২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

হিজলায় মেলকারের অদৃশ্য শক্তির কাছে জিম্মি গুয়াবাড়িয়া ও বড় জালিয়ার সাধারণ কৃষক

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬


বিজয় নিউজ ঃঃ মেলকারের অদৃশ্য শক্তির কাছে দুই ইউনিয়নের মানুষ।  বিএনপি নেতার আত্মী বলে কথা। থানায় অভিযোগ করে প্রতিকার পাননি খোকন তালুকদার। বিচারের আশায় ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে।

আওয়ামী লীগ নেতার অত্যাচারে শ্রীপুর এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। বলছিলাম শহিদুল ইসলাম মেলকারের কথা। তিনি আওয়ামী লীগের সময় দাদার লোক। এখন বিএনপির আত্মীয়। জনৈক নেতার ঘনিষ্ঠজন। তার দাপটে অতিষ্ঠ গুয়াবাড়িয়া এবং বড় জ্বালিয়া ইউনিয়নের মানুষ।
শহিদুল ইসলাম আওয়ামী লীগ নেতা হয়েও এলাকার মানুষকে বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার করে আসছে । ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ঠিক ঐদিন মেলকার বেশ কজন জমির মালিকের মাটি কেটে নিয়ে যায় ইট ভাটায়। এ নিয়ে উভয়পক্ষে চলে হামলা।


স্থানীয় আইয়ুব আলী জমদ্দার  জানান, তার  ক্রয়কৃত জমি, দলিল সূত্রে মালিক। ওই জমির মাটি ইট ভাটার জন্য কেটে গর্ত করে ফেলে মেলকার । বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আমিন দিয়ে পরিমাপ করা হলে জমির মালিক হন আইয়ুব আলী  নিজেই । বিচার চাইতে গিয়ে নিজেই এখন জীবন শঙ্কায় ভুগছেন। মেলকার ও তার পরিবার তাকে হত্যার জন্য হন্যায় হয়ে ঘুরছে। প্রশাসনের কাছে বিচার চাইছেন কিনা এমন প্রশ্নে আইয়ুব আলী জানান, প্রশাসন তার লোক। আমরা টাকা দিতে পারি না তাই আমাদের কথা কেউ শোনে না। মামলা করে নিজেরাই ক্ষতির মধ্যে পতিত। প্রশাসনো আমাকে টাকার জন্য চাপ দিবে। তিনি আওয়ামী লীগের সময় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের লোক এবং এখন বিএনপি’র প্রভাবশালী নেতার আত্মীয়। তাকে রোধ করা কঠিন।
স্থানীয় হিরন শিকদার দাবি করেন একই কথা। তারা এখন মেলকার পরিবারের কাছে জিম্মি। উনিশ থেকে বিশ হলেই তাদের পরিবার অস্ত্রসহ নেমে পড়েন যুদ্ধ করতে। ক্ষমতা অর্থ এদের বড় সম্পদ। প্রশাসন ও শহীদ মেলকার পরিবারকে সমীহ করে চলে।
ইসলামী আন্দোলনের নেতা জনাব গোলাম মোস্তফা খোকন তালুকদারের দাবি রেজিস্টারীকৃত জমির মাটি কাটিয়া নিয়ে যায় শহিদুল ইসলাম নেলকার। প্রতিবাদ করতে গেলে তার উপরে হামলা চালায় মেলকার পরিবার ও তার লাঠিয়াল বাহিনী।
গত একুশে ফেব্রুয়ারি বেলা ১১ টার দিকে গোলাম মোস্তফা খোকন তালুকদার, স্থানীয় আমিন নিয়ে জমি মাপতে আসেন। তখন শহিদুল ইসলাম মেলকার  তার লোকজন নিয়ে খোকন তালুকদার এর উপর আক্রমণ করতে আসেন। তখন স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে।  স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার কথা বলে মেলকার। পরবর্তীতে ওই শালি মীমাংসা থেকে বিরত থাকেন মেলকার।
পরবর্তীতে গোলাম মোস্তফা খোকন তালুকদার হিজলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ।  স্থানীয়ভাবে জানা যায় শহিদুল ইসলাম মেলকার এর আগে পশ্চিম এবং পূর্ব ডাইয়া মৌজার শতশত একর জমি ইট ভাটার জন্য জোর জবরদখল করে নিয়ে যান। স্থানীয়রা বরিশাল ডিসি অফিস এবং আদালতে মামলা করেও পরিত্রাণ পাননি।  তাই এলাকাবাসীর দাবি প্রশাসন যেন এই অন্যায়কারিকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান করেন।

অবশ্য শহীদ মেলেকারের দাবী, তিনি তার নিজের জমি থেকে মাটি কাটছিলেন। এ নিয়ে বসার কোন প্রয়োজন নেই।
মামলার বিষয় এস আই মোরশেদ আলম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি ঘটনাস্তার পরিদর্শন করেন। ভেকু দিয়ে ইট ভাটার জন্য মাটি কাটছিলেন শহীদ মেলকার। মাটি কাটার স্থান উভয় পক্ষ দাবি করছে। সীমানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত মাটিকাটা বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

66 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন