
আপডেট: October 18, 2026
আপডেট:
স্টাফ রিপোর্টারঃঃ বরিশাল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বদলি ঘিরে নতুন করে প্রশাসনিক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি বদলির আদেশ জারির পরও বরিশাল ছাড়তে নারাজ আল ইমরান—এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। একই সঙ্গে বরিশালে নিজের বর্তমান পদে বহাল থাকতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ে তদবির চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। অন্যদিকে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব বুঝে নিতে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাসেক খানের বরিশালে উপস্থিতির ঘটনায় দপ্তরটিতে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে মোহাম্মদ আল ইমরানকে বরিশাল থেকে ঢাকার সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। আদেশে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হওয়ার বিষয়টিও আদেশে উল্লেখ রয়েছে।
সরকারি আদেশে বদলির নির্দেশনা স্পষ্ট থাকলেও বাস্তবে দায়িত্ব হস্তান্তর ও নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বরিশালে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে আল ইমরান বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও তদবির করছেন। তবে এ তদবিরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো লিখিত নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা জরুরি।
বদলির আদেশ, তবু বরিশাল ছাড়তে অনীহা?
সরকারি দপ্তরে বদলি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। কর্তৃপক্ষের জারি করা আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অবমুক্তি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু আল ইমরানের বদলির পর দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা দপ্তরের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনা বা স্থগিত করাতে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন আল ইমরান। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন উঠেছে—বদলির আদেশ কার্যকর করতে কোনো প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে কি না, কিংবা আদেশটি স্থগিত বা সংশোধনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নতুন কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কি না। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
দায়িত্ব বুঝে নিতে বরিশালে রাসেক খান
এদিকে নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাসেক খান প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষরিত আদেশ নিয়ে বরিশাল এলজিইডি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাঁর উপস্থিতির পর নতুন দায়িত্ব গ্রহণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে কার্যালয়টিতে আলোচনা শুরু হয়।
তবে রাসেক খান আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কি না এবং আল ইমরানকে অবমুক্ত করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্য প্রয়োজন।
সরকারি আদেশের পরও দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে তা দাপ্তরিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বদলির আদেশের বাস্তবায়ন এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে আগেই বিতর্কে আল ইমরান
বরিশাল এলজিইডিতে দায়িত্ব পালনকালে মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি কাজের বিল ছাড়, কার্যাদেশ প্রদান, সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন ও জরিমানা মওকুফের ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবির অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ঠিকাদার।
অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিল ছাড়ের জন্য কমিশন এবং জরিমানা মওকুফের নামে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্প-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অনৈতিক আর্থিক সুবিধা চাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল জানা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না; সংশ্লিষ্ট নথি, সাক্ষ্য ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি—ফলাফল কোথায়?
এর আগে আল ইমরানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য পাওয়া যায়।
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে সরেজমিন তদন্ত করে মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কিন্তু তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কী উঠে এসেছে, অভিযোগের কোন কোন অংশ যাচাই করা হয়েছে এবং কী সুপারিশ করা হয়েছে—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
তদন্তের ফলাফল প্রকাশ এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
বদলি নিয়ে তদবিরের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী?
একদিকে বদলির আদেশ, অন্যদিকে বরিশালে বহাল থাকার জন্য তদবিরের অভিযোগ—এই দুইয়ের মধ্যে প্রকৃত প্রশাসনিক পরিস্থিতি পরিষ্কার করা এখন গুরুত্বপূর্ণ। বদলির আদেশ স্থগিত, সংশোধন বা বাতিল করা হয়ে থাকলে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় জারি করা আদেশ কীভাবে কার্যকর হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা করা উচিত।
বরিশাল এলজিইডির ঠিকাদারি কার্যক্রম, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনিক আদেশের যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি।
এখন দেখার বিষয়, আল ইমরানের বদলির আদেশ কত দ্রুত কার্যকর হয়, বরিশালে বহাল থাকতে তদবিরের অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী বলে এবং নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেক খানের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দপ্তরের প্রশাসনিক পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হয়।