শক্তি বাড়াতে অস্ত্র কিনছে ভারত

Saturday, July 4th, 2020

                                                                                         ছবি: সংগৃহীত
বিজয় নিউজ:; ভারতের সঙ্গে চীনের সীমান্ত উত্তেজনা এখন চরমে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে চীনকে মোকাবেলায় সেনাশক্তি বাড়াতে প্রায় ৩৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের অস্ত্র ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে ভারত।

বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর এ অনুমোদন দিয়েছে ডিফেন্স অ্যাকিউজিশন কাউন্সিল।

এ অনুমোদনের আওতায় ৩৩টি যুদ্ধবিমান, একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কিনবে ভারত।

এর মধ্যে ২১টি মিগ-২৯ বিমান কেনা হবে রাশিয়া থেকে আর ১২টি সুখোই-৩০ বিমান কেনা হবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা থেকে।

এছাড়া বর্তমানে হাতে থাকা ৫৯টি মিগ-২৯ বিমানের উন্নয়ন ব্যয়ও অনুমোদন করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। শুক্রবার এনডিটিভি ও আলজাজিরা এ খবর দিয়েছে।

ডিফেন্স অ্যাকিউজিশন কাউন্সিল ভারতের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কেনাকাটার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ পরিষদ। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ২৪৮টি এএসটিআরএ ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ও অনুমোদন করা হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র সব আবহাওয়ায় শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছোটা বিমান বিধ্বস্ত করতে সক্ষম।

এছাড়া এক হাজার কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম নতুন পিনাকা ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ও অনুমোদন করা হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত প্রতিরক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করতে এসব সরঞ্জাম ক্রয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, নতুন যুদ্ধবিমান অধিগ্রহণ এবং এখনকার যুদ্ধবিমানগুলোর আধুনিকীকরণে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৩৮ হাজার ৯০০ কোটি রুপি। দ্রুততার সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই অধিগ্রহণ ও আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া শেষ করার উপরে বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর শক্তি বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সম্প্রতি রাশিয়া সফরে যান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

ওই সময় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময় নতুন যুদ্ধবিমান কেনা এবং এখনকার যুদ্ধবিমানগুলোর আধুনিকীকরণ নিয়ে সবিস্তার আলোচনা হয়। রাশিয়া থেকে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনা ও আধুনিকীকরণে সাত হাজার ৪১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

আর হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড-হ্যাল থেকে সু-৩০ এমকেআই কেনার জন্য খরচ ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। যুদ্ধবিমান ছাড়াও পিনাকা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, বিএমপি অস্ত্রের আধুনিকীকরণ এবং সেনাবাহিনীর জন্য সফটওয়্যার ডিফাইন্ড রাডার, ভূমিতে হামলার দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল সিস্টেম এবং বিমান ও নৌসেনার জন্য অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রস্তাবেও সবুজ সংকেত দিয়েছে ডিফেন্স অ্যাকিউজিশন কাউন্সিল।

এদিকে ২৭ জুলাই প্রথম ব্যাচে একসঙ্গে ছয়টি রাফাল যুদ্ধবিমান হাতে পেতে চলেছে ভারতীয় বিমান সেনা। গত মে মাসের শেষেই রাফাল জেট ভারতে চলে আসার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিলম্ব হচ্ছে।

অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে দেশের প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে মাঝারি ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পগুলোকে যুক্ত করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর জন্য কিছু প্রকল্পে দেশীয় পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ খরচ পড়েব। দেশের শিল্প ক্ষেত্রে ডিআরডিও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করায় উন্নত মানের অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। পিনাকা অ্যামিউনিশন, বিএমপি আর্মামেন্টের মানোন্নয়ন এবং সেনার রেডিও, স্থলভাগে অনেক দূরত্বে আঘাত করতে পারে এরকম ক্রুজ মিসাইল প্রায় ৮০ শতাংশ কম খরচে দেশে তৈরি করা হবে।

অস্ত্র তৈরির ডিজাইন এবং তার মানোন্নয়নের জন্য ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

নতুন এবং অতিরিক্ত মিসাইল তৈরি হলে তিন বাহিনীর শক্তি আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পিনাকা মিসাইলের মতো অস্ত্র স্থলভাগে বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম।

এক হাজার কিলোমিটার দূর থেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত করে পিনাকা মিসাইল। এ মিসাইল নৌ ও বিমানবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করবে।