হিজলায় ভূমিদস্যু সন্ত্রাসীরা একের পর এক দায়ের করে মামলা-জমি সংক্রান্ত হামলায় আহত-৫

Tuesday, February 4th, 2020

আহত মজিবর হক গাজী।                                          ছবি:বিজয় নিউজ

বিজয় নিউজ:: বরিশালের হিজলা উপজেলার ২নং মেমানিয়া ইউনিয়ন চরমেমানিয়া গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ১জনকে কুপিয়ে ও ৪/৫ জনকে আহত করেছে ভূমিদস্যু সন্ত্রাসীরা। গত ৩১ জানুয়ারী ওই গ্রামের এই ঘটনা ঘটে। এতে মজিবুল হক গাজ (৬৫) মাথায় কুপিয়ে গুরাত্বর আহত হয়েছে। তাদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হিজলা স্বাস্থ্য কম্পেক্স ভর্তি করে। এ ঘটনায় আহত মজিবুল হক গাজীর স্ত্রী নুরুন্নেছা বেগম বাদী হয়ে হিজলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যার মামলা নং ১৯ তারিখ ১ ফেব্রুয়ারী ২০২০ইং।

অভিয়োগের ভিত্তিতে জানাযায় , একই এলাকার, আকাব্বর হাওলাদার, ও তার ছেলে রবিউল,ইবরাহিম, সিদ্দিক হাওলাদার, নান্নু গাজী, কবীর গাজী, টিটু গাজী,লালচান গাজীসহ ১০/১৫ জন সন্ত্রাসীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে আহত করা হয় তাদেরকে। কিš‘ ঘটনার পর অভিযোগ দেয়া হলেও এরা এলাকায় বীরদর্পে ঘরে বেড়াচ্ছে। এমনকি তারা মামলা উঠিয়ে নেওয়ার হুমকী প্রদান করছে। আর মামলা উঠিয়ে না নিলে হত্যা করা হবে বলেও হুমকী প্রদান করছে।

ঘটনার বিবরনে জানাযায়, হিজলা উপজেলার ২নং মেমানিয়া ইউনিউয়নের গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডে আজহার আলী হাওলাদের দুটি খতিয়ানে (৭৭) এবং (১৯) ২ একর ৬৯ শতাংশ জমি রয়েছে। যার মধ্যে ৭৭ খতিয়ানে ২ একর ৩৩ শতাংশ এবং ১৯ খতিয়ানে ৩৬ শতাংশ।

ওয়ারিশ সুত্রে ওই জমির মালিক ও ভোগ দখল করে আসছিলেন আজাহার আলী’র ছেলে জবেদ আলী হাওলাদার এবং ওসমান গনি হাওলাদার। বর্তমানে জাবেদ আলী হাওলাদার এর ছেলে আবুল হাওলাদার ও ওসমান গনি হাওলাদার এর ছেলে আলমগীর হাওলাদার জমির ভোগ দখল করে আসছে। দির্ঘ ৫০ বছর ধরে এই পরিবারের সদস্যরা জমি ভোগ দখল করে আসছে।

এতে একই এলাকার বেশ কয়েকজন ভুমিদস্যু জমি হাতিয়ে নিতে শুরু করে যষড়যন্ত্র। ২০১৪ সালে ভূয়া খতিয়ানের মাধ্যমে জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলায় চক্রটি। এই চক্রের সদস্যরা হলেন, আয়ুব আলী সিকদার, আকব্বর হাওলাদার, নান্নু গাজী, কবীর গাজী, শহীদ বাগা, মনির সিকদার প্রমুখ।

এঘটনায় জাবেদ আলী হাওলাদারের ছেলে আবুল হাওলাদার বাদী হয়ে ২০১৪ সালে বরিশাল জেলা মেজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং ১৬৯৪/১৪। অত্র খতিয়ানের ১২২৯ হিঃ/৯২-৯৩ (১৩৫/৭২) মোকাদ্দমায় আদেশ মামলায় আদালত জমির প্রকৃত মালিক আজাহার এর নামে বহাল রাখে।

মামলায় হেরে গিয়ে ভুমিদস্যু চক্রটি পুনরায় জালজালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া (কবুলত) দেখিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করে। তারা ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর আকব্বর ও নান্নু গাজী বাদী হয়ে আবুল হাওলাদার ও আলমগীর হাওলাদারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১০০/১০২।
যা মামলা ২ টি খারিজ করে দেয় আদালত। মামলা খারিজের পর আদালত জমিতে থাকা ধান কাটার অনুমতি দেন প্রকৃত রেকোডিও মালিকদের।
জমি চাষাবাদের জন্য পুনরায় গেলে ওয়ারিশদের নামে ৫ ও ৬ জানুয়ারী দুটি মামলা দায়ের করে যার মামলা নং ১ ও ৩। আদালতের বিচারক গত ৩০ জানুয়ারী ২০২০ সালে মামলা ২ টি খারিজ করে দেন। মামলা খারিজের পর ৩১ তারিখে জমি চাষাবাদ করতে গেলে ভুমি দস্যু আকাব্বর হাওলাদার,নান্নু গাজী, কবীর গাজী, রবিউল হাওলাদার, টিটু গাজী, সিদ্দিক হাওলাদার, ইবরাহিম, লালচান গাজীসহ সন্ত্রাসীদের নিয়ে মজিবুল হক গাজী ও আবুল হাওলাদারসহ ৪/৫ জনকে পিটিয়ে আহত করে তাদের মধ্যে মজিবুল হক গাজীকে কুপিয়ে গুরতরহ জখম করে। পরে তাকে হিজলা স্বাস্থ্য কম্পেক্স ভর্তি করে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, জমি দখল নিতে ভুমিদস্যুরা একাধিক মামলা করে । কিš‘ প্রত্যেকটি মামলা মিথ্য প্রমানিত হওয়ায় আদালত রেকোডিও মালিকদদের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা মামলায় জিততে না পেরে গায়ের জোরে জমি দখলের চেষ্টা করছে। তারা আমাদের নানা ভাবে হুমকী প্রদান করছে।
স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে তারা এলাকায় সাধারন মানুষকে জিন্মি করে ভূয়া দলিলের মাধ্যমে জমি বাগিয়ে নেয়। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও পরবর্তীতে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার হুমকী প্রদান করে। এরা এলাকায় সাধারন মানুষের জন্য আতঙ্ক।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের দাবি তারা সাধারন মানুষকে জিন্মি করে ভূয়া দলিলের মাধ্যমে জমি দখল করে নিতে চয় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক। এদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সস্তি ফিরে আসবে।