আগের রাতেই ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ 007 এ রিফাতকে হত্যার নির্দেশ

Friday, June 28th, 2019

রিফাত শরীফ হত্যামিশন পরিচালনা করেছে 007 নামের একটি গ্রুপ। এই গ্রুপটির নামকরণ করা হয়েছিল জেমস বন্ড সিরিজের 007 নামের সাথে মিল রেখে। বন্ড গ্রুপের প্রধান নয়ন বন্ড এবং রিফাত ফরায়েজী সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে গ্রুপটি পরিচালনা করতো। এদের ফেসবুকভিত্তিক একটি ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে রিফাত শরীফকে হত্যাপরিকল্পনার নির্দেশনা দেয়া হয়।
ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে নির্দেশনা সম্বলিত কয়েকটি স্ক্রিনশট এই প্রতিবেদকের হাতে পৌঁছেছে।

এতে দেখা যায়, ঘাতক রিফাত ফরায়েজী আগের দিন রাত আটটার দিকে ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে 007 গ্রুপের সদস্যদের সরকারি কলেজের সামনে থাকার নির্দেশ দেয়। এসময় নামের প্রথমে Mohammad ও সাগর নামের একজন কোথায় থাকবে জানতে চায়। রিফাত ফরাজী তাদেরকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সকাল ৯টায় থাকতে বলে। রিফাত গ্রুপে দা’য়ের ছবি দিয়ে বলে, ‘পারলে এইটা নিয়া থাইকো’। Mohammad জবাবে ‘দা নিয়ে থাকবো’ বলে জানায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নয়নের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে 007 নামে একটি গ্যাং গ্রুপ কলেজ রোড, ডিকেপি, দীঘির পাড়, কেজিস্কুল ও ধানসীড়ি সড়ক এলাকায় তান্ডব চালিয়ে আসছে। গ্রুপের সদস্যরা 007 কে সংকেত ব্যবহার করত। ঘাতক নয়নের মোটরসাইকেল বাড়ির দেয়ালে 007 বন্ড লেখা থাকতো।

এই গ্রুপ কেজিস্কুল, ক্রোক ও ধানসীড়ী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে নানা অপরাধ কর্মকান্ড ঘটায়। বিশেষ করে পলিটকেনিক কলেজে অধ্যায়নরত ছাত্রদের মেসে এরা নিয়মিত হানা দিয়ে মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে টাকা পয়সা আদায়, ছিনতাই, ধানসীড়ি এলাকায় একসাথে ঘুরতে যাওয়া ছেলেমেয়েদের অপদস্ত করে টাকা আদায়সহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করতো বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২০১৭ সালে রাকিব নামের এক কিশোরকে কুপিয়ে যখম, পরের বছর ক্রোক এলাকার ফারুক পিয়াদার ছেলে জীবনকে কুপিয়ে জখমসহ বেশ কিছু ঘটনার সাথে এই 007 গ্রুপেরর সম্পৃক্ততা ছিল। এসব কাজে নয়ন সরাসরি অংশ না নিলেও তার নির্দেশনায় রিফাত ফরাজীর নেতৃত্বে গ্রুপটির সদস্যরা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতো। আর গ্রুপের নেতা নয়ন বন্ড মূলত মাদকব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের সাথেও গ্রুপটির সম্পৃক্ততা ছিল।

২০১৭ সালে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাদক ও বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরা পরে নয়ন। জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর ফের অপরাধে জড়িয়ে পরে সে। তার বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় আটটি মামলা রয়েছে।

ক্রোক এলাকার এক বাসিন্দা জানান, গত বছরের শেষ দিকে দীঘির পাড়ের একটি ম্যাচে হানা দিয়ে মোবাইল ও ল্যাপটপ ছিনতাই করে এই বাহিনী। পরবর্তীতে ভয়ে ১৫ জন ছাত্র মেস ত্যাগ করে চলে যায়। কেজিস্কুল এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, চুরি, ছিনতাই, লুটপাট সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা এই 007 বাহিনী করেনি।

ক্রোক স্লুইজ এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গতবছর জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষ এই গ্রুপকে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া করে। নয়নসহ অন্যরা আমার উপর হামলা করে। আমি এর বিচার পাইনি।’

এলাকার কাউন্সিলর শহীদুল ইসলাম নান্না বলেন, ‘ছাত্রদের মেস থেকে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনার বিচারের জন্য ডাকায় রিফাত ফরাজী তার বাবা দুলাল ফরাজীর সামনেই আমার উপর হামলার চেষ্টা করে। আমি তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ সব রাজনৈতিক নেতার দ্বারস্থ হয়েছিলাম। কিছুই হয়নি।’
আরও পড়ুন