শিক্ষার্থীদের তৈরি ‘মিরা’ গান গায়, কথা কয়

Saturday, October 5th, 2019

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক::  কথা বলা, বিভিন্ন জটিল প্রশ্নের উত্তর দেয়া, ভার্চুয়াল কাজে পারদর্শীসহ বিভিন্ন সুবিধাসংবলিত রোবট তৈরি করেছে সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ছয় শিক্ষার্থী।

প্রায় ৪৭ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি রোবটটির নাম দেয়া হয়েছে ‘মিরা’ (MIRAA)। এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হচ্ছে- ‘মোবাইল অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট রোবট ফর অ্যাডভান্সড অ্যাসিস্ট্যান্স’।

সিএসই বিভাগ থেকে দেয়া প্রকল্পের আওতায় রোবট মিরা’র উদ্ভাবক ওই বিভাগের ২০তম ব্যাচের ছয় শিক্ষার্থী। তাদের দলনেতা ছিলেন মোহাম্মদ রিফাত। অন্য সদস্যরা হলেন মাহতাবুর রহমান সবুজ, মাহমুদা আক্তার নিঝুম, মারুফ হোসেন, সাফিক হাসান ও শারমিন নাহার তোহফা।

সিএসই বিভাগের প্রভাষক রোয়িনা আফরোজ অ্যানির তত্ত্বাবধানে চলতি বছরের ২০ জুলাই থেকে রোবটটি তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রায় আড়াই মাসের চেষ্টায় ‘মানুষের আকৃতি’র রোবটটি তৈরি করা হয়।

রোবটটি তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামিং কোড ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন- জাভা, পাইথন, এআইএমএল, ডট কনফ প্রভৃতি। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নিরিবিলি ফাল্গুনী হাউজিংয়ের ল্যাবে রোবটটি তৈরির যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়। রোবটটি তৈরিতে অবদান রাখেন উজ্জ্বল সরকার ও মাসুদ রানা নামের দুই ব্যক্তি।

রোবটটির প্রধান বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গ্রুপের সদস্য মাহতাবুর রহমান সবুজ বলেন, ‘এটি মূলত পোর্টেবল এবং অটোমেটেড অর্থাৎ বাইরের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই পূর্ণ কাজ করতে সক্ষম। সফটওয়্যার চালুর পর এটি নিজে নিজেই সব কাজ করতে পারে। রোবটের আর্টিফিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং মেশিন লার্নিং ক্যাপাবিলিটি তাকে বাইরের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাজ করার সক্ষমতা দিয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর (সম্ভাব্য) রোবটটি ক্যাম্পাসে প্রদর্শন করা হবে।’

এই উদ্ভাবনের বিষয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. করম নেওয়াজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এই অভাবনীয় সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্ববোধ করছি। এটি একটি অত্যাধুনিক রিসার্চ ওয়ার্ক।’

গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম তৈরি এই রোবটটি মানুষের সঙ্গে কথা বলা, জটিল প্রশ্নের উত্তর দেয়াসহ বিভিন্ন ভার্চুয়াল কাজে সক্ষম। ভার্চুয়াল কাজের মধ্যে ইমেইল পাঠানো, পছন্দের গান বাজানো, নির্দিষ্ট কাজের কথা মনে করিয়ে দেয়া (রিমাইন্ডার), সময় ও তারিখ জানানো, ফেসবুকের নোটিফিকেশন চেক করা, আগাম পূর্বাভাস দেয়া ইত্যাদি কাজ করতে পারে

এছাড়াও হ্যান্ডশেক বা হাই ফাইভ করা, চা বা কফির কাপ ধরে রাখা, জোকস শোনানো, রক পেপার সিজার খেলা ইত্যাদি কাজে সক্ষম। এর বাইরেও রোবটটি যাদের সঙ্গে কথা বলবে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য মনে রাখতে পারবে এবং ওই তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে কথোপকথন করতে পারবে।