বরিশালে শিক্ষিকাকে মারধরের (ভিডিও)

Tuesday, December 10th, 2019

বিজয় নিউজ:: বরিশালের মুলাদী উপজেলার একটি স্কুলে সিনিয়র এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে একই স্কুলের জুনিয়র এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

শনিবার কাজিরচর ইউনিয়নের ৯৩ নং পশ্চিম কমিশনার চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। যে ঘটনার একটি অংশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বয়োজেষ্ঠ্য শিক্ষিকাকে জুনিয়র এক শিক্ষিকা কর্তৃক প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের ও স্থানীয়দের সামনে এভাবে মারধরের বিষয়টি নৈতিকতার অবক্ষয় বলে দাবি করে স্থানীয়রা এর কঠোর বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিস এ বিষয়টি জানার সাথে সাথে তদন্ত করে প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা অফিসের কাছে প্রেরণ করেছেন। যে তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম। আর লিখিত পাওয়ার পরপরেই দোষী ওই শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবদুল লতিফ মজুমদার।

এদিকে জানাগেছে, উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের ৯৩ নং পশ্চিম কমিশনারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত শনিবার (০৭ ডিসেম্বর) বেলা ৩টার দিকে পরীক্ষা চলাকালীন সময় সহকারী শিক্ষিকা খুরশিদা আক্তার (৪৯) এর সাথে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় সহকারী শিক্ষিকা মিনারা আক্তার লিপি (৩৪) ‘র সাথে।

এসময় শ্রেনী কক্ষের দরজা বন্ধ করে হঠাৎ করেই বয়োজেষ্ঠ্য শিক্ষিকা খুরশিদা আক্তারকে মারধর করে সহকারী শিক্ষিকা মিনারা আক্তার লিপি।

এসময় খুরশিদা আক্তার ডাকচিৎকার দিলে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাসহ আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে যান। পরে ওই শিক্ষিকাকে কক্ষের বাইরে বারান্দায় এনে পুনরায় মারধর করে। যার একটি ভিডিও স্থানীয় কোন এক ব্যক্তি মোবাইলে ধারন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। যে ভিডিওতে দেখা গেছে জুনিয়র ওই শিক্ষিকা বয়োজেষ্ঠ্য শিক্ষিকাকে বসিয়ে উপুর করে দুপায়ের মধ্যে আটকে ধরেছেন এবং ,একহাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে অন্য হাত দিয়ে একের পর এক থাপ্পর দিয়ে যাচ্ছে।

যেখানে অন্য এক নারী এসে তাদের ছাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে এবং শিশু শিক্ষার্থীরা দাড়িয়ে গোটা দৃশ্য দেখছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মারধরের ঘটনার পর স্থানীয়রা খুরশিদা আক্তারকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে তিনিও হাসপাতালে যান এবং বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেন। তিনি সহকারী শিক্ষা অফিসারকে পাঠিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছেন। অপরদিকে এ বিষয়ে আহত শিক্ষিকা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, বিষয় হলো সহকারী শিক্ষিকা মিনারা আক্তার লিপি চলতি বছরের মার্চে এ বিদ্যালয়ে আসেন। তার বাড়ি মুলাদীতে হলেও বরিশালে থাকেন এবং বিদ্যালয়ে আসলেও অনেক বিলম্ব করে আসেন। তার ইচ্ছেমতো চলনের কারনে শিক্ষা অফিসকে এর আগে জানানো হয়েছিলো। এসব বিষয়ে তাকে বললে সে রেগে যায় এবং কারো সাথেই সন্তোষজনক আচরন করেনা। এমনকি এরআগে আমার বিরুদ্ধেও সে বিভিন্ন যায়গায় অভিযোগ দিয়েছিলো। যার তদন্তও শিক্ষা অফিস করেছে।

অপরদিকে প্রধান শিক্ষক ও খুরশিদা বেগমের অপরাধের বিষয়ে শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের কাছে জানিয়েছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা মিনারা আক্তার লিপি।