১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

গোপালগঞ্জের এনামুল হক বরিশাল এলজিইডি অফিসের নিয়ন্ত্রক: কর্মকর্তা,কর্মচারী ও ঠিকাদারদের মধ্যে আতঙ্ক

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ: এলজিইডি বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তর এখন গোপালগঞ্জের এনামুল নিয়ন্ত্রণ করছেন, যাতে অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী ও ঠিকাদাররা আতঙ্কিত।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কর্মরত অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হক পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারীর দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হলো-তবে উল্লেখ্য,একজন উচ্চমান সহকারীর উক্ত শুন্য পদে বিপরীতে অন্য কাউকে পদান করলে এই আদেশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।

গত ২৪-০৭-২০২৫ ইং তারিখে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (প্রশাসন) মোঃ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত, স্মারক নং-৪৬.০০০০.০০১.১৯.০৭২.১৭.৬৯৮৩/১(৫),একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়।
এলজিইডি’র সূত্রে মতে জানা যায়, মোঃ এনামুল হক গোপালগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন মুন্সিগঞ্জ জেলায় কর্মরত ছিলেন, এ সুবাদে বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আল ইমরান এর সাথে পরিচয়। বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সিগঞ্জ জেলার উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তৎকালীন সময়ের সখ্যতা ও বিশ্বস্ততার সুবাদে মোঃ এনামুলক হককে বরিশাল জেলায় বদলি ও পরবর্তীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উচ্চমান সহকারী হিসাবে পদান করা হয়।
অভিযোগে প্রকাশ, মোঃ এনামুল হক বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আল ইমরানের ব্যক্তিগত ক্যাশিয়ার হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিত হয়েছেন। তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর পক্ষে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজের চুক্তিবদ্ধ ও ওয়ার্ক অর্ডার প্রদানে ১% কমিশন, বিল প্রদানের সময় ২% কমিশন এবং কাজের রিভাই করার জন্য মোটা অংকের অর্থ সংগ্রহ করে থাকেন। অযথাচিত চাপ প্রয়োগ করে ঠিকাদারদের কাছ থেকে এ অর্থ সংগ্রহ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিগত সময় বরিশাল জেলার কোন নির্বাহী প্রকৌশলী রিভাইস অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয় প্রেরণের ক্ষেত্রে কোন অর্থের দাবী না করলেও বর্তমানে তা হচ্ছে। এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মরত কর্মকর্তা -কর্মচারী ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গোপন ও ব্যক্তিগত তথ্যাদি সংগ্রহ করে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আল ইমরানকে অবহিত করেন। অভিযোগে আরও প্রকাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আল ইমরান পূর্বের উচ্চমান সহকারীকে উক্ত পথ থেকে সরিয়ে গোপালগঞ্জের মোঃ এনামুল হককে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধ ও আর্থিক সুবিধা নেয়ার জন্য তাকে উল্লিখিত পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রদানের জন্য প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখার মোঃ শফিকুল ইসলামকে ম্যানেজ করে এ অফিস আদেশটি জারি করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কর্মচারী ও ঠিকাদার বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং এ আদেশ বাতিল করে একজন সৎ, যোগ্য ও দক্ষ কর্মচারী নিয়োগের দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে মোঃ এনামুল হকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

45 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন