হিজলার অভায় আস্ত্রমে ইলিশ উৎসব-চলছে কমিশন বাণিজ্য

Monday, April 27th, 2020

হিজলা প্রতিনিধি ::  হিজলা উপজেলার নদ-নদীতে সরকার ঘোষিত দুই মাসের অভায়াস্ত্রম। ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছ শিকার নিষিদ্ধ। শুধু মাছ মারা নয় জলাশয়ে সকল প্রকার মাছধরার সরঞ্জামাদি ফেলা নিষিদ্ধ। হিজলার অভায়াস্ত্রমে হচ্ছে টা কি ? প্রশাসন ই বা করছেটা কী ? কমিশনের টাকাই বা হচ্ছে কোথায় ? অভিযানে মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্রামে। এমন প্রশ্ন এখন মুখে মুখে।

পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট দুই মাস চলছে হিজলার মেঘনায় অভায় আস্ত্রম- ইলিশ শিকার সহ সকল ধরণের মাছ ধরা, সংরক্ষণ, বেচা-কেনা নিষিদ্ধ। হিজলা উপজেলা প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এখানে সরকারী প্রশাসন যন্ত্র ঘুমিয়ে। জেলেদের কর্মজজ্ঞ চলছে তো চলছে ই। কেউ ইলিশ নিয়ে ব্যস্ত- কেউ ইলিশ ধরার সরঞ্জামাদি নিয়ে ব্যস্ত, কেউ জাল নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে ব্যস্ত, কেউ আহরিত মাছ ঘাটে এনে মহাজনের কাছে বিক্রিতে ব্যস্ত। এ যেন ভিন্ন এক জগত। আরতদার-মজুতদার- ব্যাবসায়ী-মাছ শিকারী প্রত্যেকেই যার যার কাজে ব্যস্ত। ঠেকানোর কেউ নেই। নেই এর কোন প্রতিকার। উপজেলার একমাত্র ইলিশ শিকারের উত্তম যায়গা হিজলাগৌরব্দী, হরিনাথপুর, ধুলখোলার বিশাল মেঘনা।

ইউনিয়ন গুলোতে রয়েছে ছোটবড় শতাধীক মাছ ঘাট। এর কোনটি ই খালি নেই। প্রত্যেকেই ব্যাস্ত নিজ নিজ কর্মে। মাছ শিকার করছেন তো করছে ই। তারা জানে না অভায়াস্ত্রম কাকে বলে। ইউনিয়নের আলামপুর, সাত নম্বর মাছ ঘাট, অন্তরভাম, বালুরচর, সহ বিভিন্ন স্থানে এখন খোলা বাজারে ইলিশ শিকার- বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। অবাধে মাছ চলে হচ্ছে শরিয়তপুরের ঠান্ডা বাজারে। রুট ব্যবহার হচ্ছে হরিনাথপুরের কুলারগাও, নাছকাঠি আবুপুর, চরমাইজারীসহ নানা যায়গায়। সেখানেই নেই প্রশাসনের নজরদারি।

সরকার আছে সরকারের প্রজ্ঞাপন আছে-নেই বাস্তবায়ন। শতাধীক মাছ ঘাট। এখানে আহরিত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার ইলিশ। প্রত্যেকেই সরকারী দলের লোকজন। তাদের থামানো এখন সময়ের ব্যাপার। বিগত দিনগুলোতে অভিযানের সময় মাছঘাট বন্ধ, বন্ধ ছিল স্থানীয় বরফকল। এবারের প্রেক্ষাপট সেই রকম নেই। যার যার ক্ষমতা মতো চালিয়ে হচ্ছে মাছ শিকার, মাছ আহরণ, মাছ বিক্রি, মজুত কার্যক্রম।

এমন অভিযোগে কেন্দ্রীয় জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন মাতুব্বরের তিনি জানন-বিগত বছরে মেঘনায় আমাদের ভুমিকা ছিল। এ বার তা নেই। প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার কারণে পেরে উঠছি না। হিজলা উপজেলা জাতীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি এনায়েত হোসেন হাওলাদার, স্থানীয় জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি জাকির শিকদার, সাধারন সম্পাদক আবুল বাশার বাঘার। তাদের অভিযোগ কোষ্টগার্ড, নৌ পুলিশ, মৎস্য অফিস তো তাদের পাত্তাই দিচ্ছেন না। সরকারের প্রজ্ঞাপন থাকলে তা কাগজে আর কলমে।

কমিশণ বাণিজ্য তো তারাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে। কোষ্টগার্ড অভিযান শেষে দালালের হাতে মাছ তুলে দি”েছ। ঐ মাছ বরিশালে বিক্রি করছে আবুল নামের ব্যাক্তির মাধ্যমে। অভিযানতো মৎস্য, কোষ্টগার্ড, নৌ পুলিশের একটি উৎসব বাণিজ্য।

অভায়াস্ত্রমকে কেন্দ্র করে এখানে চলছে লুট এবং পাট। সুবিধা অনুযায়ী যে যার মতো চলছে। নেই কোন বাধা ধরা। প্রশাসন যন্ত্রকে খুশি করতে ঘাট মালিকরা এবার ঘাটগুলোতে জেলেদের উপর চাপিয়ে ধরছেন বাড়তি টাকা। এক শত টাকার মাছ বিক্রি করতে গেলে প্রত্যোক জেলেকে বাড়তি গুনতে হচ্ছে বিশ টাকা। এর বাহিরে পাইকারদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে শতকরা আরও বিশ টাকা। মোট চলিলশ টাকা জমা হচ্ছে জন প্রতি।

এ টাকার মালিক ঘাটসরকার। এতো টাকা হচ্ছে কোথায় বা কমিশনের মুল টাকাই বা কত ? সাধারণ জেলের ইয়াছিন, মাছঘাট মালিক জাহের আকন জানান মাছঘাটের সরকার তৈয়ব আলী (মুন্সি), আলাউদ্দিন, তাহের, জসিম সরদার, কবির, ইসমাইল, বসির, সেলিম, ইউসুফ, বাদলগাজি- এদের প্রত্যেকের মাছ ঘাটে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার মাছ। সেখানে চলছে কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য।

এই কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যর টাকা হচ্ছে কোথায় ? একটি দুটি নয়- হিজলাগৌরব্দী সহ শতাধীক মাছ ঘাট নিয়ন্ত্রন করেন তৈয়ব আলী মুন্সি। তিনিই কমিশনের টাকা নিয়ন্ত্রন করেন।

এখানে মাছঘাটে সরকারকে রাজস্ব দিতে হয় না। তাই ঐ টাকা সরকার যন্ত্রকে খুশি করতেই ব্যবহৃত হচ্ছে । সরকারী কোষাগারের পরিবর্তে মৎস্য, কোষ্টগার্ড, নৌ পুলিশের পকেটে হচ্ছে কাঁচা কাঁচা টাকা। বছর শেষে অভিযান এলেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে সরকার যন্ত্রের কর্মকর্তা, কর্মচারি, মাছ ব্যবসায়ী, দালাল, ঘাটসরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলে। আসলে অভায়া¯্রমের মধ্যে হিজলার মেঘনায় হচ্ছে টা কী ? কেনই বা প্রশাসন যন্ত্র ঝিমিয়ে————?