জুন মাস না যেনো করোনার চাষ?

Monday, June 15th, 2020

তাহেরুল ইসলাম সুমন,প্রভাষক বিএসসি ল্যাব(ডিইউ) ::  যে দেশে জুন মাস এলে ছোট থেকে বড় কর্তাদের ঘুম থাকে না কিভাবে সরকারের কোষাগার খালি করা যাবে, কিভাবে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে ৩০ তরিখের মধ্যে টাকা তুলতে হবে নইলে টাকা ফেরত যাবে সে দেশে প্রতিদিন হাজার মানুষ মরলেও সরকারের কিছু করার থাকে না!

নিজের জীবন থেকে শেখা তাই প্রথম থেকে শুরু করি – ২০০৫ বা ২০০৬ সালের কথা জুন মাস মানে টাকার বরাদ্দ শেষ করতে হবে কি কিনতে হবে প্রতি বিভাগের থেকে চাহিদা পএ চাওয়া হয় মে মাসে আমার বিভাগের প্রধান ছিল সৎ মানুষ তিনি যা প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি কিছু চাইতেন না, অফিসে ঠিকাদারের এজেন্সি সে বার বার স্যারে কাছে যায় বলে স্যার চাহিদা বাড়িয়ে দেন স্যার রাজি না কারন রোগী হবে সারাবছর ১০০ জন আর অফিসের লোকটি চাহিদা চাইতো ১০০০ জনের তাতে তার লাভ টাকা বেশি খরচ হবে তার কমিশন বেশি হবে ঠিকাদার বেশি লাভ করবে,

এ ভাবে ভুল বুজিয়ে কত কোটি টাকার রিজেন্ট যে ডেট অভার হইছে তা নিজের চোখে দেখেছি স্বাক্ষী চাইলে দিতে পারবো না কারন তখন সবাই ভয়ে অস্বীকার করবে তবে স্টোর চেক করলে দেখা যাবো কোটি কোটি টাকা ঔষধ পানি হয়ে পড়ে আছে ব্যবহাড় হয় নাই আবার ঔষধ কেনা হইছে কিন্তু বায়োকেমিস্ট টেস্ট করার মেশিন টি নস্ট তার মানে সম্বনহীনতা, আর সরকারের টাকা নস্ট করা!

এখন আসি চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টার, নিয়ে কথা বলি – চিকিৎসক কোয়ার্টার দেখলে কান্না পাবে বাউফল উপজেলা হাসপাতাল ডা নুপুর গাইনী কনসালটেন্ট কথা হল তিনি বললেন ভাই নিজে টাকা খরচ করে কোন মতে পানি পড়া বন্ধ করছি, বরিশালে চিকিৎসক কোয়ার্টার দেখলে মনে হবে ভুমিকম্প হয়েছে, যারা আছে একান্ত বাধ্য হয়ে সবাই আছে আর তারাই আমাদের জীবন বাঁচাচ্ছে, আল্লাহ পর তাদের স্থান কিন্তু তাদের থাকা ব্যবস্থা বাংলাদেশ সব ক্যাডারদের চেয়ে অনেক নিচে, মানুষের মৌলিক চাহিদা যদি পূরন না থাকে তার কাছ থেকে কিভাবে আমরা সেবা আশা করি!

এখন আসি তৃতীয় শ্রেনী বা নার্সদের কোয়ার্টার নিয়ে কিছু কথা- সরকারি অর্থ অপচয় কাহাকে তা এখানে সরজমিন পরিদর্শক না করলে বোজা যাবে না, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ স্টাফ কোয়ার্টার চানমারি তে সেখানে ১ বছর সাপ্লাই পানি বা খাবার পানি ছিল না, ২০১৯ কথা, একটা অস্থায়ী পাইপ দিয়ে ইন্টানি হোস্টেল থেকে একটা লাইন এনে মসজিদে পাসে স্থাপন করে, পরে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের জুন ফাইনাল টাকা দুটো লাইন স্থাপন করে দেওয়া হয় কিন্তু লাভ হয় নাই কোয়ার্টার বাসী পানি পায় নাই! তাদের উদ্দেশ্য টাকা খরচ সেটা ঠিকমত হয়েছে, পানির ট্যাক দুটো অযত্নে নস্ট হচ্ছে, তারপর আবার টেন্ডার আবার গভীর নলকূপ স্থাপন তারপর সমস্যা সমাধান! এই কাজটি প্রথমে করলে সরকারে ১০ লাখ টাকা বেচে যেতো!

তারপর আসেন বাসা মেরামত কথা বলি ২০১৯ সালের কথা – স্টাফ কোয়ার্টার মোট ফ্লাট যা তার তিন ভাগের দুভাগ খালি কেউ থাকেন না কারন বাসা ছোট বেসিক বেশি ভাড়া বেশি কাটে যাক যারা থাকেন তারা বাধ্য হয়ে থাকেন! ১৯ সালে জুন মাসে কাজ এলো করা হল এমন বাসায় যেখানে কারো নামে বরাদ্দ নেই খালি বাসা, টাইলস বসানো হল আমি অবাক হলাম সে বাসাটি এই দুবছর পযন্ত খালিই পড়ে আছে প্রশ্ন হল কেন খালি বাসা মেরামত হল, যারা কোয়ার্টার থাকে তাদের বাসা বসবাসের অযোগ্য তারা কি দোষ করলো?

এখন আসি ২০২০ জুন – করোনা মহামারি স্টাফ কোয়ার্টার ইন্জনিয়ার, ঠিকাদার দৌড় কাজ করতে হবে রিপিয়ারিং যে খানে সব লকডাউন তারা স্বাস্থ্য বিধি না মেনে কোয়ার্টার কাজ করছে কারন টাকা খরচ করতে হবে এই সময় কি খুব দরকার ছিল কোয়ার্টার রং করা? আসলে জীবনের চেয়ে বিল্ডিং রং করা টা বেশি দরকার আবার কিছু নার্স, স্টাফ এত রিস্ক মধ্যে বাসায় এত বাহিরে লোক প্রবেশ করতে দিল তাতে আমি অবাক হই নাই!

আজ ১৪/০৬/২০ সকালে অফিসে গেলাম দেখি ভাল মুজাইক পাথর ভেঙ্গে কাজ করছে, আমি অবাক হয়ে জানতে চাইলাম কি হবে, লেবার যারা তারা উওর দিলো টাইলস বসানো হবে! আমার প্রশ্ন হল যে দেশের মানুষ এখন এত অসহায় যেখানে সরকার এত কস্ট করছে করোনা রোগী টেস্ট, ঔষধ যোগাড় করতে সেখানে কিছু অর্থপিপাসু মানুষ অপ্রয়োজনীয় অর্থ নস্ট করছে,

আমি চিন্তা করছি এটা তো একটা বিন্দু পানির উদাহরণ দিলাম জুন ফাইনাল নামে কিছু নরপশু বাংলাদেশ কে ফাইনাল করছে এটা দেখার কেউ নাই, টাকা তো আমাদের যে টাকা খরচ হবে তা জনগণের কাজে আসতে হবে এবং যে জিনিস টা দরকার সেটাই কিনতে হবে যে জিনিস টা প্রয়োজন তাই করতে হবে নইলে চরম শাস্তি ব্যবস্থা করতে হবে এরা জাতির শত্রু

তাহেরুল ইসলাম সুমন
প্রভাষক বিএসসি ল্যাব (ডিইউ)
বরিশাল আইএইচটি