১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

শিরোনাম
বরিশাল শায়েস্তাবাদ চুড়ামন কমিউনিটি ক্লিনিকে থাকেনা ডাক্তার থাকেনা থোলা! দেখার কেউ নেই (পর্ব-১) ছাতা ধরে রাখলেন তরুণী রিকশাচালকের মাথায় হিজলার মেঘনায় ভাঙ্গন শুরু-ঝুকিতে পাঁচটি স্কুল-হুমকির মুখে উপজেলা প্রশাসনিক ভবণ সরকারের পূরণ হতে পারে মন্ত্রিসভার ‘শূন্যস্থান’ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৪৭ তম জন্মবার্ষীকিতে জীবন কর্মে পথচলা তথ্য হিজলা ডাক বিভাগের দুর্নীতির-অনিয়মের হালখাতা খুলছে ডাক বিভাগ – পর্ব ০২ আই ডি এল সি ফাইন্যাস সরকারি নির্দেশ অমান্য করে আদায়ের করে কিস্তি ,মাঠ কর্মীদের দেখে ব্যবসায়ীরা পালায়! (২য় পর্ব) বরিশালের  হিজলার মানচিত্রে শকুনের থাবা॥একক আসন মেহেন্দিগঞ্জ !(১ম পর্ব) বরিশাল হিজলায় রাজনীতি না ভিক্ষা চুরি নীতি

ছাতা ধরে রাখলেন তরুণী রিকশাচালকের মাথায়

আপডেট: জুলাই ১১, ২০২১

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল,বিশেষ সংবাদদাতা:: শুক্রবার, মধ্যদুপুর। কঠোর লকডাউনের নবম দিনে (৯ জুলাই) আনুমানিক ষাট বছরের এক রিকশাচালককে প্রখর রোদে এক তরুণীকে নিয়ে রাজধানীর পলাশী থেকে নীলক্ষেত মোড়ের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। রাস্তায় পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীদের সবার দৃষ্টি রিকশাচালক ও যাত্রীর দিকে। কারণ রিকশারোহী ওই তরুণী হুড উঠিয়ে বসে একটু সামনে ঝুঁকে হাতের ছাতাটি মেলে ধরেছেন বৃদ্ধ রিকশাচালকের মাথার ওপর।

হঠাৎ করে এমন দৃশ্য দেখে যে কারও মনে হবে যেন কোনো নাটকের শুটিং চলছে। পরিচালক দর্শক টানতে নাটকের গল্পে রিকশার যাত্রী তরুণীকে মানবিক চরিত্রের অধিকারী দেখাচ্ছেন। তরুণী ভ্যাপসা গরমে বৃদ্ধ রিকশাচালককে দরদর করে ঘামতে দেখে দয়াপরবশ হয়ে বৃদ্ধ রিকশাচালকের মাথায় ছাতা মেলে ধরেছেন। দৃশ্যধারণ শেষে পরিচালক কাট বললেই হয়তো শুটিং শেষ! কিন্তু এটা নাটকের শুটিং নয়, গত শুক্রবার মধ্যদুপুরে বাস্তবেই চোখে পড়ে এমন দৃশ্য।

কৌতূহলবশত এ প্রতিবেদক রিকশাচালক ও যাত্রীর অগোচরেই তাদের পিছু নেন। রিকশাটি নীলক্ষেত, নিউমার্কেট ও বিজিবি তিন নম্বর গেট হয়ে ছোট গলিপথে নতুন পল্টন লাইনের একটি বাসার সামনে এসে থামে। বকশিবাজার থেকে বাসার গেটে এসে রিকশা পৌঁছানোর আগেপর্যন্ত পুরো রাস্তায় ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে রক্ষা পেতে ওই তরুণী ছাতাটি সারাক্ষণ বৃদ্ধ রিকশাচালকের মাথার ওপর ধরে রাখেন।
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মিফতাহুল জান্নাত মিতু নামের ওই তরুণী জানান, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়ন করছেন। তিনি বকশিবাজারে টিউশনি করতে যান। গত দুদিন ধরে প্রচণ্ড গরমের কারণে তিনি সাথে করে ছাতা নিয়ে যান। রিকশায় উঠে বসার পর আর ছাতা প্রয়োজন হয় না।

মিতু বলেন, বৃহস্পতিবার যে রিকশাটিতে তিনি উঠেছিলেন ওই রিকশাচালক গরমে দরদর করে ঘামছিলেন আর বলছিলেন, অনেক রোদ, গরমে রিকশা টানতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তার সঙ্গে ছাতা থাকলেও লোকলজ্জার সংকোচে ছাতাটি ওই চালকের মাথায় ধরতে পারেননি। কিন্তু বাসায় আসার পর গরমে রিকশা টানতে কষ্ট হচ্ছে- এ কথাটি বারবার মনে পড়ে তাকে পীড়া দেয়। তিনি ভাবেন এ গরমে তার বাবা-মা কিংবা অন্য কোনো স্বজনও এমন কষ্ট পেতে পারতেন। এ কথা মনে করেই এ সময় তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন এরপর থেকে রোদ হোক বৃষ্টি হোক তিনি রিকশাচালকের মাথায় ছাতা ধরবেন।

বৃদ্ধ রিকশাচালক সুলতান মিয়া জানান, তিনি ৭০ টাকা ভাড়ায় সোয়ারীঘাট থেকে এ যাত্রীকে নিয়ে এসেছেন। রিকশা নিয়ে রওনা হওয়ার পর তিনি লক্ষ করেন তরুণীটি ছাতা খুলে তার মাথায় ধরে রেখেছেন। ইতস্ততবোধ করে নিষেধ করলেও তরুণী শোনেননি।

সুলতান মিয়া জানান, বয়স হয়েছে, আগের মতো রিকশা টানতে পারেন না। এ করোনকালে গরম ও বৃষ্টিতে মাস্ক পরে যাত্রীসহ রিকশা টানতে কষ্ট হয়। গরমের হাত থেকে বাঁচাতে তরুণী তার মাথায় ছাতা তুলে ধরায় খুব খুশি ও তার মেয়ের মতো মনে করে তরুণীকে মন থেকে দোয়া করেছেন বলে জানান।

196 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন