
আপডেট: আগস্ট ১৮, ২০১৯
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একদিকে স্বামীর লাশ অন্য দিকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার আহত একমাত্র ছেলেকে দেখে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান স্ত্রী হালিমা বেগম (৫৬)।
মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শনিবার রাতে উপজেলার ভাড়রা গ্রামে হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ভাড়রা গ্রামের মো. আজমত মিয়া (৭০) শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে স্থানীয় সন্ত্রাসী হামলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই আজমত মিয়ার একমাত্র ছেলে সুমন (২০)। সুমন তার বাবা আজমতের মৃত্যুর এ খবর পেয়ে লাশ দেখতে বাড়িতে আসেন।
এ সময় আজমত মিয়ার স্ত্রী হালিমা বেগম তার চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যেই স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পান তিনি। সেখান থেকেই বাড়িতে ফেরত আসেন। রাত ৮টার দিকে বাড়িতে এসে স্বামীর লাশ আর আহত ছেলের অবস্থা দেখে হালিমা বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
স্থানীয় সমাজসেবক মো. নজরুল ইসলাম জানান, নিহত আজমত মিয়া এলাকার অত্যন্ত নিরীহ ব্যক্তি ছিল। একই দিনে এক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা।
নিহত হালিমার ভাই আবদুর রহিম মাস্টার জানান, একদিকে স্বামীর লাশ অন্যদিকে স্থানীয় সন্ত্রাসী শাহীন, রিপন মিয়া ও আলাউদ্দিন দ্বারা হামলায় আহত একমাত্র ছেলে সুমনকে দেখে প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পায় হালিমা। এ ঘটনায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সে মারা যায়। ওই রাতেই সামাজিক কবরস্থানে স্বামী-স্ত্রীর লাশ দাফন করা হয়।
নাগরপুর থানার ওসি আলম চাঁদ বলেন, ভাড়রা গ্রামে হৃদয়বিদারক স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহতের ছেলে সুমনের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ পেলে দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।