
আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০১৯
সদ্য ওএসডি হওয়া জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরের কোনো অপরাধ নেই বলে দাবি করেছেন জেলা প্রশাসকের গোপনীয় শাখার আলোচিত অফিস সহায়ক সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা।
আহমেদ কবীর ও সানজিদা ইয়াসমিন সাধনার আপত্তিকর একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
তবে হঠাৎ করে সোমবার সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বোরখা এবং হিজাব পরিবর্তন করে জেলা প্রশাসকের অফিসে হাজির হন তিনি।
সকালে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কর্মস্থলে আসার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বিতর্কিত ওই নারী। সে সময় ওই নারীর হাতে শারীরিক অসুস্থতার কারণে একটি ছুটির আবেদনপত্র দেখা যায়।
আবেদনে অফিস চলাকালে অসুস্থ বোধ করায় ২৭ আগস্ট থেকে ৩ দিনের ছুটির কথা উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসকের গোপনীয় শাখার অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ওই নারী সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা। ছুটির আবেদন দিতে এসে কিছুক্ষণ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন সানজিদা। পরে সহকর্মীরা তার চোখে মুখে পানি দিলে জ্ঞান ফিরে আসে।
ভিডিও ভাইরাল সম্পর্কে সানজিদা ইয়াসমীন সাধনা বলেন, তিনি কিছুই জানেন না, সাবেক জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের কোনো অপরাধ নেই দাবি করেন। ধিক্কার না দিয়ে বাঁচার পথ বের করার দাবি জানান সানজিদা।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কেউ কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই দ্রুত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ত্যাগ করেন ওই নারী।
অফিস সহায়কের ছুটির আবেদন পত্রের বিষয়টি নিশ্চিত করে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজীব কুমার সরকার বলেন, সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা নামের ওই অফিস সহায়কের ছুটির আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন জেলা প্রশাসক তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
বৃহস্পতিবার থেকে জামালপুরের ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে ওই নারী অফিস সহায়কের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে জামালপুরসহ সারা দেশে নিন্দার ঝড় উঠে।
পরে ডিসি আহমেদ কবীরকে ওএসডি করা হয়। এ ঘটনায় মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি তদন্ত সাপেক্ষে ওই অফিস সহায়কের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।