১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্নের লক্ষে এলজিইডির সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়ার বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ

আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃঃ গত ২৪ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ গোলাম কিবরিয়া সাক্ষরিত ০৫.০০.০০০০.১৪৬.০০.০৪৫.১৭.১২৪ স্মারকে উল্লেখিত এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা৪৯ অনুযায়ী আব্দুর রশীদ মিয়া-কে তাঁর অভোগকৃত অবসর -উত্তর ছুটি ও তৎসংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্হগিত এবং অন্য যে কোন পেশা,ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান /সংগঠন-এর সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ হতে ০১(এক) বছর মেয়াদে স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়।

তিনি এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (মানবসম্পদ উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ)কর্মরত ছিলেন ও প্রধান প্রকৌশলী (চলতি) পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পর থেকে প্রকৌশলী সংশ্লিষ্ট একটি স্বার্থান্বেষী সংঘবদ্ধ চক্র মিথ্যা এবং কাল্পনিক তথ্য দিয়ে সরকারের নিতীনির্ধারকদের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারায় লিপ্ত হয়েছেন বলে এলজিইডির অনেক প্রকৌশলী অভিমত ব্যক্ত করেন।
এই বিষয়ে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়া জানান,
বহু আগের কিছু দৈনিক পত্রিকায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি অসাধু সংঘবদ্ধ চক্র আমাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রকাশিত করেছিলো।
ওই সংবাদগুলোর উদ্দেশ্য ছিল কিছু অসাধু মহলের সুপরিকল্পিত অপপ্রচার ।
অথচ বাস্তব অনুসন্ধানে এ ধরনের সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে অনেক ভিন্ন মত রয়েছে।
প্রকৌশলীদের মতে, অনেকে কল্পকাহিনী সাজিয়ে দায়িত্বশীলদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মানহানি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়া বলেন, হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে কিছু প্রকৌশলী ও সঙ্গবদ্ধ স্বার্থন্বেষী মহল মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি আরো আরো বলেন,
সংবাদপত্র সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
সেখানে ভিত্তিহীন, প্রমাণহীন ও কাল্পনিক তথ্য প্রচার কেবল একজন কর্মকর্তার মানহানিই ঘটায় না, বরং পত্রিকা জগতের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে,
এলজিইডির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সচেতন মহল এ ধরনের অপপ্রচারমূলক সংবাদকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারিনী মহলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন এবং সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুপরিল্পিত প্রয়াস বলে মনে করি। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কে নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকার রিপোর্ট প্রকাশে মন্ত্রণালয়ের নীতির নির্ধারণী মহল ক্ষুব্ধ বলে মন্ত্রণালয় সূত্র দাবি করেন।
উল্লেখ্য, আব্দুর রশীদ মিয়া ১৯৮৭ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব টেকনোলজি (বর্তমানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে পুরকৌশলে স্নাতক এবং ২০১৪ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
আব্দুর রশীদ মিয়া জাপানের বহুজাতিক কোম্পানি মিতসুবিশিতে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ কর্ম-কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল ব্যুরোর (এলজিইবি) সদর দপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন।
তিনি ২০০৬ সালে পদোন্নতি পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হন।
৩৭ বছরে কর্মজীবনে আব্দুর রশীদ মিয়া সহকারী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরে ২০১৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। পরবর্তীতে মানবসম্পদ, পরিবেশ ও জেন্ডার ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৩ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান।

82 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন