ঋণের দায় থেকে মুক্তি,মাকে পানিতে ডুবিয়ে মারতে বাবাকে সহায়তা করে ছেলে!

Thursday, October 17th, 2019

আসামি আলাল উদ্দিন। ছবি: বিজয় নিউজ
বিজয় নিউজ::  এনজিওর ঋণের দায় থেকে মুক্তি এবং স্ত্রীর বড় ভাইকে মামলায় জড়িয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য নিজের ছেলে ও শ্যালকের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রী সুফিয়া আক্তারকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেন স্বামী আলাল উদ্দিন।

আলাল উদ্দিন (৫০) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। আলাল উদ্দিন, তার ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩০) এবং তার স্ত্রীর ভাই আব্দুল মোতালেবের ছেলে স্বপন মিয়াকে পুলিশ বুধবার গ্রেফতার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা সুফিয়া আক্তারকে হত্যা করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

আলাল উদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া আক্তার (৪৬) গত রোববার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরদিন এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। গত মঙ্গলবার সুফিয়া আক্তারের লাশ আজগানা গ্রামের আউলিয়া বিল থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে সুফিয়ার বড় ভাই মেছের আলী বাদী হয়ে ওইদিনই অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মির্জাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার জানান, পুলিশের একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তিগত কলাকৌশল ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিহত সুফিয়া আক্তারের স্বামী আলাল উদ্দিন ও ছেলে শরিফুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পান। পরে তাদের গ্রেফতারের পর তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে।

তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এই হত্যার অপর সহযোগী নিহত সুফিয়া আক্তারের ভাই আব্দুল মোতালেবের ছেলে স্বপন মিয়াকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মাটিকাটা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, নিহত সুফিয়া বিভিন্ন এনজিও থেকে কয়েক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে স্বামী আলাল উদ্দিনকে দিয়েছেন। কিন্তু আলাল উদ্দিনের পক্ষে এ ঋণের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব না। অপরদিকে তার স্ত্রীর (সুফিয়ার) বড় ভাই মিনহাজ উদ্দিনের সঙ্গে আলাল উদ্দিনের বিরোধ রয়েছে। তাই ছেলেকে এবং শ্যালকের ছেলে স্বপন মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সুফিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

তিনি তাদের বুঝান, সুফিয়াকে হত্যা করতে পারলে একদিকে এনজিওর ঋণ থেকে মুক্ত হতে পারবেন। অপরদিকে স্ত্রীর ভাই মিনহাজ উদ্দিনকে এই মামলায় জড়িয়ে দিতে পারবেন।

গ্রেফতারকৃতরা পুলিশের কাছে জবানবন্দি দেয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হন। পরে তাদের টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে জবানবন্দির জন্য পাঠানো হয়।