উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নেবে বিএনপি

Saturday, September 7th, 2019

উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। শনিবার রাতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, আগামী ১৪ অক্টোবর ৮টি উপজেলায় নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে আমরা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিকাল ৫টায় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়। রাত সাড়ে ৭টায় মহাসচিব বৈঠক থেকে বেরিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আসামের নাগরিকপঞ্জির বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে সেখানকার মন্ত্রী, বিজেপি নেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের যে সব বক্তব্য ভারতের বিভিন্ন পত্রিকায় বেরিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, ১৯ লাখ যারা বাদ পড়েছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশ বাংলাদেশি নাগরিক। আমরা এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এ ধরনের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দুর্ভাগ্যজনক যে, সরকার এ ব্যাপারে নীরব থাকছেন। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন তখন তার সঙ্গে বৈঠকের পর আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে নিশ্চিত করেছেন এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। যখন বাদ পড়াদের বাংলাদেশের নাগরিক বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলা হচ্ছে তখন কিন্তু সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় থাকছে না। আমরা এই বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমরা বাংলাদেশের সরকারের কাছে এ ব্যাপারে পরিষ্কার ব্যাখ্যা চাই, ব্যাখ্যা দাবি করছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উদ্ধৃত্ত অর্থ সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনবে। এ থেকে প্রমাণিত হয়েছে- আসলে সরকার অর্থনৈতিক দিক থেকেও দেউলিয়া হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্যাংকগুলো, যে সব ব্যাংকে ওইসব প্রতিষ্ঠানের টাকা জমা আছে। যখনই টাকাগুলো নিয়ে যাবে তখন তারল্য সংকট দেখা দেবে ব্যাংকগুলোতে। এ ছাড়া যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ওইসব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তাদের যে সব বেতন-ভাতা, পেনশন-গ্রাচুয়েটির অর্থ তারা সঠিকভাবে পরিশোধ করতে পারবে বলে আমরা মনে করি না, সমস্যা তৈরি হবে।

মহাসড়কে টোল আদায়ের সরকারের সিদ্ধান্তেরও নিন্দা স্থায়ী কমিটি জানিয়েছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনও সেই অবস্থায় দাঁড়ায়নি যে, রাস্তার উপরে টোল আদায় করতে হবে। এতে করে জনগণের ওপর আরও একটা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। লন্ডন থেকে বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপে যুক্ত ছিলেন।