ভারতকে সামান্য পানি দিচ্ছি,এতে হইচই করার কী আছে?সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

Wednesday, October 9th, 2019

                                                   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা                                                                              ফাইল ছবি

বিজয় নিউজ:: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ফেনী নদীর উৎপত্তি বাংলাদেশের খাগড়াছড়িতে হলেও এই নদীর বেশিরভাগ ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক নদী। আমরা সামান্য ১.১২ কিউসিক পানি দিচ্ছি ভারতকে। এ নিয়ে হইচই করার কী আছে?’

বুধবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। নিউ ইর্য়ক ও ভারত সফর নিয়ে বিভিন্ন সফলতা ও অভিজ্ঞতা জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতে গ্যাস রফতানির বিষয়ের প্রসঙ্গ তুলে যে সমালোচনা করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। বিদেশ থেকে আমদানি করা তরল গ্যাস বোতলজাত করে ত্রিপুরায় রফতানি করার পরিকল্পনা হয়েছে। এটি তো দেশের স্বার্থেই করা। ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগ উন্মুক্ত করা হয়েছে। তারা বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করে বোতলজাত করছে। অপরদিকে দিকে আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাসের খনি থেকে কিছু তেল উৎপাদন হয়। যা থেকে অকটেন, পেট্রল এবং তরল গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে। এই তরল গ্যাসই রফতানি করার পরিকল্পনা হচ্ছে। এখানে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে নয়।’

ভারতের সঙ্গে ফেনী নদীর পানি বণ্টনের চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ত্রিপুরায় যে পানি দেয়া হচ্ছে, তা হচ্ছে খাবার পানি। কেউ খাবার পানি চাইলে, তা যদি না দিই, তাহলে কেমন হয়!’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা আমাদের ঐতিহাসিক বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার মানুষ আমাদের আগলে রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছে। সেই ত্রিপুরায় সামান্য খাবার পানি দেয়ার জন্য আপত্তি থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দেশের কোনো স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করতে পারে না। গ্যাস বিক্রি করতে চাইনি বলে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। কিন্তু বিএনপি গ্যাস বিক্রির চুক্তি করার পরেই ক্ষমতায় আসে ওই সময়ে।’

এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪ তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউ ইর্য়ক সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বেশ কয়েক দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে’ অংশ নিতে ৩ থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত নয়াদিল্লি সফর করেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় এবং তিনটি যৌথ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।