ হাতে পাওয়া। এ যেন আলাদিনের চেরাগ–। ইদ্রিস দেওয়ানে প্রতি ক্ষিপ্ত ছিলেন সাবেক হিজলা থানার ওসি মাসুদুর রহমান। তিনি বদলীর পর ইদ্রিছ এখন পুরোনো আদলে। তার চাহিদা এখন নৌ পুলিশে একটু বেশী।

সম্প্রতি মেঘনায় একটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ১০ লক্ষ টাকায় রফাদফা করেন মেম্বার হাবিব সরদার, ইসমাইল, জাহেরসহ একাধিক ব্যাক্তি। জনমনে প্রশ্ন এতো টাকার উৎস কোথায় ? মেমানিয়ার সেলিম আকন (ঘুঘু সেলিম) পুত্র রফিক আকন নদীপথে চাঁদাবাজির করণে উজেলায় এক সময় অবাঞ্চিত ছিল মৎস্য অফিস, নৌ পুলিশ, কোষ্টগার্ড, থানায়- নৌ পথে চাঁদাবাজির কারণে অবাঞ্চিত ছিল। হালে তিনি এমপির লোক, এমপির পিএস এর লোক, কখনওবা আ’লীগ নেতার লোক। বর্তমানে রফিক আকন এমপির ডিও লেটারে চলে পুরো মেঘনায় চাঁদাবাজিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এখন তিনি যেখানে যেমন। খলিল -সোলায়মান, এরা এখন কোষ্টগার্ডের নিয়মিত মাঝি এবং তাদের নিয়ামক। সাথে চলছে অবৈধ জাটকা ব্যবসা। থেমে নেই তাদের জাটকা আহরণের কার্যক্রম। তবুও কোষ্টগার্ডের আপনজন। এখনও মেঘনা পারে তাঁদের রাজত্ব। এর থেকে প্রতিকার চায় সাধারণ জেলে পরিবার।