প্রজ্ঞাপনে এক কথা,শেবাচিমে আরেক! ভিন্ন আসনের এমপিকে সভাপতি করায় প্রশ্ন

আপডেট: September 13, 2026

বিশেষ সংবাদদাতা ঃঃ সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কে হবেন—তা নির্ধারণ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন। সেখানে স্পষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ক্ষেত্রে সেই নির্দেশনার ব্যতিক্রম ঘটেছে বলে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালটি বরিশাল-৫ আসনে অবস্থিত হলেও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনকে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা কি শেবাচিমের ক্ষেত্রে কার্যকর নয়, নাকি বিশেষ কোনো আদেশে ভিন্ন আসনের এমপিকে সভাপতি করা হয়েছে?
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারি করা স্মারক নং ৪৫.১৫৫.১১৪.০০.০০.০০১.২০১৫.১৫৭-এর এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি হাসপাতালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি’ পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপ-সচিব মো. আবু রায়হান মির্জা স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মেডিকেল কলেজ/হাসপাতাল ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু সম্প্রতি পুনর্গঠিত শেবাচিম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি করা হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনকে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বরিশাল সদর তথা বরিশাল-৫ আসনের এলাকায় অবস্থিত। ওই আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যকে বাদ দিয়ে অন্য নির্বাচনী এলাকার এমপিকে কেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি করা হলো?
প্রজ্ঞাপনের বাইরে বিশেষ সিদ্ধান্ত?
বরিশাল সদরবাসীর প্রশ্ন, শেবাচিম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোনো বিশেষ আদেশ বা পৃথক সিদ্ধান্ত নিয়েছে? যদি নিয়ে থাকে, সেই আদেশের ভিত্তি কী এবং কেন সাধারণ প্রজ্ঞাপনের নিয়ম থেকে ব্যতিক্রম করা হলো—তা প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন।
তাদের আরও প্রশ্ন, দেশের অন্যান্য সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে যদি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যকে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি করার নিয়ম অনুসরণ করা হয়ে থাকে, তাহলে শেবাচিমের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণ কী?
বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে তারা বলছেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন ও বাস্তব সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য থাকলে এর প্রশাসনিক ভিত্তি জনগণের সামনে পরিষ্কার করা উচিত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে শেবাচিম হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নিয়োগে কোন বিধান বা আদেশ অনুসরণ করা হয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তরই এখন অপেক্ষার বিষয়।

39 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন