
আপডেট: ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯
বিজয় নিউজ ডেস্ক :: বরিশালের হিজলা উপজেলা সদরে-অন্ধরে প্রভাবশালীদের অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ। হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও জনজীবন। চাষি হারাচ্ছে তার তিন ফসলি জমি। নির্মল পরিবেশ এখন বিপন্নের পথে। আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যায় সহযোগিতায় ইটভাটার মালিকপক্ষ তাদের অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
বিষয়টি না দেখার ভান করছে উপজেলা, জেলা প্রশাসন এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তরও।
“ইটপোড়ানো (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন আইন ২০১০ এর ৪৫৬ উপ-ধারায় বলা আছে, আবাসিক এলাকা, উপজেলা সদর, ফসলের বাগান, ফসলি জমি, বনাঞ্চল, লোকালয় ও জনবসতি এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।” হিজলা উপজেলা পরিষদের পার্শ্বে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ইটভাটা। ভাটা লাগোয়া হিজলা কোস্টগার্ডের অফিস ও পল্টুন, পার্শ্বেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অপরদিকে সম্পূর্ণ ভাটা অবৈধ।
সরকারি খাসজমি দখল করে জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে ভাটা কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে নজর নেই প্রশাসনের। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ভাটার কালো ধোঁয়া পোহা”েছ কোস্টার্ড কর্তৃপক্ষ ও অবুঝ কয়েক শত শিশু শিক্ষার্থীবৃন্দ। এ বিষয়ে দায় নেই রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের। এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তারা এর লাভের টাকায় আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে।
হিজলা উপজেলায় অর্ধশতাধিক ইট ভাটা। এর সিংহভাগ সরকারী খাস খতিয়ান ভূক্ত জমিতে। বেশির ভাগ তিন ফসলী নীচু ভুমির উপর। এক সময় এখানে ফলত ধান, পাট,কালাই,সয়াবিন, পিয়াজ, মরিচসহ নানাবিধ সব্জী। এখন শুধু ইট ভাটা আর ইট ভাটা।
এই ভাটার কালো ধোয়ায় পাশের জমি এবং বাড়িঘরের মানুষগুলো দিশেহরা। এতে কর্তৃপক্ষের নজরদারি নেই। আছে অর্থ বাণিজ্য। জানা গেছে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বড়জালিয়া এবং হিজলাগৌরব্দী ইউনিয়নের দায়িত্বে রয়েছেন বড়জালিয়া ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) রুহুল আমিন। তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান নতুন কর্ম¯’লে যোগদান করেছেনে।
এলাকা সম্পর্কে ধারনা নেই। তবে বড়জালিয়ায় যে, কত’টি ইটভাটা আছে তাও জানা নেই। ইট ভাটার রাজস্ব তার ভুমি অফিসে জমা আসেনি। এর মধ্যে হিজলাগৌরব্দী ইউনিয়নে যে ক’টি ইট ভাটা রয়েছে তা হয়তো সিকস্তি অথবা সরকারী বন্দবস্ত জমিতে। এ জমির খাজনা আদায় যোগ্য নয়। সেক্ষেত্রে তারা ভুমি অফিসে আসবেন কেন ? প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তর কি ভাবে এগুলো চালায় তা তার জানা নেই।
২০১৮-১৯ সালে হিজলা উপজেলার চরবাউশিয়া ঘোড়দৌড় মৌজার ১নং সিটের ১ নং খাস খতিয়ানভূক্ত জমিতে বাংলা চিমনি ব্যবহার করে একক ভাবে কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছেন এক প্রভাবশালী রাজনীতি বিদ। তার পাশেই সরকারের ১নং খাস খতিয়ানে ফসলী জমিতে গড়ে উঠছে আর একটি ইট ভাটা। এর প্রতিষ্ঠাতা স্বে”ছাসেবকলীগ দাবিদার ফিরোজ বেপারী। ঠিক উল্টোদিকে আর ্েকটি ভাটা গড়েছেন আ’লীগ দাবিদার পড়ান বেপারী। এরা প্রত্যেকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিন ফসলী জমিতে তৈরী করেছেন ইট ভাটা।
স্থানীয় প্রশাসন কিংবা জেলা প্রশাসন এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তর এদের অর্থের কাছে জিম্মি। তাদের ইটভাটা তৈরী ও ইট পোড়ানোর জন্য বৈধ কোন কাগজপত্র আছে কি না এমন প্রশ্নে নিরুত্তর প্রত্যেকে। তবে তাদের ইট পোড়ানো বা ইটভাটা প্র¯ুÍতের পক্ষে সমর্থন রয়েছে প্রশাসনের- এমনটাই দাবি তাদের। হিজলা উপজেলা ইট ভাটা সমিতির সভাপতি হিজলা কলেজের অধ্যাপক মিজানুর রহমান জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তাদের ব্যবসা চলছে। এ ধরনের ব্যবসা তো গোপনে করা যায় না। সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইয়ামিন মুন্সি জানান- তাদেও নিয়ে খোচাখুচি করছেন কেন? আমরাতো আপনাদের ম্যানেজ করছি। এই ম্যানেজ বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
মাত্র কয়েক গজের ভেতরে মধ্য বাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ভাটা সংলগ্ন কোস্টগার্ডের অফিস। হিজলা উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের ২০০ গজের মধ্যে অবৈধ ইট ভাটা। এ তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠান এমনকি সরকারি খাস খতিয়ানভূক্ত সরকারি জায়গায় ভাটা স্থাপনের পরেও প্রশাসন কিভাবে অনুমতি পেলেন তা জানা যায় নি। ইট ভাটা স্থাপন প্রসংগে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি নতুন হিজলায় যোগদান করেন। এর বেশি জানেন না।
হিজলা কোষ্টগার্ড’র সি সির সাথে আলাপকালে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। মধ্য বাউশিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি শহিদ শিকদার এবং বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সহ এশাধিক অভিভাবক জানন ইট ভাটার কুফল এবং তাদের শিশু শিক্ষার্থীদের ক্ষতির বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার মৌখিক ভাবে জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সর্বশেষ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে আলপ করলেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং হিতে হয়েছে বিপরীত।
সর্বশেষ ফোনে কথা হয় বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক আঃ হালিম এর সাথে। তিনি অবশ্য হিজলা উপজেলা অবৈধ বিভিন্ন ইট ভাটা বিষয়ে অবগত আছেন বলে জানান। তবে তিনি এর আগে এ চেয়ারে ছিলেন না। ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অপেক্ষায় থাকুন সময়মতো খেতে পাবেন।