বরিশাল অবৈধ চরগড়ায় মাছ শিকার:ধ্বংস হচ্ছে জীব বৈচিত্র

Sunday, December 1st, 2019

সাইফুল ইসলাম, হিজলা :: বরিশালের হিজলায় অবৈধ চরড়গায় ধরছে মাছ। ধ্বংস হচ্ছে প্রানীজ জীব বৈচিত্র। প্রশাসন নিরব-সরব জেলেরা। বর্তমানে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান চলছে। তবে মাঠে নেই প্রশাসনের উপস্থিতি। মনে হচ্ছে এ যেন প্রশাসনের সহযোগিতা। ২৭ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর/১৯ পর্যন্ত হিজলা উপজেলার চর গুলো এখন চরগড়ার জেলেদের দখলে। যে দিকে চোখ পড়ে সেখানেই মশারীর বেড়া।

এ যেন ডেঙ্গু প্রতিরোধে নেমেছে জেলেরা। একটু কাছে গেলে বোঝা যাবে নেট জাল বা খুটি জাল দিয়ে কয়েক শত মাইল আটকে দিয়েছে মাছ ধরার জন্য। জো বুঝে জোয়ারের আগ মুহুর্তে জেলেরা মেঘনার চরগুলোতে একযোগে মাইলের পর মাইল এভাবে আটকে দিচ্ছে ছোট মাছ ধরার জন্য। এটি বৈধ না অবৈধ এ বিষয়ে জেলেরা বলছে-প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা ব্যবসা করে যাচ্ছেন।

দিন কয়েক আগে ভোলার ইলিশা ঘাটে হাঙ্গরের পোনা শিকার নিয়ে আনন্দে মেতে উঠে প্রশাসন। আর তার পাশে হিজলা উপজেলার চরগুলোতে বেড়াদিয়ে মাছ শিকার করছে। এ কোন তামাশা। হিজলা উপজেলা সকারী মৎস্যকর্মকর্তা, নৌ পুলিশ, কোষ্টগার্ড বলছেন তারা অবৈধ বেড় জাল, বাধাজাল, কারেন্টজাল আটকের জন্য তৎপর রয়েছেন।

প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে এদের ব্যবসা। কারেন্টজাল এবং চরগড়া অবৈধ জাল হলেও হিজলায় এটি বৈধ বলে জানিয়েছে জেলেরা। মাঝেমধ্যে অভিযান হলে সে সময় সবুজ সংকেত চলে যায় জেলেদের কাছে। আর এ সংকেত পৌছে দেন উপজেলা নৌ পুলিশ কর্মকর্তা বেল্লাল হোসেন। কখনও কখনও জেলেদের জাল পাতার সময়, মৌসুম ভেদে ঐ সময়ে তিনি থাকে ছুটিতে অথবা আত্মগোপনে। ২৭ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেড়জালের জেলেদের মাছ শিকারের মোক্ষম সময়। এ সময়ে নৌ পুলিশের আই সি বেল্লাল নেই দপ্তরে। তিনি রয়েছেন কর্ম¯’লের বাইরে।

জেলেদের অভিযোগ মাসোহারা দেই, মাছ ধরি, মাসোহারা ছাড়া মাছ ধরা মোটেও সম্ভব না। এখানে অবৈধ দেখছেন কোথায়। এমন প্রশ্ন বেড়জাল মালিক হালান হাওলাদার, রকমান চোকদার, বেল্লাল মিশোরী সহ একাধিক জেলের।। হিজলার কাইছমা বাজার, মৌলভীর হাট, পুরাতন হিজলা বন্দর, বাউশিয়াসহ হিজলাগৌরব্দীর বিশাল চর দখল করে আছে অবৈধ নেটজাল ব্যবসায়ীরা। নদীর পাড়ে দাড়ালে মনে হবে নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করছেন জেলেরা। আসলে এটি চরগড়া। মাইলের পর মাইল নদীতে বেড়া দিয়ে ছোটজাতের লাভরা মাছ শিকার করছে তারা।

 

আর মাসোহারা খাচ্ছে নৌ পুলিশ, কোষ্টগার্ড, উপজেলা মৎস্য অফিস সহ প্রশাসনের লোকেরা। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি উপজেলার মৎস্য অফিস, কোষ্টগার্ড এবং নৌ পুলিশ তিনটি দপ্তর কাছাকাছি থাকতেও এই অবৈধ জাল বন্ধ করতে পারছে না প্রশাসন। খোদ কোষ্টগার্ডের অফিসের সাথে বেল্লাল মিশোরী, হালান সরদারসহ একাধীক ব্যাক্তি বেড় জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে। কোষ্টগার্ডেও পল্টুনে দাড়ালে সে দৃশ্য চোখে পরে। তারাই দেখছে না। আসল ব্যাপার কী ? এটি প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া বৈ কি ?

স্থানীয় অসহায় জেলেদের অভিযোগ নৌপুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ বেল্লাল হোসেন মাসোহারার মাধ্যমে রড় রড় জেলেদের নৌকা এবং জাল আটক করে না। করে গরিব অসহায় জেলেদের জাল আটক করে। যা শুধু লোক দেখানো অফিসকে খুশি করার জন্য। ইনচার্জ বেল্লালের ঐ নেটওয়ার্কে রয়েছে বাউশিয়া বেড়জালের হানিফ, হালান হাওলাদার, কালা বেপারী, হালান হাওলাদার, কাদের গাজি, বেল্লাল মিশোরী, বাদশা মোল্লা, নাসির ফকির, আলীগঞ্জের আমির সরদার, চর কিল্লার রকমান চোকদার, শাহআলম দেওয়ান,হিজলাগৌরব্দীর আলাউদ্দিন দফাদার, ইসমাইল সরদার, তৈয়ব মুন্সী সহ একাধিক চরগড়া বা বেড় জালের এবং কারেন্ট জালের মালিক। মাস গেলেই এরা বেল্লালকে খুশি করে তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে মাছ শুন্য হয়ে পড়েছে হিজলার নদ নদী।

অভিযোগ রয়েছে চিংড়ির রেনু পোনা বিক্রেতা জসিম সরদারের সাথে অনৈক ব্যবসা রয়েছে নৌ পুলিশের ইনচার্জ বেল্লাল হোসেনের। সিজনের আগেই তাদের সাথে একটি চুক্তি থাকে চিংড়ি ব্যবসায়ীদের। মাসিক মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ইনচার্জ বেল্লাল হোসেন তাদের পার করে দেন। এদের নিরাপদ রুটে হানা না দিয়ে নামকাওয়াস্তে অভিযানে নামেন মেঘনায়। বর্তমান জাটকা ইলিশ মৌসুম। এখন চলছে জাটকা ইলিশ সংরক্ষণ মৌসুম এর সাথে রয়েছে বেড়জাল বা চরগড়া বাওয়ার মোক্ষম সময়।

এ মৌসুমেও ঐ জেলেদের একটি সংযোগ রয়েছে নৌ পুলিশ ইনচার্জ বেল্লাল হোসেনের। ইতোমধ্য জসিম সরদার, আলাউদ্দিন দফাদার, হালান হাওলাদার, বেল্লাল মেশোরীকে নৌ পুলিশের দপ্তরে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। তবে তাদের অফিসে কাজ কি এমন প্রশ্নে এড়িয়ে যান জসিম সরদার সহ একাধিক বেড়জালের মালিকদের।

হিজলার নদ-নদীতে অভিযান থাকলেও তা নামকাওয়াস্তে – লোকদেখানো। মোবাইলের মাধ্যমেই চলে আসে চাঁদার টাকা। কখনও কখনও ইনচার্জ বেল্লাল হোসেন নিজেই অফিসে ডেকে এনে তাদের কাছ থেকে চাঁদার টাকা আদায় করে নেন বলে অভিযোগ জেলেদের। নাম প্রকাশে অনি”ছুক একাধিক জেলে জানান অফিস খুশি করতে, উর্দ্ধতন কর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা নেন তিনি। একটি সূত্রে জানা গেছে হিজলা উপজেলার মেঘনায় দের শতাধিক মাছ ঘাট রয়েছে। শতাধিক রয়েছে বাধা জাল। বিশাল আকৃতির বেড়জাল বা চড়গড়া রয়েছে একশোর অধিক। এক একটি চড়গড়া মাইলের পর মাইল চলে যায় চরের মধ্যে। মনে হয় এ যেন মেঘনা নদীতে বাধ দিয়ে মাছ চাষ পদ্ধতি।

তাদের কাছ থেকে মাস ভিত্তিক চাঁদা আদায়ে নিয়ন্ত্রনে রয়েছে নৌ পুলিশের মাঝি, কোষ্টগার্ডের মাঝি এবং মৎস্য দপ্তরের মাঝিরা। অভিযোগ বিষয়ে হিজলা থানা নৌ পুলিশের আই সি বেল্লাল হোসেন জানান, কিছু সংক্ষক লোক অভিযোগ করতেই পারে। তবে তার পক্ষ থেকে নদী থেকে কোন চাঁদা আদায় হয় না। হিজলা উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবি জেলে সমিতির সভাপতি এনায়েত হোসেন হাওলাদার জানান- এ বিষয়ে মন্তব্য করব কি।

প্রশাসনকে অনেকবার বলা হয়েছে কোন ফল পাইনি। জাতীয় মৎস্যজীবি জেলে সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন মাতুব্বর জানান, তিনি এ বিষয়ে সে”চার। ইতোমধ্যে নৌ পুলিশ, কোষ্টগার্ড, মৎস্য দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা হিজলার জলদস্যু, অবৈধ মাছ আহরণকারীদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেন দেখা যাক।