ঢাকাবাসীর রায়ের দিন আজ

Saturday, February 1st, 2020

বিজয় নিউজ:; ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগরপিতা কারা হচ্ছেন? নৌকা নাকি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী? দুই সিটিতে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্য থেকেই দু’জন মেয়র নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন- এমনটি মনে করছেন সাধারণ ভোটারসহ সংশ্লিষ্টরা।

আজ শনিবার ভোটারদের রায়ে চূড়ান্ত হবে আগামী পাঁচ বছর নগরবাসীর দেখভালের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন। পাশাপাশি নির্বাচিত হচ্ছেন দুই সিটির ১৭২ জন কাউন্সিলর।

এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) চলবে টানা ভোটগ্রহণ। এ উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই দুই সিটি নির্বাচনে জয়ী জনপ্রতিনিধিদের নাম ঘোষণা করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ওই ফলাফলে নির্ধারিত হবে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র কে- আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম নাকি বিএনপির তাবিথ আউয়াল এবং দক্ষিণ সিটির ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস নাকি ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

এ নির্বাচনে প্রমাণিত হবে দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ নাকি বিএনপি বেশি জনপ্রিয়। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতেই এ নির্বাচনে জয় পেতে মরিয়া প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

আর নির্বাচন সুষ্ঠু করার মধ্য দিয়ে ইসি ও ইভিএমের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও নির্ভর করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে এ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছেন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের অর্ধলক্ষাধিক সদস্য।

নির্বাচনী অপরাধ বিচারে রয়েছেন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের পরিবেশ ভালো রয়েছে জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। সুষ্ঠু নির্বাচনে রাজনৈতিক দলসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোকে আশ্বস্ত করে বলেন, প্রার্থীর এজেন্টরা কেন্দ্রে প্রবেশের পর তাদের দেখভালের দায়িত্ব ইসির।

দুই সিটির কয়েকজন নির্বাচন কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে যুগান্তরকে জানিয়েছেন, টানা ২১ দিন অনেকটাই নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার চালিয়েছে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য দলের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এ পর্যন্ত দুই সিটিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০টির মতো ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়েছে। তবে সার্বিক পরিবেশ ভালো ছিল। তবুও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। দুই সিটিতে বড় দুই দলের অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

এছাড়া মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণ ঘিরে টানটান উত্তেজনা থাকতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে তারা জানতে পেরেছেন। তবে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রিজার্ভ ফোর্স রাখা হয়েছে। ভোটের পরিস্থিতি মনিটরিংয়ে যেসব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা রয়েছে সেগুলো সচল রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুই সিটির ভোট পর্যবেক্ষণ করতে নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন কর্মকর্তাকে গোপন পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা সার্বিক পরিস্থিতি ইসি সচিবালয়কে অবহিত করছেন।

তারা আরও জানিয়েছেন, প্রথমবার দুই সিটিতে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এ মেশিনের কারিগরি সহায়তা দিতে প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২ জন করে মোট ৫ হাজার ১৫ জন সদস্য নিরস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করবেন। সব দলের প্রার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার চালাতে পারায় সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর তুলনায় ঢাকার দুই সিটিতে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে সব মিলিয়ে ৭৫০ জন প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে ঢাকা উত্তরে ৬ জন ও দক্ষিণ সিটিতে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি ৭৩৭ জন কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন।

মেয়র পদে মূলত আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

এ সিটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আরও রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন। বাকি মেয়র প্রার্থীরা হলেন- গণফ্রন্টের আবদুস সামাদ সুজন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আকতার উজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মো. আবদুর রহমান ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) বাহারানে সুলতান বাহার।

অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলামের সঙ্গে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির তাবিথ আউয়াল। এছাড়া এ সিটিতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন- কমিউনিস্ট পার্টির ডা. আহাম্মদ সাজেদুল, এনপিপির মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল- পিডিপির শাহীন খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ।

শুক্রবার সরেজমিন দেখা গেছে, ভোট উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স টহল দিচ্ছে। এসব বাহিনীর গাড়িতে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিমের নম্বরও সাঁটানো রয়েছে