বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের হার নিয়ে যা বললেন ম্যাককালাম

Sunday, July 21st, 2019

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েও ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আলোচনায় ছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

সমালোচিতই হয়েছেন বেশি। বাংলাদেশ কেবল একটি ম্যাচ জিততে পারবে ভবিষ্যদ্বাণী করে ফেঁসে গিয়েছিলেন তিনি। গ্রুপপর্বে টাইগাররা নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যাককালামের ওপর হামলে পড়েন নেটিজেনরা।

তবে নিউজিল্যান্ড দল তাদের মন কাড়া পারফরম্যান্স দেখিয়ে স্বদেশী তারকা সমালোচিত ম্যাককালামকে এক রকম ভুলিয়ে দেয় ক্রিকেটপ্রেমীদের থেকে।

সেমিফাইনালে দুর্দান্তভাবে ভারতের ব্যাটিংলাইনআপকে ধসিয়ে দিয়ে ফাইনালে ওঠেন তারা। শিরোপা না পেলেও ফাইনালে কেন উইলিয়ামসনদের হারকে শ্রেফ ভাগ্য বলে মানছে ক্রিকেটবিশ্ব।

ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে নিজের দেশের এ হারকে কীভাবে দেখছেন দেশটির সাবেক তারকা ব্রেন্ডন ম্যাককালাম তা জানার অপেক্ষায ছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

একটু দেরিতে হলেও অবশেষে মুখ খুললেন তিনি।

শনিবার ম্যাককালাম বলেন, ‘আমরা হারিনি। একজন চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলেছি। হেরেছি বাউন্ডারির নিরিখে, যা হৃদয়বিদারক।’

২০১৫ সালেও ফাইনালে উঠেছিলেন কিউইরা। সেবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে রানারআপ হয়েছিলেন তারা। সেই দলে ম্যাককালামও ছিলেন।

ওই হারের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালের ফাইনালে খুব খারাপভাবে আমরা হেরেছিলাম। কখনই ম্যাচের মধ্যে ছিলাম না। কিন্তু এবারের হারের সঙ্গে তা তুলনা করা গর্হিত অন্যায়। এবার নিয়মের কাছে হেরেছি। ইংল্যান্ডের কাছে নয়।’

তিনি বলেন, ‘এমন হারে ছেলেরা এখনও বিধ্বস্ত, হতাশ। তাই সেদিন ম্যাচশেষে সান্ত্বনা দিতে ড্রেসিংরুমে গিয়ে দলের প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছি।’

তিনি যোগ করেন, ‘ওদের বুঝিয়েছি যে, এই ম্যাচের জন্যই একদিন ওরা গর্বিত হবে। সে দিন এই দুঃখ ভুলে আনন্দে ভেসে যাবে। ওদের জন্য আমরাও গর্বিত। ভেঙে পড়ার কিছু হয়নি। এই পারফরম্যান্সই একদিন ওদের হাতে কাপ তুলে দিতে পারে। একটি ম্যাচ দিয়ে কারও দক্ষতার বিচার হয় না।’

বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের খেলা দেখে তাদের কোন জায়গায় রাখবেন সাবেক কিউই অধিনায়ক?

জবাবে ম্যাককালাম বলেন, ‘আরও একটি সুযোগ হাতছাড়া করেছি। সে কারণেই এই বিশ্বকাপ আমাদের সারাজীবন মনে থাকবে। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে যে ক্রিকেট আমরা খেলেছি তা অসামান্য। আর ফাইনালে একবারও ইংল্যান্ডকে মাথার চড়তে দিইনি। ক্রমাগত চাপ তৈরি করে রেখেছিলেন উইলিয়ামসনরা। ক্রিকেটবিশ্বকে ওরা বুঝিয়ে দিয়েছে যে, নিউজিল্যান্ড আর যাই হোক, আন্ডারডগ নয়।’