ফের দল গোছানোর কাজে আ’লীগ

Thursday, February 6th, 2020

বিজয় নিউজ: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শেষে ফের দল গোছানোর কাজে মনোযোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। মুজিববর্ষ সামনে রেখে জমে থাকা সব সাংগঠনিক কাজ আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ করতে চায় ক্ষমতাসীনরা। এরই অংশ হিসেবে আগামী ৬ মার্চের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা সম্মেলন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে কাজও শুরু করেছেন সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

আরও জানা গেছে, যুবলীগ ছাড়া সম্মেলন হওয়া অন্য সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়াও চূড়ান্ত হয়েছে। খুব শিগগির তা ঘোষণা করা হবে। এ ছাড়া ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা দেশে আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। ২০-২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার আগে একটি জেলার সম্মেলন হয়েছিল। তবে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর গত তিন মাসে আরও ২৯টি জেলার সম্মেলন হয়েছে। ফলে চলতি মেয়াদে এ পর্যন্ত আট বিভাগের ৭৮ জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ৩০টির সম্মেলন হয়েছে।

বাকি ৪৮ জেলা ও মেয়াদোত্তীর্ণ বাকি উপজেলার সম্মেলন শেষ করতে মঙ্গলবার তৃণমূলে চিঠিও পাঠানো হয়। এতে বলা হয়েছে- যেসব সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন হয়েছে, অতিদ্রুত সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দফতরে জমা দিতে হবে। এবং সেসব জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেসব জেলার সম্মেলন সম্পন্ন করতে হবে।

এ ছাড়া আগামী ৬ মার্চের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক উপজেলা/থানা/পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও ইউনিটগুলোর সম্মেলন শেষ করার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ইতিমধ্যে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথাবার্তাও বলতে শুরু করেছেন। দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় এ বিষয়ে একাধিকবার আলোচনাও হয়েছে। সেখানে বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা তাদের বিভাগের সাংগঠনিক অবস্থা ও পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন।

এদিকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচন শেষ করেই আবার মাঠে নেমে পড়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। মঙ্গলবার ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রংপুর বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ৬ মার্চের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও উপজেলার সম্মেলন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জেলা নেতাদের। এ ছাড়া রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন ও জেলায় জেলায় সাংগঠনিক সফরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্য বিভাগের বিভাগীয় বর্ধিত সভা বা কর্মিসভা আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। সেখান থেকেই চূড়ান্ত হবে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা সম্মেলনের তারিখ।

জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বুধবার বিকালে বলেন, আমরা জেলার প্রতিনিধি সম্মেলনের মধ্য দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও উপজেলার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করব। বৃহস্পতিবার (আজ) থেকে এটা শুরু হবে। আমরা এদিন রাজশাহী জেলা ও মহানগরের প্রতিনিধি সম্মেলন করব। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা-উপজেলার সম্মেলন শেষ করতে পারব।

খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদকের (ওবায়দুল কাদের) সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা শিগগির বিভাগীয় বর্ধিত সভা করব। সেখানে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। কোনো সমস্যা থাকলে তা-ও সমাধান করা হবে। নির্ধারিত সময়ের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলার সম্মেলন শেষ করতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সফর শুরু করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে তৃণমূল পর্যন্ত দলকে সংগঠিত করতে চাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে এটাই আমাদের দীপ্ত অঙ্গীকার।

একই বিষয়ে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, আমরা ইতিমধ্যে জেলা-উপজেলায় কথা বলেছি। তাদের নির্দেশনা দিয়েছি। তারাও প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা সম্মেলন শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৬, ৯, ১৬, ২৩ ও ২৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে সংগঠনগুলোকে সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য বলা হলেও তা এখনও শেষ হয়নি। তবে কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ ইতিমধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দিয়েছেন। খড়সা প্রস্তুত করে রেখেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগও। আর যুবলীগ পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করলেও অদ্যাবধি শেষ হয়নি কমিটি গঠনের কাজ।

জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বুধবার বিকালে বলেন, আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া রেডি হয়ে গেছে। ইতালি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে কমিটির তালিকা তার কাছে জমা দেয়া হবে।

কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র বুধবার বিকালে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি- কৃষক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার ইতালি যাওয়ার আগে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিসহ সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি করতে মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। দলীয় সভাপতির এই সাংগঠনিক নির্দেশনা নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক আলাপ-আলোচনাও করেছেন। পরে মোবাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে এমন নির্দেশনা পৌঁছে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি বুধবার বিকালে বলেন, সিটি নির্বাচনের ব্যস্ততা শেষ হয়েছে। আমরা শিগগির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ শুরু করব। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন- এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, ১৫-২০ দিনের মধ্যে আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটা শেষ করতে পারব বলে আশা করি।

একই বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ওবায়দুল কাদের) আমাদের দক্ষিণের সভাপতির (আবু আহাম্মদ মন্নাফী) সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি ২১ তারিখের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে বলেছেন। আমরা দু-একদিনের মধ্যে এই বিষয়ে কাজ শুরু করব।
ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকার দুই র্সিটি নির্বাচন-২০২০