
আপডেট: জুন ১৭, ২০২৬

মোঃ মনির উল ইসলাম হাওলাদার ;:
হিজলায় প্রতারক এক শিক্ষকের সন্ধান মিলেছে। তিনি আর কেউ নন। উপজেলার জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জসিম।
প্রতারণাই তার একমাত্র সম্বল। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পুঁজি করে বাণিজ্য করে চলছেন তিন। হাতিয়ে নিয়েছেন অর্ধ কোটি টাকা। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের এস এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা বলে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অংকের টাকা। একজনকেও পরীক্ষা দেওয়াতে পারেননি জসিম ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জসিম। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার কথা বলে ছয় শিক্ষার্থীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন টাকা। পরীক্ষার দিন তিনি অনুপস্থিত। প্রবেশ পত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে শিক্ষার্থীগণ। এস এস সি পরীক্ষা দিতে পারেননি তারা। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে দফায় দফায় সালিশ বৈঠক হলেও ফেরত পাননি টাকা। একপর্যায় শিক্ষার্থীরা স্থানীয় টিপু হাওলাদার, হানিফ দেওয়ান, শাহজাহান রেজা দপ্তরীর মাধ্যমে শালিশ বৈঠক বসে।
ওই বৈঠকে শিক্ষকের ৫৪,৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। দিন তারিখ হলেও টাকা পাননি তারা। শিক্ষার্থীদের মতে শিক্ষক জসিম এখন পলাতক। বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানালেও ব্যবস্থা নেননি কর্তৃপক্ষ ।

শিক্ষার্থী শিহাব, শাহীন, সিয়াম, ঝুমুর, শাকিব, মেহেদী জানান, ২০২৫ সালে সংহতি, কাউরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করেন। পরবর্তীতে জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জসিম এর সাথে যোগাযোগ করেন। তার আশ্বাসে ফরম ফিলাপের টাকা তুলে দেন তার হাতে। ২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এলে তিনি ছাত্র ছাত্রীদের চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য আশ্বস্ত করেন। এক পর্যায়ে পরীক্ষার জন্য কাউড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় উপস্থিত হতে বলেন। এখান থেকেই তাদের প্রবেশপত্র প্রদান করবেন। সঠিক সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হলে শিক্ষককে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তারা। লজ্জা,অপমান, অপদস্ত হয়ে ফিরে আসেন তারা। এ নিয়ে তার বিদ্যালয়ে এবং বাড়িতে কয়েক দফা উপস্থিত হয়ে রভা দফা করতে পারেননি। অবশেষে স্থানীয় শালিদের মাধ্যমে বৈঠকে বসান। সেখানে তিনি টাকা দিতে সম্মত হলেও এখন টাকা দিচ্ছেন না। একের পর এক হামলা, মামলা সহ বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে শিক্ষক জসিম।
অফিস সহকারি জসীমউদ্দীন জানান, ইতোপূর্বে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি ছাড়া অন্য কোন শিক্ষক এ কাজ করতে পারেনা। এর আগে তিনি ৪৫ জনকে পরিক্ষা দিয়েছেন শিক্ষা বোর্ডে টাকা দিয়েছি। এবছরের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। পরীক্ষা দেওয়াতে পারেননি। তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। বোর্ডের কাকে টাকা দিয়েছেন? এমন প্রশ্নে নিরুত্তর জসিম।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা সুলতানা জানান, জসিম বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি। শিক্ষক নন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার খবর তার জানা নেই। তার বিদ্যালয়ে অনিয়মের কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অফিসিয়াল সকল কাজকর্ম সহকারী শিক্ষক নিপা আক্তার করছেন।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, তার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।