মন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে বরিশালের হিজলায় অবৈধ বালু উত্তোলন: ঈদের দিন সংঘর্ষ, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আপডেট: March 22, 2026

 

বিজয় নিউজ ডেস্ক ঃঃ:বরিশালের হিজলা উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ঈদের দিন দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো কোনো মামলা নেয়নি পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নয়াভাঙ্গনী নদী থেকে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এ নিয়ে বালু ব্যবসায়ী দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল।
শনিবার (ঈদের দিন) সকাল ১০টার দিকে নরসিংহপুর গ্রামের কাজী বাড়ি জামে মসজিদ মাঠে ঈদের নামাজ শেষে স্থানীয় মুসল্লিরা অবৈধভাবে স্থাপিত বালু উত্তোলনের পাইপ খুলে ফেলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ ঘটনায় আলতাফ হোসেন গাজী বাদী হয়ে হিজলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ, ঘটনার জেরে একইদিন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র দল মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরদারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় দুলাল সরদার বাড়িতে না থাকায় পরিবারের নারী সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং বসতঘর ভাঙচুর করে প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতি করা হয়।
অভিযোগে হামলার নেতৃত্বে পশ্চিম কোড়ালিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন খান, নরসিংহপুর গ্রামের রাজা ভূইয়া, মাউলতলা গ্রামের মিন্টু তালুকদার, মিজানুর রহমান ও সজল খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত রাজা ভূইয়া দাবি করেন, তার বালু উত্তোলনের পাইপ প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক খুলে নিয়ে যাচ্ছিল। এতে বাধা দিতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তিনিও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তবে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি

অবৈধ বালির ডিপো

এ বিষয়ে মোজাম্মেল খান বলেন, প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের নির্দেশে বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। কাজী বাড়ি জামে মসজিদে বালু সরবরাহের কথা থাকলেও তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। তিনি দাবি করেন, তাদের পাইপ খুলে নেয়ার সময় বাধা দিলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব দুলালের লোকজন হামলা চালায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। মন্ত্রীর কড়া নির্দেশ থাকার পরও বালু সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঈদের দিন স্থানীয়রা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে অবৈধ পাইপ অপসারণে নামেন, যা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে গড়ায়।
এ বিষয়ে জানতে হিজলা থানার এএসআই হুমায়ুনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে দুই দিন পেরিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

272 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন