রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি ১০ দিনের রিমান্ডে

Saturday, July 25th, 2020

বিজয় নিউজ:: করোনার নমুনা পরীক্ষা না করে মেট্রো রেলের ৭৬ শ্রমিককে ‘নেগেটিভ’ প্রতিবেদন দেয়ার মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমানকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মইনুল ইসলাম এই রিমান্ড আদেশ দেন।

এর আগে আসামি মিজানকে আদালতে হাজির করে তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই ইয়াদুর রহমান। শুনানি শেষে বিচারক এই রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হীরণ।

গত ২০ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় মেট্রো রেলের একটি সাব-কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রেজাউল করীম নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ও এমডি মিজানুর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। ইতিমধ্যেই সাহেদ গ্রেফতার রয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, রিজেন্ট হাসপাতাল মেট্রো রেলের ৭৬ জন কর্মীর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে। এজন্য মাথাপিছু সাড়ে ৩ হাজার টাকাও নেয় হাসপাতালটি। কিন্তু পরীক্ষা না করেই করোনা ‘নেগেটিভ’ রিপোর্ট দেয়া হয়। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেছে।

এই মামলায় গেল শুক্রবার রাতে গোপালগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় মিজানুরকে।

প্রসঙ্গত, সরকারের সঙ্গে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে টাকার বিনিময়ে করোনাভাইরাস শনাক্তের নমুনা সংগ্রহ করা এবং ভুয়া সনদ দেয়ার অভিযোগ ৬ জুলাই র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায়।

অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। পরে রোগীদের সরিয়ে রিজেন্টের উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেয়া হয়।

পরদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে মো. সাহেদকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে। সে মামলায় ৯ দিন পর আত্মগোপনে থাকা সাহেদকে ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তার সহযোগী রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদ পারভেজকেও গ্রেফতার করা হয়।

তবে গত ৬ ও ৭ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর সাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করে প্রতারণার যে মামলা করা হয়েছিল সে মামলায় মিজানুর রহমানের নাম ছিল না বলে জানান উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন কুমার সাহা।