১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

বরিশালের হিজলায় উন্মুক্ত মাদকের হাট আলীগঞ্জ—অসহায় সাধারণ মানুষ, বখে যাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থী

আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২৬

 

ফকির সাইফুল ইসলাম:

ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক এবং চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে হিজলার আলীগঞ্জ বাজার। রোখার বা দেখার যেন কেউ নেই। চারদিকে হাত বাড়ালেই মাদক, সঙ্গে চাঁদাবাজি। প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

রাজনীতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং দলীয় রং বদলেও এগিয়ে রয়েছে হিজলার আলীগঞ্জ বাজার ও লঞ্চঘাট এলাকা। সব সময়ই এরা ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সকাল, সন্ধ্যা কিংবা রাত—কোনো সময়েই এখানে ভিন্নতা নেই; সব সময় সচল মাদক ও চাঁদাবাজির হাট। এদের কাছে অসহায় সাধারণ মানুষ।

একটি নির্দিষ্ট দলের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা এসব বখাটে যুবকদের কাছে পুরো সমাজ জিম্মি হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জের নবনির্বাচিত এমপি (প্রতিমন্ত্রী) রাজিব আহসান এদের কর্মকাণ্ডে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। একের পর এক অভিযোগ পেয়ে তিনি মর্মাহত।

এদের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। শুধুমাত্র আলীগঞ্জ বাজারের পরিস্থিতিই সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সচেতন মহল। এখনই এদের প্রতিহত করতে না পারলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি এদের একটি নেটওয়ার্কের তথ্য হিজলা থানায় জমা পড়েছে। একইসঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র দাবি করছে, তালিকায় রয়েছেন—শাহজাহান রাড়ির পুত্র মনির হোসেন, জাকির রাড়ি, রশিদ আকনের পুত্র বাবুল আকন, আল-আমিন মাঝি, আমির সরদারের পুত্র মামুন সরদার এবং আনন্দ রাড়ির পুত্র ছত্তার রাড়ি প্রমুখ। বাবুল আকন স্থানীয় শরীফ হত্যা মামলার আসামি বলে জানা গেছে। তার সহযোগী হিসেবে আল-আমিন মাঝির নামও এসেছে।

এই গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫–২০ জন। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং লঞ্চঘাটে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, আলীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী বাপ্পির দোকান থেকে ৮ লাখ টাকা নিয়ে পালানোর অভিযোগও উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা সগির শিকদার জানান, ধুলখোলা একটি বিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ায় এখানে প্রশাসনের নজরদারি কম। তাছাড়া দলীয় একটি গ্রুপ উপজেলা পর্যায় থেকে তাদের সহযোগিতা দিচ্ছে, ফলে কেউই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

কেউ তাদের মাদকের ডিলার, আবার কেউ পাইকার হিসেবে চিহ্নিত করছেন। বয়সে কম হলেও তাদের প্রভাব অনেক বিস্তৃত। এখনই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

আলীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরে ফেরা মানুষদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি চলছে। তবে দলীয় প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও তাতে কেউ কর্ণপাত করেনি। তবে বাজারে হামলার পর নড়েচড়ে বসেছে বাজার কমিটি।

আরেক ব্যবসায়ী খবির বলেন, “বাজারে যে-ই চাঁদাবাজি করুক, আমরা ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করব। আমরা কোনো দল বুঝি না।”

ধুলখোলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক সরদার বলেন, “এরা দলীয় কর্মী। দুটি গ্রুপে বিভক্ত থাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপও প্রয়োজন।”

ধুলখোলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন বলেন, “সন্ত্রাসীরা কোনো দলের নয়। মাছ বাজারে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাই ব্যবসায়ীরা নিজেদের রক্ষায় সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছেন। আমিও চাই প্রশাসন ব্যবস্থা নিক।”

আলীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, “এই গ্রুপটির অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে তারা নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এখনই তাদের থামানো উচিত।”

পিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সন্তান হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা কঠিন। ফলে স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষার্থীরা জিম্মি অবস্থায় রয়েছে।

আলীগঞ্জ মাদ্রাসার শিক্ষকরা এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। এলাকাটি হিজলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত, মাত্র দুইশ গজ পরেই মেহেন্দিগঞ্জ। প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে এখানকার মানুষ নীরবে সবকিছু সহ্য করে যাচ্ছে।

ওসি হিজলা থানা, ঈদ পরবর্তী হিজলা উপজেলার ধুলখোর ইউনিয়নের আলীগঞ্জ বাজার এলাকার আইনসৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মন্তব্য কি ? এমন একটি খুদে বর্তা পাঠালে মন্তব্য কনেনি ওসি।

220 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন