আবরার হত্যার বিচার দাবিতে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে

Tuesday, October 8th, 2019

     আবরার হত্যার বিচার দাবিতে সকাল থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল বুয়েট। ছবি: সংগৃহীত

বিজয় নিউজ::  বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আন্দোলনে নেমেছেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। সোমবার রাতে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে আবরারের জানাজার পর বিক্ষোভ শেষে আন্দোলন করার ঘোষণা দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ঘোষণা মোতাবেক আজ সকাল থেকে ক্যাম্পাসে জড়ো হয়েছেন আবরারের সহপাঠীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আবরার হত্যার বিচার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন তারা। এসময় আবরারের খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে ফেস্টুন প্রদর্শন করেন তারা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে বুয়েট ক্যাম্পাস।

এর আগে সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল থেকে আবরারের লাশ বুয়েট ক্যাম্পাসে আনা হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে পরিবারের স্বজন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের উপস্থিতিতে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বুয়েটের অ্যাম্বুলেন্সে স্বজনরা আবরারের মরদেহ কুষ্টিয়াতে দাফন করাতে নিয়ে যান।

শিক্ষার্থীরা জানান, আবরারের জানাজায় পরিবারের সদস্যরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সহপাঠীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রায় দুই হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

জানাজার পর বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সামনে শিক্ষার্থীরা সমাবেত হয়ে খুনিদের ফাঁসি চেয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ সৃতি হল, কেন্দ্রীয় মসজিদ, তিতুমীর হল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলসহ কয়েকটি হল প্রদক্ষিণ করে তারা বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন।

ওই সমাবেশ থেকে আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করা হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলেও জানান আন্দোলনকারীরা। এরপর সমাবেশ শেষ করে তারা নিজ নিজ হলে ফিরে যান।

জানা গেছে, আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে চার দফা দাবি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করবে। দাবিগুলোর মধ্যে- আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বুয়েট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, মামলার সব ব্যয় প্রশাসনকে বহন ও আবরার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও বুয়েট শিক্ষার্থীর হত্যার পরও ভিসি কেন ক্যাম্পাসে আসেনি তার কারণ দর্শানোর দাবি তোলা হবে।

তবে দাবিগুলোর এখনো ঘোষণা করা হয়নি। আজকের বিক্ষোভে ঘোষণা করা হবে।

প্রসঙ্গত, রোববার রাত তিনটায় বুয়েটের শের-ই বাংলা হলে ‍ইইই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ছাত্রলীগ ১১ জনকে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করে।