১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

বরিশালে সড়ক নির্মাণে নদীতে বাঁধ দিচ্ছেন এমপি পঙ্কজ!

আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০২০

সূত্র:দৈনিক যুগান্তর::  বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে সড়ক নির্মাণের জন্য নদীর মোহনায় বাঁধ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে।

পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র না পাওয়া সত্ত্বেও বাঁধ নির্মাণের কাজ চালানো হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এতে করে উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বরিশাল ৪ আসনের এমপি পঙ্কজ দেবনাথের দাবি স্থানীয়রাই সেখানে নদী ভাঙন রোধে কাজ করছেন।

অভিযোগ উঠেছে, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলীমাবাদ ইউনিয়নের চরমিঠুয়া গ্রামের ভূতের খালসংলগ্ন নদীতে এমপি পঙ্কজ দেবনাথের নির্দেশে বাঁধ দেয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন চরগোপালপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ছামসুল বারী মনির ও তার সহযোগীরা।

কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, তেঁতুলিয়া ও মাসকাটা নদীর মোহনায় বাঁধ দেয়া সম্পন্ন হলে বিপাকে পড়বে আশপাশের ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। কেননা এতে করে নদী ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা নদী গবেষকদের। ওই স্থানে সড়ক নির্মাণের জন্য এ বাঁধ দেয়া হচ্ছে। এতে ব্যক্তি বিশেষের লাভ হলেও ক্ষতি হবে পরিবেশের। চরম ঝুঁকিতে পড়বেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ।

অভিযোগের বিষয়ে চরগোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছামসুল বারী মনির বলেন, বাঁধ দেয়া হচ্ছে না। নদীর তীব্র ভাঙন থেকে পাড় রক্ষায় বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। এখান থেকে কোনো লঞ্চ বা ট্রলার চলাচল করে না। তবে আলউদ্দিনের খাল থেকে গদিরপাড় খেয়া চলাচল করে। সেটাকে আমরা সরিয়ে ইটভাটা এলাকায় দিয়ে দেব। এতে করে যাত্রীদের ৫ মিনিট বেশি সময় লাগলেও নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাবেন ইউনিয়নবাসী।

বরিশাল জনস্বার্থ রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব মানুওয়ারুল ইসলাম অলি বলেন, নদীতে বাঁধ দিলে আশপাশের খালগুলো মরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বর্তমান সরকার নদী-খাল বাঁচানোর জন্য যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা ব্যাহত হবে। খাল-নদী মৃতপ্রায় হয়ে গেলে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে। তিনি বলেন, এমপি পঙ্কজ দেবনাথের নির্দেশে তার লোকজন শুধু নদীতে বাঁধ দেয়ার কাজ করেন না, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজও করেন। এতে নদী ভাঙনের সমস্যা আরও তীব্র হচ্ছে।

নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলন বরিশাল কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, নদী কমিশনের যে বৈঠক হয়েছিল বরিশাল জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে। সেখানে বিষয়টি উত্থাপন হয়েছিল এবং তারা জানেন বলেও আমাদের জানিয়েছেন। আমরা মনে করি, নদী নিয়ে যে সরকারের কর্মতৎপরতা তাতে সরকারের একজন জনপ্রতিনিধি এ ধরনের কাজ করতে পারে- এ খবরে আমরা হতাশা প্রকাশ করছি। আমরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও নদী কমিশনারের কাছে সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার বিভাগীয় সমন্ব^য়কারী লিংকন বায়েন বলেন, সরকার যেখানে নিষেধ করেছে সেখানে একজন জনপ্রতিনিধি আইন ভঙ্গ করে এমন কাজ করবে সেটা কাম্য নয়।

পরিবেশ অধিদফতর বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক আবদুল হালিম জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য মেহেন্দিগঞ্জের সঙ্গে বরিশালের যোগাযোগ স্থাপনের জন্য নদীতে বাঁধ দিয়ে সড়ক নির্মাণের অনুমতি চেয়ে পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছেন। আমরা পরিবেশ ছাড়পত্র এবং এর অনুমতি দেইনি। পরে আমরা তা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। পরিবেশ অধিদফতর ও মন্ত্রণালয় এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবে স্থানীয় দফতরের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই ছাড়পত্র দেয়া হবে বলে মনে করি।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, বাঁধ দেয়ার বিষয়টি আমার নলেজে নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছাড়পত্র দেয়ার পর পরিবেশ অধিদফতর যেভাবে বলবে সেভাবে আমরা কাজ করব।

অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল ৪ আসনের এমপি পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, এখানে কোনো সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে না। মূলত নদী ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানকার ঝোঁপঝাড় কেটে স্থানীয়রা নদী ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দেড় বছর ধরে বলা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা পরিবেশ অধিদফতরের কাছে ছাড়পত্র চেয়েছি কিন্তু এখনও তা পাইনি।

129 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন