বরিশাল হিজলায় রাজনীতি না ভিক্ষা চুরি নীতি

Wednesday, April 29th, 2020

এক সময় বলা হোত রাজ নীতি মানে রাজার নীতি। এখন হয়েছে উল্টো কথা। রাজনীতি মানে ভিক্ষুকের ত্রান-চাল চুরির নীতি। এটা না করলে রাজনীতি পাকা হয় না।

গরীব ঠকানো যায় না। গরীব ঠকানোই এখন রাজনীতির মুল কাজ। এটা না হলে নেতার পেছনে লোক ঘোরানো যায় না। ভিক্ষার চাল চুরি করতে না পারলে নীত পাকা হয় না। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমন হয়ে দাড়িয়েছে। হিজলার বিয়াল্লিশ টন চোরাই চাল ধরা খেল বাউফল উপজেলায়। তবে এ চালের কোন মালিকানার হদিস পাচ্ছেছন না তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

৪২ টন চাল ! কম না। এতো চাল এক সাথে আটক ! ভাবা যায়- না। এ চালের মালিক নেই। আছে চাল, আছে মাঝি, আছে ট্রলার, আছে চালের হিসাব। নেই চাল চোর- চালের মালিক। বরিশাল জেলার উত্তরে সর্বশেষ সিমানা হিজলা উপজেলা। এর পরে শরিয়তপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, নেয়াখালী। ভুল পথে চালগুলো সেখানেও যেতে পারত। চালের চালবাজিতে ভুল হয়েগেছে।

মেঘনার জলের স্ত্রোতে দক্ষিনে ভাটিতে চালগুলো চরে আটকা পড়ল। আহারে !
ধরুন তো আপনি গরীব ভিক্ষুক একটি একশত টাকার নোট হারানো গেছে। আপনার রুহু (আত্মা) কেমন দুরু দুরু করে। কাপবে, ভয়ে থর থর করে-গরীবের স্ত্রী জানতে চাইবে স্বামী আপনার কি হয়েছে ?

একটু হলেও স্বামী বলবে আজকের বদলার ( জনের টাকা, কামলার টাকা) টাকাটা হারিয়ে ফেলেছি। মর্মাহত হবে গরীবের স্ত্রী, পুত্র, কন্য। সংসারে শুধুই চিন্তা আর চিন্তা। ১শত টাকার শোকে মুখের আহার বন্ধ। আগামী কাল মুখে আহার উঠবে না। এ চিন্তা চলতে থাকবে কয়েক মাস।
ভয়-ডর নেই চাল চোরদের মনে- অন্তরে। তাদের আত্মা বড়-পাষান। ৪২ টন চাল মামুলিক ব্যাপার। এ কিছুই না। যাক চাল-নিক -যার মনে কয়। আমার কী ? আম জনতার চাল -মাঝ খানে একটু চুরি ব্যবসা করতে গেছি। এতে দোষেরকী ? বাণিজ্য করতে গেলে তো লাভ লস আছে- একটু লস হলো। চোরতো ধরা খেল না-খাবেও না।

বা তাকে তো কেউ চোর হিসাবে চিনল না। গরীবেরচাল দুর্বাবনে। গরিবের খাবার নষ্ট হয়েছে আমার কী?
সব সরকার আমলে কিছু কিছু সিন্ডিকেট থাকে- এলাকা ভিত্তিক। হিজলার দশাও তাই। খাদ্য গোডাউনে রিতিমতো সিন্ডিকেট আছে থাকবে। এরা চাল চুরি করছে-কাচাঁ ধান গিলে খাচ্ছে। খয়রাতি কৃষক গোডাউন চিনবে কেন ? নেতার নির্দেশে পাতি নেতারা চলবে। এটাাই সাভাবিক। গোডাউন খালি হলে ইটও খেয়ে ফেলবে। এটাই সত্য- তাদের পেছনে নেতা আছে- আছে ক্ষমতা। এদের ঠেকায় কে ?

প্রশ্ন রয়েই গেছে এতোগুলো চাল হিজলার গোডাউন থেকে পালালো আর কেউ দেখল না- এ কেমন কথা। আসলে কি চালের হাত পা আছে ? মনে হয় চালে হাত পা আছে না হলে গোডাউনের বেড়া ভাংলনা- দুয়ার খোলা হলো না-গড়গরাইয়া ট্রলারে উঠল চাল- আর ট্রলার চেপে বাউফল গিয়ে ধরা খেল চোরাই চাল। হায়রে কপাল- পোড়া চাল ! হিজলায় ধরা খাইলে তো দুগা ভাজা খাইতাম-তাও দিলি না।

এবার বড় বড় কর্তাবাবুদের পকেট ভরার কাজ করলি! হায়ওে চাউল- এ কেমন আউল বাজালি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও জনমুখে জানা গেল চালের সাথে মেহেন্দিগঞ্জের দু’জন মাঝি ধরা খাইছে। একজন হিজলার খয়রাতি ছাও লেলিম নামের বালক মামলায় আটকাইছে। সাধু জনেরা কয়- তদন্ত পর্যন্তই খান্ত। বাকি জনেরা আন্ধারে তামশা দেহে। তাদের পায় কে ! সাধু জনদের ভাষায়- তদন্ত আইব আর যাইবো। চাউলও খাইবো।

আমরা দেখমু না। এর সাথে রাঘোব বোয়ালরা জড়িত। টিআর, কাবিখা, রেশনের চাল, আর বাবার চল্লিশার চাল যায় কই ? সবাই জানে স্বামীর নাম মুখে লয়না কেউ। এহন “খন্দ আইছে গন্ধ ছড়াইবো- রাজনীতি চলবো-চুরিও বড় বড় হইব”। থামাইতে কেউ পারবো না তারা রা জ নী তি করে———————- সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক, হিজলা, বরিশাল।০১৭১৭১৬৭৯২৮