১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

হিজলার মেঘনায় অভায়াস্ত্রমে মাছ মারার হিড়িক॥ইলিশ রাজ্যে ওরা কারা?

আপডেট: এপ্রিল ১৫, ২০২০

হিজলা প্রতিনিধি:: দুই মাসের অভায়াস্ত্রম ঘোষান করা হয়েছে হিজলার মেঘনা নদীতে। এখন চলছে ঘোষনার ৩৫ তম দিন। অভায়াস্ত্রমের কার্যক্রম থাকলেও বাস্তবে মেঘনায় তা লক্ষণীয় নয়। এখানে এখন ইলিশ শিকারের ধুম পড়েছে। মনে হচ্ছে ইলিশ উৎসব। মাছঘাট খোল, বরফকল চলছে, চলছে জেলেদের মাছ শিকারের কার্যক্রম। মাছ শিকারীর মাছ কেনা-বেচার অনুকুল পরিবেশ এই ঘাট।

হিজলা উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন জনপদ হিজলা গৌরব্দী ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে রয়েছে বিশাল মেঘনা। হিজলার মানচিত্রে পুরো জায়গা দখল করে আছে মেঘনা নদী (অভায়াস্ত্রম)। এখানে গড়ে উঠছে টিনের চালা একটি জেনারেটর- মাছ ঘাট। প্রত্যেকটি মাছঘাট এখন সচল। কর্মব্যস্ত জেলে, ঘাট- সরকারসহ সকলে।

কেমন অভায়াস্ত্রম ঃ বিগত বছরগুলোতে হিজলার মৎস্য অভিযান ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের অভিযান চলছে ভিন্ন আঙ্গিকে। মাছ শিকার করছে জেলে-মাছ আহরণ করছে আড়তদার -বিতরণ হচ্ছে হিজলার বাহিরে। বরফকল খোলা-চোখে পড়ারমতো। বিগত দিনগুলোতে অভিযানের আগেই এ বরফকলগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিলগালা করা হলেও এবার তা হচ্ছে না।

জেলে নদীতে-মাছ শিকার করছে অহরহ। এখানে মৎস্য অফিস, নৌপুলিশ, কোষ্টগার্ডের ভুমিকা আসলে কী ? মৎস্য অফিসার থাকছেন করনার কারণে হোম কোয়ারেনটাইমে, নৌ পুলিশ ওসি থাকছেন কর্মক্ষেত্রের বাহিওে, কোষ্টগার্ড নিজেদেও মতো করে। এ যেন যেমন খুশি তেমন সাজো।
বিশাল মেঘনায় এরা কারা ? মাছঘাটের সরকার তৈয়ব আলী (মুন্সি) সরকার, আলাউদ্দিন সরকার, তাহের, জসিম, কবির, ইসমাইল, বসির, সেলিম, ইউসুফ, বাদলগাজি- প্রত্যেকে বসে আছেন মাছ ঘাটে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে চলছে মাছ কেনা-বেচা। মেঘনায় অভায়াস্ত্রম তা তাদের জানা নেই। জেলেদের জালে যেমন ধরা পড়ছে ইলিশ-তেমনি ঘাটেও জমছে কোটি কোটি টাকার মাছ।

ভালই চলছে মাছ বেচা-কেনা। তবে এ মাছ বরিশাল বা হিজলা কিংবা ঢাকার কোন মোকামে যাচ্ছে না। চলে যাচ্ছে শরিয়ত পুরের ঠান্ডা বাজার, খাজুরতলি, মিয়ার হাট, মান্দারতলি। স্থানটি হিজলা উপজেলা থেকে দুরে থাকায় নিবিগ্নে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে- হিজলার মাছ ঘাটের মালিকদের মাধ্যমে।
তোলা পার্টি ওরাই বা কারা ? উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অফিস, কোষ্টগার্ড, নৌ পুলিশ এতোগুলো দপ্তর থাকতেও তোলা পার্টি ওরা কারা। কারা টাকা তুলছে প্রশাসনের নামে ? কারা আটক করছে জেলে, জেলে নৌকা ? কী তাদের পরিচয়? অভায়াস্ত্রম মেঘনায়- অভিযান চলছে উপজেলা প্রশাসনের নাকেরডগায় একটি নদীতে। মুল মেঘনা ফাঁকা। সেখানেই তোলা পার্টির অভায়াস্ত্রম।

অন্তরভাম, সাতপারা, মাটিয়ালা, আবুপুর, অরাকুল, কুলারগাও, সাওড়া, বালুর মাঠ, মেঘাসহ বিভিন্ন অঞ্চল দাপিয়ে বেড়াছচ্ছে তোলা পার্টি। এরা কখনও কোষ্টগার্ডের মাঝি, কখনও মৎস্য অফিসের মাঝি, কখনও নৌ পুলিশের মাঝি, কেউবা থানা পুলিশের মাঝি আবার কেউবা দালাল প্রকৃতির লোক। একদিন এর যে কোন একটিতে অভিযানে গেলেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। তাই মাঝিদের ক্ষমতা বা দাপট একটু বেশী।
এতো টাকা যায় কই ? হিজলা উপজেলার মুল মেঘনা নদীতে হাজার হাজার জেলে।

এরা এখন সঙ্গবদ্ধ-একটি গ্রুপ, একই সুতোয় গাথা। প্রত্যেক জেলে প্রতি দৈনিক এক হাজার টাকা করে তুলছে একটি মহল। ঐ মহলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইদ্রিস দেওয়ান, সুফিয়ান সরদার। এই টাকা যাচ্ছে প্রশাসনের বিভিন্ন দরগায়। জেলে ইয়াছিন মাতুব্বর, সুজন,ইয়াছিন, দেলোয়ার হোসেন জানান- তারা প্রতিদিনের জন্য স্থানীয় সুফিয়ান সরদার, জিয়া উদ্দিন এবং ইদ্রিস দেয়ানের কাছে নৌকা প্রতি এক হাজার টাকা তুলে দেন। এ টাকা মৎস্য অফিস, নৌ পুলিশ, কোষ্টগার্ডকে দিতে হয়। কোন অভিযান বা নদীতে প্রশাসন এলে তাদের কাছে সংবাদ পৌছানোর জন্য মিডিয়াকে টাকা দিতে হচ্ছে। তবে ইদ্রিস দেওয়ান জানান তিনি কোন জেলের কাছ থেকে টাকা তুলছেন না।

কেউ বলে থাকলে তা তার ব্যাপার। দিন কয়েক আগে মুল মেঘনায় হিজলাগৌরদী এবং কালিগঞ্জের জেলেদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়, সেখানে একজন গুরুতর আহত হয়। ঐ বিষয় মিটমাট করার জন্য ১০ লক্ষ টাকা ব্যায় হয়।

সে বাবদ টাকা তুলে সমাধান করা হয় বলে দাবি ইদ্রিসের। সেখানে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহের আকন, হাবিব সরদার (মেম্বার), ইসমাইল সরদার, তৈয়ব মুন্সি (সরকার) ছিলেন।
রাতের আধারে নৌ পুলিশ ঘাটিতে এরা কারা ? রাতের আধারে নৌ পুলিশ ফাড়িতে ওরা কারা ? এতো রাতে কি ই বা ওদের কাজ ? আসলে ব্যপার কী ? প্রশাসন তাদের খোজ নিচ্ছেন না কেন ? ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত তখন সারে আটটা- ঐ রাতে হিজলা নৌ পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ (ওসি) বেল্লাল হিজলাগৌরব্দীর জাটকা মাছ ব্যবসায়ীদের নিয়ে গোপন বৈঠকে বসেন তার দরগায়। বিষয়টি রাতেই চাউর হয় হিজলায়। এতো রাতে-আসলে কি ? লেন এবং দেন! এ ছাড়া কী ? এরা প্রত্যেকে জাটকা ব্যবসায়ী-দেন এবং দরবার- নৌ পুলিশের সাথে।

এরাই ওসি বেলালের মালিক। সূত্র দাবি করছে ঐ রাতে ইলিশ ব্যবসায়ীদের গুরু তৈয়ব মুন্সির সেকেন্ড ইন কমান্ড আলাউদ্দিন সরকার, জাকির মাঝিদের নিয়ে গোপন বৈঠকে বসেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ করোনার মধ্যে প্রশানের এমন বৈঠকের অসল উদ্দেশ্য কী ? প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন কী ?
নৌ পুলিশ, কোষ্টগার্ড, মৎস্য দপ্তর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- আমাদের সামনে কোন অপরাধ সংগঠিত হলে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কেউ আমাদের নামে চাঁদা তুললে-তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থানেয়া হবে।
দায় এড়াতে পারে – প্রশাসন ! উপজেলা মৎস্য অফিস, নৌ পুলিশ ফাড়ি, কোষ্টগার্ড ফাড়ি সব গুলোই উপজেলা সদরে। মুলতপক্ষে মেঘনা ফাঁকা। জেলেদের উৎসব চলছে তো চলছে ই। এ দায় এড়াতে পারেনা অভায়াস্ত্রম সংশ্লিষ্টজন রা।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য হিজলা উপজেলা থেকে হিজলাগৌরব্দীর মেঘনার দুরত্ব প্রায় ২০ কিলো মিটার। অভিযান পরিচালনা করতে গেলে তাদের এ পথ অতিক্রম করে তার পরে জেলেদর আস্তানা। অন্ততঃপক্ষে অভিযান চলাকালীন উপজেলা প্রশাসন বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলাদা ভুমিকা রাখা প্রয়োজন। তিন চারটি দপ্তর বাই রোটেশন পদ্ধতিতে চালাতে পারে অভিযান।

যাতে হিজলাগৌরব্দীর অন্তরভাম এলাকায় ভাসমান কোষ্টগার্ডের পল্টুন বসানো যায়। বসানো হলে কিছুটা লাভ হতো সরকারের।

156 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন