মঙ্গুর পঙ্গুত্ব-এমপির বন্ধ্যাত্ব ব্রাকেট ভাঙবে কবে ?

Thursday, November 14th, 2019

মো:সাইফুল ইসলাম,হিজলা ::  হিজলার রাজনীতি এমনিতেই কঠিন থেকে কঠিনতর । ১৯৯১ থেকে ২০১৯ সাল অনেক দুর এবং দুরত্ব। এর মাঝখানে গঙ্গার পানি মেঘনায় পতিত হয়েছে। পদ্মা মেঘনা যমুনার ত্রি মোহনায় এসে একাকার এখানকার জলরাশি।

উল্টোপথে মেঘনার পানি গঙ্গায় গিয়ে পলিজমে চর উঠছে। আবার মেঘনার পানি গঙ্গা থেকে মেঘনা হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে গড়িয়েছে। সর্বশেষ বাংলার বুড়িগঙ্গার জলে মিলে এখন পরিবেশবাদিদের আন্দোলনে রুপ নিচ্ছে। এতে কারও দায় ঠেকছে বলে মনে হচ্ছে না।

হিজলা থানা একটি নাম, একটি উপজেলা। কেউ একে রং করে অথবা উচ্চারণগত কারণে বলতে পারে হিজরা থানা তাতে দোষের কিছু নেই। রাজনীতিতে হিজলা উপজেলার গুরুত্ব কম কিসে ? কথিত আছে তিন শত যাট ঘর জমিদারের বসত বাড়ি হিজলায়। শিক্ষা-দিক্ষায় এ এলাকার নাম কে না জানে। বিএম কলেজ বরিশালের সবচেয়ে পুরোনো বিদ্যাপিঠ। আসলে এর চেয়ের বুড়া বিদ্যাপিঠ আছে হিজলায়।

যোগাযোগ আর মেঘনার কড়াল গ্রাসে একে অনেকে চিনতে চান না। এই হিজলায় বিএম কলেজের চেয়েও পুরোনো বিদ্যাপিঠ রয়েছে। তার নাম গোয়াল ভাওর মাধ্যমিক বিদ্যালয় যা পরবর্তীতে উত্তোর সাহবাজপুর জর্জ ইনিস্টিটিউশন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে এখনও দাড়িয়ে আছে। অস্টম জর্জ হিজলা থানার অন্তরগত গবিন্দপুর ইউনিয়নে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।

এখন মেহেন্দিগঞ্জের তালিকায়। ভু-রাজনীতির কারণে হিজলা থানা হয়েছে বহুবার ক্ষত-বিক্ষত। একে জেন জিনে আছর করেছে। ১৯৯০-৯১ সালে হিজলা উপজেলা মানচিত্র থেকে ছিড়ে মেহেন্দিগঞ্জের সাথে একভিূত হয়েছে গবিন্দপুর ইউনিয়ন। এর পরবর্তীতে কুচাইপট্রি (হরিনাথপুরের অংশ) শরিয়তপুর জেলার ঘোসাইর হাটের সাথে মিশে গেছে। শুধু রাজনৈতিক কারণে, রাজনীতির লাভের আশায়।

তৎকালিন এমপি ছিলেন বিএনপির এমপি মোশররফ হোসেন মঙ্গু। উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন আবুল বাশার মোঃ বশিরউল্লাহ। হিজলাবাসীর মনো কষ্ট থাকলেও তা বুঝতে পারেনি এমপিগংরা। তার পরেও মঙ্গু ছিলেন হিজলা-মুলাদীর জনগনের আর্শিবাদ – দেবতাতুল্য। সে আর্শিবাদ বেশিদিন টিকেনি। শেষ পরিষরে মঙ্গুর রাজনৈতিক দশা হয়েছে পঙ্গুত্বে।

আজ তিনি অসহায় !
এখন রাজনীতির স্বর্নযুগ। এ যুগে নতুনের আবির্ভাব খুব একটা লক্ষনীয়। রাজনীতি কখন যেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রুপ নিয়েছে। তা বুঝতে আমজনতার বেশী সময় লাগেনি। এটি এখন ব্যবসা আর বাণিজ্যিকিকরণ হয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে দাড়িয়েছে। পুরাতনদের বাদ দিয়ে নতুনদের জয় জয়কার। ইতিহাস বলে পুরাতনকে বাদ দিয়ে নতুন কিছু হতে পারে না। পুরাতনকে ভিত্তি করে নতুনত্ব আসতে পারে। হালে নৌকা এবং বৈঠা দুটি প্রতিকে আর্বিবুত হচ্ছে। মাঝে মাঝে নৌকা আনারসে কখনও ঘোড়ায় রুপ নিচ্ছে বলে দাবি করছেন ত্যাগী আওয়ামীলীগরা।

বিএনপি ঘরকুনো ব্যাঙ্গে পর্যবসিত হয়েছে। এক সময়ের আদর্শিক রাজনীতি এখন বাণিজ্যিকীকরণে পরিনত হচ্ছে। হাল সময়ে নৌকার পাল ছেড়া-বৈঠা ছাড়া–
ফিরে দেখা ২০০১ জাতীয় নির্বাচন-খোকা-টিপু-আলো আছেন ভালো ? মনে পরে ২০০১ এর জাতীয় নির্বাচন হিজলাগৌরব্দীর মাটিয়ালার স্মৃতি !
এক সময় আদর্শিক রাজনীতিতে প্ররায়ত শাহজান কাজী, মোহাম্মদ হোসেন স্যার এখন শুধু আওয়রীলীগের নিদর্শন- স্মৃতি। দলিলুর রহমান শিকদার, সুতান মাহমুদ টিপু, তোফাজ্জেল হক খোকা চৌধুরী, সিরাজুল হক আলো, মাষ্টার নেয়ামত উল্লাহ, এ্যাড: আফজালুল করিম সহ একাধিকের একটি রাজনৈতিক বেইজ ছিল। আর নৌকার মাঝি ঠিক করতে তাদের ছিল একান্ত চিন্তা-চেতনা। সে সময়কালে নৌকার হাল ধরে রাখার জন্য তাদের জীবন বাজি রাখতেও প্রস্তুত ছিল ঐ গ্রুপটি। জীবনের সেই ধুপ শিখা আজও বহন করে আছেন তারা।

২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রচারণা চালাতে গিয়ে হিজলার উপজেলার হিজলাগৌরব্দী ইউনিয়নের মাটিয়ালায়ালার মেঘনায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন খোকা চৌধুরী, সুলতান মাহমুদ টিপু, সিরাজুলহক আলো, আফজালুল করিম, দাদা ইসমাই মাষ্টার দাদাভাই, এনায়েত হোসেন হাওলাদার, মিলনসহ একাদিক ব্যক্তি। বঙ্গবন্ধুর নৌকা তখন ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল মাটিয়ালার মেঘনা নদীতে।

নৌকার মাঝি খোকা-টিপু-আফজাল- আলোকে চরের মাঝে ডুবিয়ে দিয়েছিল বিএনপির একটি মহল। খোকা চৌধুরী আমৃত্যু ভুলবেনা পাছার পোড়া দাগের কথা। ২০০১ সাল আর আজ ২০১৯ সাল। অনেক ব্যবধান। বন্ধু তোমার নৌকা তোমার আছে বৈঠা ধর ? হাল সময়ে হিজলা মেহেন্দিগঞ্জ নির্বাচনে নৌকা- বৈঠা নিয়ে কারা কারি। মাঝে মাঝে নৌকারুপ নিচ্ছে আনারস কষনও ঘোড়ায়, এর সুরাহাই বা ক ই।

সময়ের ব্যবধানে মঙ্গু এখন পঙ্গু- বন্ধ্যা হিজলা থানা আওয়ামীলীগ-ভাগাভাগিতে নৌকা-বৈঠা। কোনঠাসা হিজলার অবহেলিত আ ও য়া মী লী গ।