৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

ব‌রিশালের মানুষ পানি বন্দি

আপডেট: আগস্ট ২৩, ২০২০

মো: নাসির উদ্দিন মল্লিক তার ফেইসবুক থেকে লেখা নেয়া:: এ বা‌রের প্রসংগ্র”ব‌রিশালের মানুষ পানি বন্দি” -আমি জন্মসূত্রে বরিশালের বাসিন্দা আর চাকুরির সুবাদে বাংলাদেশের উপকূল এলাকা ঘুরে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। গত কয়েক যুগে বরিশালের মানুষ এমন পানি বন্দি হয়েছে বলে আমি শুনিনি।

বরিশালের উপকূলীয় এলাকায় ৭০ বা ৯১ এর বন্যায় হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল।আর সিডর এবং আইলা আমার নিজের চোখে দেখা।

আমার দেখা ও তখনকার প্রতক্ষ্যদর্সীদের বর্ননায় যা শুনেছি,সে সকল প্রকৃতিক বন্যায় ১৫/২০ মিনিটে সাগরের পানিতে উপকূল এলাকাবাসীকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তখনও এ অঞ্চলের মানুষ এ ভাবে পানি বন্দি হয়নি। ভারতে ফারাক্কা বাঁধ হওয়ার পর বর্ষার দিনে বাংলাদেশের উত্তর আন্চলের মানুষ পানি বন্দি হলেও বরিশালে এ পানি মানুষের ঘরবাড়ীতে উঠতো না।

বরিশালের অসংখ্য খাল নদী দিয়ে এ পানিতে সাগরে নেমে যেত। প্রশ্ন হলো তা হলে এ বছর ব্যতিক্রম কেন? এর প্রধান কিছু কারন হলো –
১) বরিশালের সাগরের মোহনায় পলি জমে হাজার হাজার ছোট/ বড় চর জেগেছে। যার জন্য পানি নামতে পারছে না।
২) বরিশালের নদী গুলোও পলিথিন, প্লাস্টিক ও পলির কারনে নাব্যতা হারায়ে মৃত্যু খালে পরিনত হয়েছে।
৩) সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।

৪) নদী ও খাল অপরিকল্পিত ভাবে ভরাট করে অবৈধভাবে দখল করা।
৫) পানি উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘ মেয়াদি কার্যক্রম ও গভেষনা গ্রহন না করা। যেমন উপকূল এলাকায় ডুব চরগুলোতে ক্রোচবাঁধ তৈরী করে ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করা ও বড় বড় নদীর মোহনায় নিয়মিত ড্রেজিং করা। তা হলে সাগরের ভিতর আমরা আর একটাই বাংলাদেশ পেতে পারি।

পরিশেষে বলতে চাই আমাদের এ বরিশাল অঞ্চলকে রক্ষা করতে হলে সাধারণ মানুষকে যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সরকারের হাতে নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কার্যক্রম। আসুন আমরা সাধারন মানুষ সবাই মিলে অবৈধ দখলদারদের প্রতিহত করি,নিজেরা পলিথিন/প্লাস্টিকের বর্জ খাল নদীতে না ফেলে এ অঞ্চলের নদী ও খাল গুলো রক্ষা করি। তবেই বরিশালের মানুষ হয়তো বা এমনভাবে পানি বন্দি হবে না।

159 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন