১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

বরিশালে লক্ষ টাকার ট্রলার ভাগাভাগি,থানার পুলিশ জানে না

আপডেট: ডিসেম্বর ২৮, ২০১৯

বিজয় নিউজ :: বরিশালের হিজলা উপজেলায় চোরাই ট্রলারের মালিক কে ? দফায় দফায় শালিস। হাজার হাজার টাকা জরিমানা। জরিমানার টাকা কার হাতে-ওরা কারা ?থানা পুলিশ বলছে কিছু জানি না। চোরের দাবি পুলিশ স্থানীয়, শালীস প্রভাবশালী মেম্বারসহ সকলে তার কাছে থেকে টাকা নিছে।

যে কারণে এখনও ট্রলার রয়েছে পরিত্যাক্ত। তবে থানা পুলিশ, স্থানীয় মেম্বার, চৌকিদার এমনকি ইউনিয়ন পরিষদও এখন কিছুই জানে না। ট্রলার এলো কোথা থেকে ? যাবে কোথায় ?

গাডি জাহাঙ্গীর (জাহাঙ্গীর খা, জাহাঙ্গীর এর ভায়ারা হাচেন শিকদার, কালাম চৌকিদার (জলিল চৌকিদার এর পুত্র), বা”চু হাওলাদার, বেল্লাল হাওলাদার, পরান বেপারী এবং মেম্বার। এরাই ঐ ট্রলারের নাটের গুরু।

ট্রলারের খোজ নিতে একদিন আসে থানা পুলিশের এস আই ছিদ্দিক, কিছু অর্থ বিনিময়ে চুপ। আর একদিন যায় স্থানীয় ক’জন সংবাদকর্মী, অর্থের বিনীময়ে মুখে কুলুপ। দফায় দফায় চলে লেন এবং দেন। ফাঁকে ট্রলার থেকে স্যালো ইঞ্জিন নেই ! জানা গেল- ঐ স্যালো ইঞ্জিন পুলিশ, সাংবাদিক, স্থানীয় উপরি পার্টির পেছনে ব্যায়। সর্ব শেষ কেউ জানে না- কেউ জানে না শুধু জানে বেল্লাল বেপারী এবং পরান বেপারী এবং স্থানীয় চৌকিদার ইউনুছ শিকদার।

সূত্র জানায় মা ইলিশ অভিযানের সময় হিজলা উপজেলা পরিষদের পাশের গ্রাম বাউশিয়া হাওলাদার বাড়ির পেছনে একটি ট্রলারের সন্ধান মিলে গাডি জাহাঙ্গীর খা’র কাছে। বেশ ক’জন গাডি জাহাঙ্গীরকে আটক করে তারা। বিনিময় হয় উপরি। দফায় দফায় চলে শালিস- একপর্যায় সেখান থেকে ট্রলার উধাও। একদিন আবার ঐ ট্রলারের সন্ধান মিলে রকমান মোল্লার বাড়ির পুকুরে। বাড়ির মহিলারা জানায় ঐ ট্রলার জলিল চৌকিদার এর পুত্র ডাকাত কালাম চৌকিদার এখানে রাখেন। তিনি মেম্বার এবং বা”চু হাওলাদার এর লোক।

পরবর্তীতে সেখানেও নেই ট্রলার। গেল কই ? কালাম প্রতিবেদককে জানান বা”চু হাওলাদার ঐ ট্রলার বেল্লাল হাওলার এবং পরান বেপারীকে দেওয়ার জন্য জানিয়েছেন। তাই তাদের দিয়েছেন। মেশিন কই- এমন প্রশ্নে জানান, মেশিন উপজেলা সদর টেকের বাজারের আলমগীর ঘরামী, রফিক প্যাদা, ফারুক বেপারী, থানা পুলিশের এস আই ছিদ্দিক সহ একটি গ্রুপ চোরদের পাকরাও করলে তাদের টাকা দিতে হয়। ঐ বাবদ মেম্বার মেশিনটি নিয়ে নিয়েছেন।

অবশেষে ট্রলারটি নিয়ে চলে বিভিন্ন মহলে দেন- দরবার। এক পর্যায় থানা পুলিশ, টেকের বাজারের একটি মহল, প্রভাবশালী এক মেম্বার বিষয়টি নিয়ে প্রথম দফায় দেন দরবার চলে। প্রথম ধাপে ঐ ট্রলার বাবদ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ঐ মহল। পরবর্তীতে একই ট্রলার চলে যায় বাউশিয়ার কালাম চৌকিদারের কাছে। আচমকা ঐ ট্রলার হাতবদল হয়ে চলে যায় বেল্লাল হাং এবং পরান বেপারীর দখলে। সেখানেও আবার চাঁদাবাজি। ট্রলার একটি, ধাপে ধাপে চোরাই ট্রলার বিক্রি। এ পর্বে ঐ ট্রলারের আবার দখল নিয়ে চলে দ্বন্ধ¦। আবার শালিস-জরিমানা ৫০ হাজার নেতৃত্বে হিজলা থানা পুলিশ। তবে সব চলে পর্দার অন্তরালে।

এ পর্বে মেম্বার, বা”চু হাং, পরান বেপারী, বেল্লাল হাং, কালাম চৌকিদার (কালাম হাওলাদার) মিলে আবার ট্রলার বিক্রি। হঠাৎ দেখাগেল ট্রলারের মেশিন নেই। চলে গেছে চাঁদার দায়ে। উধাও ট্রলারের মেশিন। তবে মেশিন কার হাতে সে বিষয়টি লোকচক্ষুর অন্তরালে। ট্রলারের মেশিন গিলে খেলেও দ্বায় এড়াতে পারেনি অভাগা ট্রলারটি। সে এখন সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে হিজলা থানার বাউশিয়া গ্রামের ৮নং ওয়ার্ড চৌকিদার ইউনুছ শিকদার এর বাড়ির সামনে ফিরোাজের ইট ভাটায়। চৌকিদার ইউনুছ জানান-ট্রলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানে না। প্রশ্ন হচ্ছে তিনি কেমন চৌকিদার ! তার বাড়ি চোরাই ট্রলার তিনি জানেন না। স্থানীয়দের দাবি স্থানীয় ইউনুছ চৌকিদারও একটি চোর এবং ডাকাত গ্রুপের নের্তৃত্ব দেন। যার প্রমান হিসাবে একাধিক ব্যাক্তি জানায় নদীতে বিষ প্রয়োগে তিন জেলেকে হাতে নাতে আটক করে স্থানীয় ব্যক্তিরা।

গচ্ছিত রাখেন ইউনুছ চৌকিদারের কাছে। বিষয়টি হিজলা থানা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নৌ পুলিশ সহ একাধিক ব্যক্তিকে অবগত করেন। অবশেষে নৌ পুলিশের উপস্থিতিতে এক জনকে আটক করে নৌপুলিশ, কৌশলে অর্থের বিনিময়ে দুজনকে ছাড়িয়ে দেন চৌকিদার ইউনুছ শিকদার।

এস আই ছিদ্দিক জানান, ট্রলারের সংবাদ পেয়েছি। সেখানে যাইনি-এটি ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বার জন্টুর দায়িত্বে থাকার কথা। উৎকোচের বিষয়টি সম্পুর্ন মিথ্যা। জনটু হাওলাদার জানান, আমি ট্রলার বিষয়ে কিছুই জানি না। বেল্লাল হাওলাদার জানায় এটি পাওয়া ট্রলার, মেম্বার এবং চেয়ারম্যান,স্থানীয় চৌকিদারকে অবহিত করেই তার কাছে রাখা হয়েছে। উপজেলা নৌ পুলিশের আই সি বেল্লাল হোসেন জানান-ট্রলার সম্পর্কে তাদের জানা আছে। তবে এটি চোরাই। মালিক নেই তাই হেফাজতে নেন নি।

কোষ্টগার্ড সিসি জানান- তিনি নতুন এসেছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। হাজার জনতার দাবি চোরাই ট্রলার এর মালিক কি চোরেরা নাকি প্রশাসন ? এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আম জনতার মাঝে।

161 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন