
আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০২০
মুলাদী প্রতিনিধি :: বরিশালের মুলাদীতে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আড়িয়ালখাঁ, জয়ন্তী ও নয়াভাঙ্গনী নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা।
মুলাদী উপজেলায় কোনো বালু মহাল না থাকলেও ব্যবসায়ীরা অবৈধ উপায়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় নদীভাঙন বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
উপজেলার আড়িয়ালখাঁ, জয়ন্তী ও নয়াভাঙ্গনী তিনটি বড় নদী। প্রতিবছরই বর্ষায় তিন নদীর ভাঙনে অনেক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন রোধে এ সব নদী থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হলেও উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মুলাদী উপজেলার পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার রায়নন্দপুর গ্রামের মৃত হাসু হাওলাদারের ছেলে আব্দুল হক হাওলাদার, আজিজ হাওলাদারের ছেলে স্বপন হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন ড্রেজার ব্যবসায়ী আড়িয়ালখাঁ নদীর আলীমাবাদ এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন।
এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মুলাদীর ড্রেজার ব্যবসায়ীরা। বালু ব্যবসায়ীরা জয়ন্তী নদীর চরমালিয়া, কৃষ্ণপুর, মৃধারহাট, চরবাটামারা এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। ওই ব্যবসায়ীরা আড়িয়ালখাঁ নদীর মিয়ারচর, সাহেবেরচর, বানীমর্দন, মনষাগঞ্জ, নন্দীরবাজার; নয়াভাঙ্গনী নদীর মোল্লারবাজার, খাসেরহাট, পৈক্ষা নমরহাট এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে নিচ্ছে।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীভাঙন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং উপজেলার রামচরবাজার, বাজারসংলগ্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঈদগাহ মাঠ, এবিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আলীমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাইক্লোন শেল্টারসহ অনেক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নিয়ে একশ্রেণির মানুষ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, অপরদিকে সাধারণ মানুষ তাদের ভিটেমাটি নিয়ে নদী ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে।
নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে আলীমাবাদ গ্রামের মনির হোসেন বরিশাল জেলা প্রশাসক ও মুলাদী থানা অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত আবেদন জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে ড্রেজার ব্যবসায়ী আব্দুল হক হাওলাদার জানান, সাধারণ মানুষের মাঝে পুকুর, ডোবা ভরাটের জন্য ভিটি বালুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই আমাদের বালু উত্তোলন করতে হচ্ছে।
মুলাদী থানার ওসি ফয়েজ উদ্দীন মৃধা ড্রেজার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, অবৈধ ড্রেজার বসানোর সংবাদ পেলেই তাদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।
মুলাদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুভ্রা দাস জানান, অত্র উপজেলায় কোনো বালু মহাল নেই। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।