আলোচিত যুবলীগ নেতা সম্রাট গ্রেফতার

Sunday, October 6th, 2019

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।                                                                                     ফাইল ছবি

বিজয় নিউজ:; অবশেষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কুমিল্লা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার তাকে আদালতে তোলা হবে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট চলমান ক্যাসিনো-জুয়াবিরোধী অভিযানের শুরু থেকে তাদের নজরদারির মধ্যেই ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও চালিয়েছিলেন। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে তিনি দেশ ছাড়তে পারেননি।

একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর চৌধুরী বাড়ি থেকে রাতে সম্রাটকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও গণমাধ্যমকে ব্রিফিং করা হয় নি। সম্রাটের সঙ্গে তার সহযোগী আরমানও গ্রেফতার হয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার সকাল পৌনে ৯টার দিকে চৌদ্দগ্রাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল্লাহ আল মাহফুজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমাদের নলেজে নাই।

এ ব্যাপারে র‌্যাব -১১ কোম্পানি কমান্ডার এএসপি মোহাম্মদ মহিতুল ইসলাম রোববার সকাল সকাল ৯টায় বলেন, এ বিষয়ে কুমিল্লা র‌্যাব কিছুই জানে না। হয়তোবা ঢাকার র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করতে পারে। আবার নাও করতে পারে।

প্রসঙ্গত আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ঢাকার জুয়াড়িদের কাছে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। জুয়া খেলাই তার পেশা ও নেশা। প্রতিমাসে ঢাকার বাইরেও যান জুয়া খেলতে।

সম্প্রতি রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন সম্রাটের ডান হাত হিসেবে পরিচিত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

এরপর ধরা পড়েন রাজধানীর টেন্ডার কিং আরেক যুবলীগ নেতা জিকে শামীম। এ দুজনই অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। প্রকাশ্যে চলে আসে সুন্দর অবয়বের আড়ালে সম্রাটের কুৎসিত জগত। এতে করে বেকায়দায় পড়েন সম্রাট।

এর পর গা ঢাকা দেন যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। আড়ালে থেকেই গ্রেফতার থেকে বাঁচতে নানা তৎপরতা শুরু করেন। ফন্দিফিকির শুরু করেন কীভাবে নিজেকে বাঁচানো যায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চ মহলের ‘গ্রিন সিগন্যালের’ অপেক্ষায় রয়েছিল।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন, ‘অপেক্ষা করুন, যা ঘটবে দেখবেন। আপনারা অনেক কিছু বলছেন, আমরা যেটি বলছি ‘সম্রাট’ হোক আর যেই হোক, অপরাধ করলে তাকে আমরা আইনের আওতায় আনব। ‘আমি এটি এখনও বলছি- সম্রাট বলে কথা নয়; যে কেউ আইনের আওতায় আসবে। আপনারা সময় হলেই দেখবেন।’