৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

নৃত্যশিল্পীকে চোখ-মুখ বেঁধে কালি মাখিয়ে মারধর

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২০

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :: মামলা তুলে না নেয়ায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় নৃত্যশিল্পী সুমন আহমেদকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার রাতে উপজেলার জামতলা এলাকার নৃত্যশিল্পী সুমন আহমেদের কাহারতা বাসার সামনে থেকে তাকে তুলে বনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর চোখ-মুখ বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও তার মাথার চুল কেটে এবং মুখে কালি দিয়ে বিবর্ণ করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সুমন আহমেদ।

তিনি জানান, রাতে সখীপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই প্রশাসনসহ সবার কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছেন তিনি।

সুমন আহমেদ জানান, বুধবার রাতে সখীপুরের বাসার সামনে থেকে ৫-৬ জন চোখ-মুখ বাঁধা সন্ত্রাসীরা তাকে তুলে বনের ভেতের নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবারের মধ্যে মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। মামলা তুলতে রাজি না হওয়ায় কালা শরীফ, সুপ্তসহ ৫-৬ তাকে মারধর করে। তাদের মধ্যে একজন মাথায় প্রস্রাব করে দেয়।

অন্যজন কাঁচি ও ব্লেড দিয়ে তার মাথার চুল এলোমেলো করে কেটে ও তার মুখে কালি দিয়ে বিবর্ণ করে দেয়। পরে রাত ৩টার দিকে তাকে বাড়ির সামনে এসে ছেড়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

সুমন আহমেদ আরও বলেন, প্রতিশ্রুতি দিলেও পুলিশ আমাকে কোনো নিরাপত্তা দিতে পারেনি। আমাকে বারবার উলঙ্গ করে কালা শরীফ, সুপ্তসহ আসামিরা মারধর করছে। মারধরের পর কালা শরীফ, সুপ্তসহ অন্যরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়।

বিষয়টি পুলিশকে জানালেও পুলিশ কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আমি পুলিশ প্রশাসনসহ সবার কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাই। আমি নিরাপত্তা ও আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

সখীপুর থানার ওসি মো. আমির হোসেন জানান, ইতিমধ্যে দ্বিতীয়বার এ ঘটনার জন্য মামলা নেয়া হচ্ছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ গত ৬ আগস্ট বাড়িতে যাওয়ার সময় সখীপুর জামতলা এলাকায় তিন মোটরসাইকেল নিয়ে সুমন আহমেদের সামনে দাঁড়িয়ে গতিরোধ করে।

পরে প্রধান আসামি কালা শরীফের নির্দেশে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সুমন আহমেদকে মোটরসাইকেলে তুলে জামতলা লিচু বাগানে নিয়ে যায়।

সেখানে আসামিরা সুমন আহমেদকে কিল-ঘুষি, চড়থাপ্পড় ও লাথি মারে। এর পর জোরপূর্বক তার শরীরের সব কাপড় চোপড় খুলে নাচতে বলে। নাচতে রাজি না হওয়ায় সুমনকে মারধর করে।

সুমন আহমেদ আসামিদের কাছে ক্ষমা চাইলে তারা আরও বেধড়ক মারধর করতে থাকে। একসময় বাধ্য হয়ে তাদের কথামতো সুমন নাচতে শুরু করলে আসামিরা তার নাচের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

এর পর সুমন বাদী হয়ে ৮ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার দড়িয়াপুর গ্রামের জলিল তালুকদারের ছেলে কালা শরীফ (২৫), সখিপুর গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে প্রিন্স মাহমুদ (২০), কালীদাস গ্রামের মো. হাসিব মিয়া (১৯), সফি মিয়ার ছেলে সুপ্ত (১৬), মো. মামুন মিয়া (২২)।

মামলার পর প্রিন্স ও মামুন গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামিসহ অন্যান্য প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

149 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন