১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

রাজাকারের তালিকা বিতর্ক:ব্যাপক যাচাই-বাছাইসহ সংশোধন হোক

আপডেট: ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯

দৈনিক যুগান্তর,সম্পাদকীয় :: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেষ পর্যন্ত সরকার রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটিসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে এবং একে রাজাকারের প্রথম তালিকা বলা হচ্ছে। দেরিতে হলেও এমন একটি তালিকা প্রকাশ ইতিবাচক।

তবে দুর্ভাগ্যের বিষয়, তালিকাটি বিতর্কমুক্ত করা যায়নি। এতে মুক্তিযোদ্ধা তো বটেই, খোদ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির নামও এসেছে। অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়ের এ পরিণতি কেন হল তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

প্রশ্ন হল, ভালোভাবে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করা হল না কেন? মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তালিকাটি সংশোধন করা হবে। সেক্ষেত্রে সব ত্রুটি-বিচ্যুতি মুক্ত করে রাজাকারের নির্ভুল তালিকা তৈরি করা হবে, এটাই কাম্য।

এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও সাধারণ মানুষের নানা ধরনের ক্ষতি করেছে। তারা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল।

আশার কথা, এরই মধ্যে তাদের অনেকের বিচার হয়েছে, অনেকের বিচার প্রক্রিয়াধীন এবং ভবিষ্যতে বিচার হওয়ার দ্বার উন্মোচিত রয়েছে। রাজাকারের তালিকাটি নির্ভুল হলে এক্ষেত্রে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

তাই আমরা আশা করব, প্রয়োজনে কিছুটা বেশি সময় নিয়ে হলেও নির্ভুল ও বিতর্কমুক্ত একটি তালিকা তৈরি করা হবে। বস্তুত এ ধরনের একটি স্পর্শকাতর তালিকা তৈরিতে যে যথাযথ যাচাই-বাছাই হওয়া প্রয়োজন, সদ্য প্রকাশ করা রাজাকারের তালিকার ত্রুটি-বিচ্যুতি তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের কথিত উপনির্বাচনের প্রার্থীদের গেজেটসংশ্লিষ্ট নথি এবং বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের মহাফেজখানায় থাকা রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটিসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের পুরনো নথি চাওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন কমিশনসহ সরকারের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উচিত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নথি পাঠানোর কাজটি সম্পন্ন করা। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক নতুন কারও নাম অন্তর্ভুক্ত না করে কেবল নথিতে পাওয়া নাম পাঠানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যথায় তালিকা নিয়ে আবারও হযবরল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। রাজাকারদের মধ্যে আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটিসহ নানা বাহিনীর স্বাধীনতাবিরোধীরা রয়েছে।

এক্ষেত্রে যেহেতু পাকিস্তানের দোসরদের একেক বাহিনীর একেক রকম ভূমিকা ছিল, সেহেতু আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটিসহ প্রতিটি নিপীড়ক বাহিনীর আলাদা আলাদা তালিকা হওয়া উচিত এবং বিশিষ্টজনরাও তেমন দাবিই করেছেন।

আমরা আশা করব, সরকার পর্যায়ক্রমে সেদিকেই অগ্রসর হবে এবং অপরাধের ধরনসহ কোন বাহিনীর কী ভূমিকা ছিল, সেটি স্পষ্ট করে স্বয়ংসম্পূর্ণ তালিকা প্রস্তুত করবে, যাতে করে মুক্তিযুদ্ধের নির্ভুল ইতিহাস তৈরি হয় এবং ভবিষ্যতে ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ না থাকে।

সরকারের বর্তমান মেয়াদের মাত্র এক বছর পার হতে চলেছে। কাজেই সরকারের হাতে যথেষ্ট সময় আছে যাচাই-বাছাই করে নির্ভুল একটি তালিকা তৈরি করার। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়।

স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকারের কাছে জাতির প্রত্যাশা, রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির নির্ভুল তালিকা তৈরির পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদেরও সঠিক তালিকা নিশ্চিত করা হবে।

118 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন